বায়জিদ হোসেন, বাগেরহাট।।
বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় জেলেদের অবাধ মৎস শিকার বেড়েই চলেছে।
শীত মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হতেই ভারতীয় এসব জেলেদের অনুপ্রবেশের কারণে অসহায় হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের জেলেরা। প্রায় প্রতিদিনই ভারতীয় জেলেরা এ দেশের জলসীমায় ফিশিং ট্রলার নিয়ে অনুপ্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন সংলগ্ন স্থানীয় জেলেরা অভিযোগ করে জানান, ভারতীয় জেলেদের উত্তপাতে দেশি আমাদের মাছ শিকার ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে দুই দিনের ব্যবধানে বঙ্গোপসাগরের ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি ট্রলারসহ ৩৮ জন ভারতীয় জেলেকে আটক করেছে নৌবাহিনী। পরে আটককৃত জেলেদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
মোংলা বাজারের স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী রবিউল, আল আমিন ও জসিম অভিযোগ করে জানান, ভারতীয় জেলেদের উত্তপাতে দেশি জেলেদের বর্তমান ইলিশ মৌসুমে মাছ শিকার ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তারা আরো বলেন, এক সময় ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় ঘেঁষে বা কিছুটা ভেতরে ঢুকে ইলিশ শিকার করত। শীতমৌসুম পুরোপুরি শুরু না হতেই বর্তমানে সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার কাছাকাছি এসে ফিশিং বোট নিয়ে অবাধে মাছ শিকার করছে ভারতীয় জেলেরা। অধিকাংশ সময়ই তারা গোপনে মাছ শিকার করে চলে যায়। বিদেশি জেলেরা উচ্চতাসম্পন্ন বাইনোকুলার দিয়ে ট্রলারে বসে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্পরতায় চোখ রাখে।
সুন্দরবন অঞ্চলে মত্স্যজীবীদের বৃহত্ সংগঠন ‘দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি কামালউদ্দিন আহম্মেদ অভিযোগ করে বলেন, প্রায় সারাবছরই ভারতীয় জেলেরা সাগরে টহলরত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ও সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশীয় জলসীমায় অনুপ্রবেশ করে মাছ শিকার করে থাকে। তবে বর্তমানে এসব ভারতীয় জেলেদের উত্পাত কয়েকগুণ বেড়েছে। এসব ভিনদেশি জেলেরা অনেক সময় দেশীয় জেলেদের মারধর করে মাছ লুট করেও নিয়ে নেয়। মত্স্যজীবী নেতা কামাল উদ্দিন আহম্মেদ আশঙ্কা করে আরো বলেন, আগামী ৯ অক্টোবর থেকে দেশে সমুদ্র ও নদী এলাকায় ইলিশ মাছ আহরণ সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকার সুযোগে ভারতীয় জেলেদের এ দেশে অনুপ্রবেশ আরো বেশি করে বাড়তে পারে।
এ প্রেক্ষিতে তিনি এ সময়ে সমুদ্রে আরো বেশি করে নৌবাহিনীর টহল বৃদ্ধির দাবি জানান। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা সদরদপ্তর) অপারেশন কর্মকর্তা লে. ইমতিয়াজ আলম জানান, ‘দেশীয় জেলেরা সমুদ্রের ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে মাছ ধরতে পারে।
আর ভারতীয় দেশীয় সমুদ্রসীমার প্রায় ১৫০ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে থাকে। তারা দ্রুতগামী নৌযান ও কারেন্টজালসহ জিপিএস নামক বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে। এসব জেলেদের ধরতে নৌবাহিনীর পাশাপাশি তারাও সাগরে অভিযান অব্যাহত রেখেছে’। মোংলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৩ জন ভারতীয় জেলেকে মামলা দিয়ে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবারও ১৫ জন জেলেকে বঙ্গোপসাগরে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে মাছ শিকারের অপরাধে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
সমুদ্রসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ পর্যন্ত আটক জেলেদের সবাই ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক মত্স্য অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর ২২ ধারায় মামলা দায়ের শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
You must be logged in to post a comment.