আশিষ সাহা জনি, মহম্মদপুর, মাগুরা ।।
মাগুরায় ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চাকরি দেয়ার কথা বলে চাকুরি প্রার্থীদের থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুলাই) শহরের মসলা গবেষণা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এন এস আই এর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ সন্মিলিত ভাবে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুসারে, এ চক্রের মূল হোতা কাজী মাহমুদুল হাসান নিজেকে ওরিয়েন্টাল ল্যাবরেটরিজ, এরগন ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেডের জোনাল ম্যানেজার হিসেবে দাবি করে মসলা গবেষণা এলাকায় অফিস তৈরি করে সম্প্রতি আয়ুরবেধিক ফাউন্ডেশনের হেলথ কেয়ার প্রকল্পে ২৫ জন নারী স্বাস্থ্য কর্মী ও ১০ জন থানা জেলা পর্যায়ের ম্যানেজার পদে চাকুরির জন্য স্থানিয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। চাকুরির বিজ্ঞপ্তি দেখে প্রার্থীরা তাদের জীবন বৃত্তান্ত জমা দেন। লিখিত পরিক্ষা শেষে বাছাইকৃতদের মঙ্গলবার মোখিক পরিক্ষা গ্রহণ শেষে তাদের থেকে আড়াই হাজার টাকা করে রেজিষ্টেশন বাবদ দাবী করে আদায় করতে থাকেন। ১৬ হাজার টাকা বেতনের চাকুরির আশায় প্রার্থীরা তা পরিশোধে সহজেই রাজি হন। কিন্তু ম্যানেজার পদে ১০ জন নেবার বিজ্ঞপ্তি দিলেও ওই পদে অনেক বেশি মানুষকে যোগ্য বলে গন্য করায় সন্দেহ দেখা দিলে এক প্রার্থী বিষয়টি পরিচিতদের জানান। এক পর্যায়ে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এন এস আই ও সদর থানা পুলিশ অফিসে হানা দিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করতে গেলে তাদের প্রতারনার বিষয়টি বেরিয়ে আসে।
এ চক্রের মুলহোতা কাজী মাহমুদুল হাসানের বাড়ি নড়াইল পৌরসভার রঘুনাথপুর গ্রামে। আর সহকারী মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়ি মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালি গ্রামে।
পুলিশ বলছে মাহমুদুল নামে ওই ব্যাক্তি নিজেকে ওরিয়েন্টাল ল্যাবরেটরিজ, এরগন ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেডের জোনাল ম্যানেজার হিসেবে দাবি করেছে। একইসাথে তার নিজ নামে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা ও বাংলাদেশ পরিবেশ পরিক্রমা মানবাধিকার সাংবাদিক পরিক্রমার দুটি পরিচয় পত্র পাওয়া গেছে। নিজেকে বাংলার মুখ নামে একটি পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি বলেও দাবি করেন তিনি। আসলে তিনি এ সকল পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে মঙ্গলবার সাক্ষাৎকার দিতে আসেন শহরের সাজিয়াড়া গ্রামের ইমান উদ্দীন। তিনি জানিয়েছেন, কদিন আগে বিজ্ঞপ্তি দেখে জীবন বৃত্তান্ত জমা দেই। আজ সাক্ষাৎকার শেষে থানা ম্যানেজার পদে আমাকে যোগ্য হিসেবে গন্য করা হয়। বেতন ১৬ হাজার টাকা। তবে চাকরি পেতে আড়াই হাজার টাকা জমা দিতে হবে জানায় মাহমুদুল নামে ওই ব্যাক্তি। একই ধরণের অভিজ্ঞতার কথা জানান পারনান্দুয়ালি গ্রামের আমজাদ হোসেন, আলোকদিয়ার সৈয়দ এনাম হোসেনসহ অনেকে। এই ভুক্তভোগীরা জানান, ইতিমধ্যে আড়াই হাজার টাকা জমা দিয়েছেন তারা।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, শহরের মসলা গবেষণা এলাকায় একমাস আগে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে অফিস করেছিল চক্রটি। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে বিভিন্ন পদে চাকরির জন্য পঞ্চাশ জনের বেশি আবেদন করেছিলেন। তার মধ্যে অনেকেই টাকা দিয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। তবে যে কোম্পানিতে চাকরি দেয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেই কোম্পানির ঢাকা অফিসে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছে এ ধরণের লোক নিয়োগের কোন বিজ্ঞপ্তি তারা দেন নি। এরা তাদের কোম্পানির সাথে সম্পৃক্ত কেউ না।
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন কোম্পানির বিপুল পরিমাণ ওষুধসহ নিয়োগ দেয়ার বিভিন্ন কাগজপত্র সহ চক্রটিকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারনার মামলার প্রস্তুতি চলছে।
You must be logged in to post a comment.