মংলা বন্দর কর্মচঞ্চল

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
শনিবার, ৯ মে, ২০২০, ৫:৫৬ অপরাহ্ন

শেখ সাইফুল ইসলাম কবির।।

করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও কর্মচঞ্চল রয়েছে বাগেরহাটের মংলায় সমুদ্রবন্দর। স্বাভাবিক রয়েছে বন্দরে জাহাজ আগমন-নির্গমনসহ পণ্য আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য।

তবে বাল্ব কার্গো (খোলা পণ্য) খালাস-বোঝাই কাজে তেমন কোনো জটিলতা না থাকলেও কিছুটা সংকটের মধ্যে রয়েছেন কনটেইনার পণ্য এবং রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা।

এ অবস্থার মধ্যেও চলতি অর্থবছরে বন্দরের আয় ৩৫০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছবে বলে আশাবাদী বন্দর কর্তৃপক্ষ। সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় এখনও স্বাভাবিক রয়েছে মোংলা বন্দর। এ বন্দরে এখন গড়ে প্রতিদিন ১০/১১টি জাহাজ অবস্থান করছে।

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী আমদানিকারক মো. কবির আহম্মেদ জানান, করোনার প্রভাব আরও দীর্ঘায়িত হলে তাদের ক্ষতির পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। আর কখনই এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন না তারা। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক ট্রাফিক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) এ পর্যন্ত মোংলা সমুদ্রবন্দরে ৯৯ লাখ ৬১ হাজার টন পণ্য আমাদনি-রফতানি বাণিজ্য হয়েছে।

এ পর্যন্ত বন্দরের আয় হয়েছে ২৮৩ কোটি টাকা। আর গত অর্থবছরে (২০১৮-২০১৯) আমদানি-রফতানির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১৩ লাখ টন পণ্য। রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি হয়েছিল ১২ হাজার ৬৯৫টি। গেল অর্থবছরে বন্দরের আয় হয়েছিল ৩২৯ কোটি টাকা।

মংলাবন্দর সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সুলতান আহম্মেদ বলেন, বন্দরে বাল্ক কার্গো (খোলা পণ্য) জাহাজের সংখ্যা ও পণ্য আমদানি বাড়লেও কনটেইনার জাহাজের সংখ্যা কমে গেছে। তাই কনটেইনারজাত পণ্য রফতানিতে বিড়ম্বনাসহ আন্তর্জাতিক বাজারেও দেশীয় পণ্যের শিপমেন্ট আগের চেয়ে হ্রাস পাচ্ছে।

বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের সভাপতি শেখ লিয়াকত হোসেন লিটন বলেন, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও সুবিধা পায়নি ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয় মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শেখ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রথম ৪ দিন কোনো রেন্ট নেই। সেখানে মংলাবন্দরে ৭ দিন কোনো রেন্ট নেই। ২০ ফুট ও ৪০ ফুট কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন রেন্ট ৬ ও ১২ ডলার । আর মোংলা বন্দরে প্রতিদিন রেন্ট ৩ ও ৬ ডলার। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনার জট দুটিই আছে।

সেখানে মংলাবন্দরে জাহাজ ও কনটেইনারের কোনো জট নেই, ৪০ ভাগ ফাঁকা রয়েছে। এ কারণে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনার স্টোরেন্ট ভাড়া মওকুফের বিষয়টি ভাবছেন না।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ