মাগুরার শ্রীপুরে গরুর খামারীরা চরম বিপাকে

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০, ২:০১ অপরাহ্ন

মহসিন মোল্যা,মাগুরা প্রতিনিধি।।

মাগুরার শ্রীপুরে মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে চরম বিপাকে পড়েছেন গরুর খামারীরা। উপজেলায় ছোট বড় মিলে প্রায় এক হাজার গরুর খামার আছে। এক বছর ধরে এ সব খামারে গরু পালন করছেন পবিত্র ঈদুল আযহায় বিক্রির জন্য। কিন্তু করোনার কারনে গরু বিক্রি করা নিয়ে সকল খামারী চরম দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় প্রতিটি গ্রামে ছোট, বড় এবং মাঝারি মিলে প্রায় ৪ শত গরুর খামারে প্রায় ৮ হাজার পশু আছে। এ সব খামারে বছরের পুরো সময় জুড়ে কম বেশি গরু পালন করলেও পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে খামারীরা বেশি গরু পালন করেন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। উপজেলা সদর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গরুর খামার তৈরী হয়েছে। প্রতিটি খামারে ২ থেকে ২৫ টি পর্যন্ত গরু পালন করা হয়েছে। গরু পালন অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় এ জনপদের মানুষ দিন দিন গরুর খামারে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন বলে অনেকে মনে করছেন।

উপজেলার টুপিপাড়া গ্রামে তিন সহোদর মমিন খোন্দকার, মনির খোন্দকার ও রবি খোন্দকার সকলেই পেশায় কৃষক। কিন্তু কৃষিকাজের পাশাপাশি তারা বাড়িতে উপর পরিকল্পিত ভাবে গরুর খামার গড়ে তুলেছেন। ২০১০ সালে তাদের খামারের যাত্রা। এ পর্যন্ত প্রতি ঈদে গরু বিক্রি করেছেন। তাদের খামারে বর্তমানে ১৩ টি গরু ঈদুল আযহায় বিক্রয় করা যাবে। যার এক একটির দাম ১ লাখ ৩০ হাজার হতে ৪ লক্ষ টাকার উপরে। সামনে পবিত্র ঈদুল আযহা তাই শেষ সময়ে এসে গরুকে খাওয়ানো গোসলসহ সব ধরনের কাজ চলছে খুব যত্নসহকারে। কিন্তু যখনই করোনার কথা মনে হচ্ছে তখনই যেন চরম হতাশা নেমে আসছে খামার মালিকদের মাঝে।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গরুর খামারে গিয়ে দেখা যায়, দায়ীত্বরত ২ ব্যক্তি গরু পরিচর্চায় বেশ ব্যস্ত। তারা দুইজনই ওই খামারে বেতনভুক্ত কর্মচারী। খামার মালিক মনির খোন্দকার সব কিছু দেখাশুনা করছেন। এ সময় কথা হয় খামার মালিকের সাথে।

গরুর খামারী মনির খোন্দকার জানান, এ বছর গরুর খামারে ব্যাপক ব্যয় হয়েছে। কারন গো-খাদ্যের দাম আকাশ ছোয়া। ১ বস্তা ভুষির দাম ২ হাজার টাকা, অনরুপ ভাবে বিচেলী, খোল, পালিস, কুড়া এমনকি গরুর চিকিৎসার খরচ ও বৃদ্ধি। এত ব্যয়ে গরু পালন করে যদি কাঙ্খিত দামে গরু বিক্রি না করতে পারি তাহলে কষ্টের শেষ থাকবেনা। করোনা ভাইরাসের কারনে কুরবানি ঈদের হাট কেমন হবে এখন সেই চিন্তায় আছি।

গরুর খামারী মমিন খোন্দকার জানান, খামারে এবারের ঈদে ১৩ টি গরু বিক্রয় করা যাবে, কুরবানি ঈদে সব গরু বিক্রি করতেই হবে। তা না হলে এই গরুতে লোকসান গুনতে হবে বলে তিনি মনে করছেন। ৩ ভাইয়ের মত উপজেলার অধিকাংশ গরুর খামারীরা মহা দুঃশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অন্য বছরের মত এ বছরও দেশের প্রতিটি স্থানে গরু হাট বসানোর দাবি করেছেন গরু খামারীরা।

গরু ব্যাবসায়ী খবির মুন্সি জানান, করোনা পরিস্থিতিতে আমরা ব্যাবসায়ীরা গরু ক্রয়ের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। যেখানে আমরা প্রতি বছর প্রায় ২০ গাড়ি গরু এলাকা থেকে সংগ্রহ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন গরুর হাটে নিয়ে যাইতাম। এ বছর বেশি হলে ও ৩-৪ গাড়ি গরু সংগ্রহ করতে পারি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জয়দেব কুমার সিংহ বলেন, গরু পালন লাভজনক হওয়ায় উপজেলাতে দিন দিন গরুর খামার বাড়ছে। করোনা কারনে গরু বিক্রি নিয়ে খামারীরা কিছুটা চিন্তায় আছেন। তবে আমি বিশ্বাস করি শেষ পর্যন্ত খামার মালিকরা তাদের পশু সঠিক দামেই বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছি।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ