বেনাপোল কাস্টমসে বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য, না দিতে পারলে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৮, ৮:২৮ পূর্বাহ্ন
বেনাপোল কাস্টমসে বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য, না দিতে পারলে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা।

লোকমান হোসেন, বেনাপোল (যশোর)।।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস ঘুষ বানিজ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ল্যাগেজ প্রতি ১ থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত টাকা আদায় করছে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস অফিসাররা।কাস্টমস সুপার সালাউদ্দিনের কথা মতো সব কাজ চলছে বর্তমানে।এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়িরা প্রতিদিন ভারত থেকে ল্যাগেজের মাধ্যমে কাস্টমসের অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে চুক্তি করে বিভিন্ন ধরনের পন্য আনে। এসব পন্যর ভিতর শাড়ি থ্রিপিস, ওড়না ,সীট কাপড়, প্যান্ট ও শার্টের পিস, থান কাপড়, ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্য, কো- কারিজ জাতীয় পন্য।মাগুরা থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রী সালেহা বেগম বলেন আমাদের আগে ল্যাগেজ অনুযায়ী ৩ থেকে ৪ শত টাকা নিত কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।বর্তমানে তা বাড়িয়ে ১ থেকে ৫ হাজার টাকা নিচ্ছে।এমন ধরনের অভিযোগ ঢাকার ফারুক, আলমগীর ,রোকেয়া, সুমী শিউলী সহ অনেক পাসপোর্ট যাত্রীর।

যাত্রীরা বলে যারা এত টাকা দিতে পারবে না তাদের পন্য কাস্টমস আটক করে।এ সকল তথ্য যাচাই বাছাইয়ের জন্য শুভ নামে একজন বেনাপোলের সাধারন লোককে কাস্টমে পাঠালে তাকে মহব্বত ও আবু বক্কর নামে (এ আর ও ) ’রা বলে ল্যাগেজ বড় হলে ৫ হাজার ও ছোট হলে ১ হাজার টাকা লাগবে।উল্লেখ্য মহব্বত ও আবু বক্কারের ডিউটি আলাদা আলাদা সিফটে ছিল।বেনাপোল চেকপোষ্টের একটি সুত্র বলে, সম্প্রতি সাংবাদিকদের কাস্টমসের ভিতর তথ্য সংগ্রহ করতে প্রবেশ নিষেধ করে কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার জাকির হোসেন ঘুষের অংক বাড়িয়ে দিয়েছে। সাংবাদিকরা প্রবেশ করলে এত শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পন্য ও আসত না আবার ঘুষ ও বৃদ্ধি পেত না।কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার জাকির হোসেনের নিকট ঘুষের ব্যাপারে মেহেদী হাসান অভিযোগ করলে তিনি বলেন ভিডিও ফুটেজ দেখান।প্রমান ছাড়া কিছু করা যাবে না। মেহেদী বলে স্যার আপনি তো ঢুকতে দিচ্ছেন না তা কিভাবে ভিডি ও ফুটেজ নিব। তখন তিনি ফোন কেটে দেন।

এ ব্যাপারে জানতে গেলে  (এ আর ও) আবু বক্কার ও আমিনুর  বলেন আমরা ব্যাবসায়িদের কথা চিন্তা করে পন্য ছাড়ছি।তারা যে মালামাল ভারত থেকে আনে তা যদি ট্যাক্স দিয়ে নেওয়া হতো তা হলে ২০ হাজারের উপরে ট্যাক্স আসত।আমরা তো বিশ হাজার টাকা নিচ্ছি না। তিনি আরো বলেন ভারতীয় ব্যবসায়ী পাসপোর্ট যাত্রীদের আসা নিষেধ করেছে জাকির স্যার। তারা আসলে তাদের পন্য আমরা বাংলাদেশী পাসপোর্টযাত্রীদের পাসপোর্ট সো করে আনছি । সম্প্রতি কাস্টমস তল্লাশি কেন্দ্রে যেয়ে দেখা যায় একজন পাসপোর্ট যাত্রীর নিকট টাকা চাইলে সে কাস্টমসকে টাকা দেয়।এরপর ঐ টাকা কাস্টমসের একজন সিপাই হাতে ধরে,তারপরেও বেশী টাকা দাবি করে। পাসপোর্টযাত্রী দেহ তল্লাশি করার কথা বললে বিউটি খাতুন রাগ করে তার শরীরের কাপড় খুলে ফেলে বলে(চলবে)।  আমার কাছে আর কিছুই নাই।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ