বায়জিদ হোসেন, বাগেরহাট প্রতিনিধি ।।
‘এই দক্ষিণ জনপদের শিক্ষানুরাগী ও অসহায় দুঃখী মানুষের হৃদয়ের মনি ছিলেন ফাদার মারিনো রিগন। তিনি শুধু একজন ধর্মযাজক ছিলেন না, তার অসাম্য অবদানের এ অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের আজও স্বপ্নের মতো মাঝরাতে ঘুম ভাঙ্গায়। ফাদার রিগন ১৯৫১ সালে বাংলাদেশে আসার পর মংলায় শেহালাবুনিয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের সর্ব বৃহত্তম বিদ্যাপিঠ সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয় ও এ এলাকার অসহায় মানুষের জন্য প্রথম অত্যাধুনিক বেসরকারি চিকিৎসালয় সেন্ট পলস হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। আজ গোটা মংলার মানুষের কাছে একটি পরিচিত নাম। ফাদার মারিনো রিগনের মস্তিস্কে ছিল রবীন্দ্রনাথ এবং অন্তরে ছিল লালনশাহ। মানুষ হওয়া এবং মানুষকে ভালোবাসার বাণী তিনি প্রচার করতেন। যাজকীয় জীবনের বাইরে বাংলাদেশে তিনি ব্যস্ত ছিলেন যাত্রা, কীর্তন, নগর কীর্তন, পালাগান, কবিগানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড নিয়ে। ধর্মজীবন এবং শিল্প জীবনকে ফাদার রিগন পৃথকভাবে দেখতেন না।’
মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, অনুবাদক, কবি, সাহিত্যিক ও শিক্ষানুরাগী ফাদার মারিনো রিগনের ৯৫তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে মংলা সরকারি কলেজ, সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয় ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে কলেজ চত্বরে স্মরণসভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এ কথা বলেন।
খৃস্টীয় ধর্মযাজক মুক্তিযোদ্ধা ফাদার মারিনো রিগানের নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে ৯৫তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে ৫ই ফেব্রুয়ারী’১৯ মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ মংলার ক্যাথলিক গীর্জা সংলগ্ন রিগনের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা র্যালি সহকারে পৌর শহরের প্রধার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মংলা সরকারি কলেজে প্রাঙ্গণে স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক।
অন্যদৃষ্টি/এলিস হক
You must be logged in to post a comment.