ভূক্তাবশেষ
মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম।।
—————————————————————-
অনাহারী ব্যগ্রস্বরে কহিল,
চাঁদটা কেন চৌচির দেখা যাচ্চে!
আমার ক্ষিদে পায় নাই বুঝি?
ওরা দেখছি চিংড়িকারী খাচ্ছে।
মায়ের চোখে জল লক্ষ্য করিয়া কহিল,
তুই কেন কাঁদছিলে মা?
কই নাতো, মা অশ্রুসংবরণ করে কহিল,
তুই কটা ভাত ফেলে ফেনটুকুন খা।
বালক পুনঃ কহিল, তুই কাঁদছিলে কেন মা?
চোখে ধোঁয়া লেগেছে তাই!
কাঁদছিলে তুই ক্ষুদার জ্বালায়,
মনে করিস আমি বুঝতে পারি নাই?
মা বালকটিকে পুকুরে স্নান করাইয়া
স্বযত্নে বুকে জড়াইয়া ঘরে ফিরিলো।
পৃথিবীর সকল ক্ষুধা যেন তাকে
আষ্ঠেপৃষ্টে ঘিরিয়া ধরিলো।
বিধাতার পরীক্ষার দায় হইতে
অব্যাহতি পাইনি বলে।
অভাব শুধু জীবনটাকে আমরণ
ভ্যাঙচাইয়া চলে।
ভূক্তাবশেষ ডেকে রাখলি যে? ক্ষিদে নেই বুঝি?
কই দেখি তোর হাঁড়ি?
সবুর কর সন্ধ্যায় তোর বাপজান,
খাওন নিয়ে ফিরা আইবো বাড়ি?
মায়ের বুকে রুগ্ন বালক চমকে উঠে বলে,
মা, গায়ে তোর অনেক জ্বর?
তাই? কাঠ আনতে রোদে ছিলাম,
পুরো দুপুর ভর!
গলা জড়াইয়া অশ্রুসিক্ত চাহনিতে কহিল,
‘মা- কেন তুই অমন রোদে গেলে?
তোর যদি কিছু হয়ে যায় মা?
আমায় যাস না একা ফেলে!
নারে বাপ তুই আমার রাজপুত্তুর,
এনে দেবো পক্ষীরাজ ঘোড়া,
পরীর মতো রাজকন্যা,
বিশ্ব জগত জোড়া।
You must be logged in to post a comment.