বায়জিদ হোসেন, বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
নানা আয়োজনের মধ্যো দিয়ে বাংলার অকৃতিম বন্ধু ফাদার মারিনো রিগনের ৯৫তম জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে। এসকল অনুষ্ঠান জুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে শেহলাবুনিয়ার ক্যাথলিক গির্জা প্রাঙ্গনে রিগনের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তার নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সংগঠন।
পরে সাড়ে ৮টার দিকে সেখান থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রাটি রিগনের স্মৃতি বিজড়িত শেহলাবুনিয়া-বটতলা প্রদক্ষিণ করে মোংলা সরকারি কলেজে গিয়ে শেষ হয়। মোংলা সরকারি কলেজ, সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয় ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে সরকারি কলেজ চত্বরে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। অনুষ্ঠানের শেষভাগে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১৯২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ফাদার মারিনো রিগন ইতালির ভেনেতো প্রদেশের ভিসেঞ্জার ভিল্লাভেরলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২৮ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারে ১৯৫৩ সালের ৭ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি গোপালগঞ্জের বানিয়ারচর গির্জায় ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা, অসুস্থ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও সেবা প্রদানের পাশাপশি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেশ স্বাধীনের পর তিনি মোংলার শেলাবুনিয়ায় স্থায়ী আবাস গড়ে তোলেন।
ফাদার রিগন মোংলায় থাকা অবস্তায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চলাচরের শক্তি হারিয়ে ফেললে ২০১৪ সালে তার ভাই এসে তাকে ইতালিতে নিয়ে যান। তবে ইতালিতে মৃত্যু হলে তার লাশ বাগেরহাটের মোংলার সেন্ট পলস গীর্জার পাশে সমাহিত করতে হবে এই শর্তে তিনি ভাইয়ের সঙ্গে যেতে রাজি হয়েছিলেন।
২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ইতালির ভিচেঞ্চায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ফাদার রিগন। মৃত্যুর এক বছর পর শেষ ইচ্ছানুযায়ী তার মরাদেহ ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর ইতালি থেকে এনে মোংলার শেহলাবুনিয়াতেই সমাহিত করা হয়।
You must be logged in to post a comment.