আবু খানেম ।।
দেশে এখন একটি বিষয় নিয়ে বেশ শোরগোল শোনা যাচ্ছে। অতি সম্প্রতি বিটিআরসির নিয়ম অনুযায়ী দেশের সকল মোবাইলফোন অপারেটরের কল রেট পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান কলরেট টি হল সর্বোচ্চ দুই টাকা এবং সর্বনিম্ন 45 পয়সা। বিটিআরসির ভাষ্য সারা দেশে এমএনপি চালু করার উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে। এম এন পি হলো এমন একটি সুবিধা যাতে একজন গ্রাহক একটি মোবাইল নম্বর ভিন্ন ভিন্ন অপারেটরে ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন। যেমন ধরুন আপনার গ্রামীণফোনের একটি নম্বর রয়েছে কিন্তু আপনার গ্রামীনফোনের সার্ভিস ভাল লাগছে না সে ক্ষেত্রে আপনি আপনার নম্বরটি অপরিবর্তিত রেখে অন্য অপারেটর যেমন বাংলালিংক, এয়ারটেল, রবি, টেলিটক ইত্যাদিতে পরিবর্তিত হতে পারবেন। এতে আপনার মোবাইল নম্বরটি পরিবর্তিত হবে না।
একটা বিষয় জেনে রাখা দরকার যখন একজন গ্রাহক তার নিজ অপারেটরের মধ্যে কথা বলেন তখন অন্য কোন মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ এক্ষেত্রে অপারেটরকে অন্য কাউকে অর্থের ভাগ দিতে হয় না। ফলে অপারেটর যথেষ্ট পরিমাণ কম কল রেটে কথা বলার সুযোগ দিতে পারে। কিন্তু যখন এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে কথা বলা হয় তখন দ্বিতীয় আর একটা মাধ্যমের প্রয়োজন হয় যেটাকে আমরা বলি icx । এর পূর্ণরূপ interconnection exchange। এক্ষেত্রে আমার জানামতে interconnection exchange কোম্পানিকে মোবাইল ফোন অপারেটর কে প্রতি মিনিটে ৪২ পয়সা চার্জ গুনতে হয়। ফলে এক অপারেটর হতে অন্য অপারেটরে কল করতে গেলে অতিরিক্ত ৪৫ পয়সা গ্রাহককেই যোগান দিতে হয়। এখন যেহেতু on net /off net নাই সবই flat rate হয়ে গিয়েছে ফলে সর্বনিম্ন কলরেট ৪৫ পয়সা হলেও কোন অপারেটরই ৪৫ পয়সা কলরেট দিবে না কারণ ৪২ পয়সা icx কে দেওয়ার পর মাত্র ৩ পয়সা প্রতি মিনিটে লাভ করে কোম্পানি টিকে থাকতে পারবে না। তবে এক্ষেত্রে বড় কোম্পানিগুলোর কিছুটা সুবিধা আছে তাদের অধিকাংশ কল নিজ অপারেটরের মধ্যে হয়। ফলে তারা পুরো টাকাটা নিজেদের পকেট এ ঢুকাতে পারে। যদিও এই টাকার একটা অংশ বাংলাদেশ সরকারের কোষাগারে জমা পড়ে। এক্ষেত্রে btrc সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এমএনপি চালু করার জন্য ফ্ল্যাট রেট এর প্রয়োজন কেন? অননেটে কলরেট কম থাকবে অফনেটে কল রেট বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। যাঁর যখন যে অপারেটর ভালো লাগবে তিনি তখন সেই অপারেটর ব্যবহার করবেন। এখানে কোন সমস্যা দেখি না।
বিটিআরসির দায়িত্ব সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ কলরেট বেঁধে না দিয়ে গ্রাহক স্বার্থ বিবেচনায় এনে সর্বোচ্চ কলরেটের সীমা বেঁধে দেয়া উচিত বলে মনে করি। সর্বোচ্চ কলরেট ৫০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন কলরেট ১০ পয়সা এই সীমা বেঁধে দেওয়া হলে গ্রাহক বেশি উপকৃত হবে। তাছাড়া দেশের জনগণ অফনেটে কম পয়সায় কথা বলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমানে ঐ একই পরিমাণ কথা বলার জন্য অনেক বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। যদিও অপারেটররা যুক্তি দেখাচ্ছে অননেটে খরচ বাড়লেও অফনেটে কল রেট অনেক কমেছে। কিন্তু আমরা তো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অননেটেই কথা বলতে অভ্যস্ত। এই সুযোগ সুবিধাগুলো একজন মোটা মাথার ব্যক্তি ও বুঝতে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশের দায়িত্বশীলরা বোঝেন না। mnp এখন সময়ের দাবি। আশা করি এই অস্বাভাবিক কলরেট পরিবর্তিত হবে এবং দেশে খুব শীঘ্রই এমএনপিও চালু হবে। এন এন পির সুবিধা গ্রাহক গ্রহণ করবেন এবং অপারেটরগুলোর ভিতরে রেট কম রাখার প্রতিযোগিতা বাড়বে।
লেখক
সহকারী শিক্ষক (পদার্থবিজ্ঞান)
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুর।
You must be logged in to post a comment.