সারমিন সাথী, (মোংলা) বাগেরহাট।।
আগামী বৃহস্পতিবার (৩ অষ্টোবর) মহাপঞ্চীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ৫ দিন ব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দৃর্গা পুজা। এবছর মোংলা উপজেলায় প্রায় ৩৬ টি পুজা মন্ডপ তৈরী করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ শেষ করেছেন এখানকার প্রতিমা শিল্পীরা। হাতের নিপুণ কারিগরিতে একেকটি প্রতিমা গড়ে তুলেছেন তারা। নরম কাদা-মাটি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিল তিল করে গড়ে তোলা দশভুজা দেবী দুর্গার প্রতিমায় ভরে উঠেছে মোংলার প্রতিটা মন্দির। নানান রঙ আর তুলির আঁচরে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবীর প্রতিচ্ছবি।
দেবী দূর্গাকে স্বাগত জানাতে প্রতিমা তৈরী ও মন্দির সাজসজ্জায় শিল্পীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চুক্তিতে এসে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মার আগমনে প্রতিটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে আনন্দের বন্যা বইছে। দেবীর আগমনে প্রতিমা শিল্পীরা এখন প্রতিমার গায়ের তুলির আঁচড় দিতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। ব্যস্ত হয়ে পড়েছে মায়ের ভক্তরাও। প্রতিমা গড়ার কাজ প্রায় শত ভাগ শেষ করেছেনে প্রতিমা শিল্পিরা। এরই মধ্যে পূজাকে সামনে রেখে নতুন নতুন দোকানে পরসা সাজিয়ে বসতে সুরু করেছে দোকানিরা। মোংলা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পদক উদয় সংকর বলেন,মোংলাতে প্রায় ৩৬ টি মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠ-সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে এ বছর দূর্গাপূজা আয়োজনের জন্য এরইমধ্যে পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান. সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসব উদযাপনে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে পূজামন্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করন ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সাথে দফায় দফায় মতবিনিময় করা হচ্ছে।
সুন্দর ও সুষ্ঠ ভাবে এবার পূজা উদযাপন হবে তিনি জানান। এদিকে মোংলা উপজেলায় পূজা মন্ডব গুলো তে নিরাপত্তা নিচ্চিত করতে প্রস্তুতি মূলক সভা ও করেছে মোংলা উপজেলা প্রশাসন। এদিকে মোংলার সোনাপট্রি পূজা উদযাপন কমিটি পক্ষ থেকে শারদীয়া দূর্গাৎসব ১৪২৬ উপলক্ষে শুভেচ্ছা যানিয়েছেন মোংলার সোনাপট্রি পূজা উদযাপন কমিটির উপদেষ্ঠা তপন দত্ত, আজাদ মোল্যা, সঞ্জয় চন্দ, শ্রীদাম দত্ত (ভূমিদাতা), লক্ষন দত্ত (নক্ক), নারায়ন চন্দ, আরবিন্দু চন্দ, শ্যামল দত্ত (গুরু), সঞ্জীব দাশ (ভাষান) উত্তম ঘোষ,অশ্বিনী কুমার মন্ডল, মানিক দত্ত, রনজিৎ ঘটক, নাড়ু গোপাল রায়, সরজিৎ পোদ্দার, কার্তিক দত্ত, প্রদিপ নাগ, রবীন্দ্রনাথ শিকদার, ইন্দ্রজিত ঘটক, প্রবীন নাগ, সুবাষ সেন, এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি বিপ্লব দত্ত, সহ-সভাপতি পবিত্র মজুমদার, লিটন ঘটক, মাধব চন্দ্র, সাধারণ সম্পাদক তরুন চন্দ, সহ-সাধারণ সম্পাদক দীপক চন্দ, কাজল দত্ত, তুষার দত্ত, কোষাধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ দত্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অন্ত রায়, সাদানন্দ অধিকারী, সুজন চন্দ, মিঠুন দত্ত, সাগর দত্ত, দপ্তর সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাশ, সহ-দপ্তর সম্পাদক সঞ্জয় দাস, কৃষ্ণ বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক গোপাল চন্দ, অমৃত কর্মকার, দূর্যায় রায়, রিপন স্বর্ণকার, প্রচার সম্পাদক সাগর দাস, রনি দত্ত, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষ্ণ চন্দ, চয়ন ব্যানার্জী, অনিক দত্ত, অক্ষয় ঘটক, অনিক কর্মকার, আপন দত্ত, গোপাল পোদ্দার, অমিত চন্দ, সুমিত চন্দ্র, অনুপ স্বর্ণকার, তপু দাস সাজ-সজ্জায় রাজু স্বর্ণকার, অভি রায়, সাগর চন্দ, সুজিত সেন, সদস্য হিসাবে থকছে পলাশ দত্ত, অনন্দ দত্ত, মিন্টু চন্দ, অনিতোষ ঘটক, সূর্য সিংহ, সুমন হালদার, মৃদুল মৃধা, ফেরদৌস প্রমুখ।
এক প্রস্নেরর জবাবে পূজা পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিপ্লব দত্ত বলেন আপনারা জানেন প্রতি বছর ‘মা‘ দূর্গার আগমন ঘটে, সেই উপলক্ষে মোংলা সোনাপট্রি পূজা আযোজক কমিটির পক্ষ থেকে এধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি। ধর্মবর্ন নির্বিশেষে সকলে আমাদের এ শারদীয় দূর্গাৎসবে আসে। সেই সাথে বাংঙ্গালী হিন্দু ধর্মের জীবনে দেবী দূর্গার আবির্ভার ঘটে মঙ্গলময় জননীরুপে। বছরের পর বছর দেবীর পূজায় উচ্চারিত হয় মঙ্গল কামনায় মন্ত্র। ধ্বনিত হয় সুখ, সমৃদ্ধি ও শক্তির জন্য প্রার্থনা। আমরা এ বছর ও নানা অনুষ্ঠানে দেবী দূর্গার কাছে সুখ, সান্তি, সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করবো।
You must be logged in to post a comment.