মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ।।
ইদানীং দেখা যাচ্ছে অধ্যক্ষ পদটি যেন মামার হাতের মুয়া।কিন্ডারগার্টেন (প্লে-৫ম) প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা নিজেদের পদবী অধ্যক্ষ হিসেবে জাহির করছে। যার ফলে সরকারী কিংবা বেসরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়গণ প্রায় বিপাকে পরছেন।
অধ্যক্ষের ক্যাটাগরি যদি ৩টি ধরি যেমন ঃ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ A ক্যাটাগরি ও ইন্টারমিডিয়েট কলেজের অধ্যক্ষ B ক্যাটাগরি।বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও স্কুল এন্ড কলেজের( নন-এমপিও) অধ্যক্ষ C ক্যাটাগরি।
তাহলে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের অধ্যক্ষদের আমরা কোন ক্যাটাগরিতে ধরতে পারি?
সামাজিক অনুষ্ঠান,প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের সভা সমাবেশে অবস্থানের সময় অধ্যক্ষদের পরের স্থানে প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষর করে থাকেন। অথবা অতিথি হলেও স্তর বিন্যাস অনুসারে বক্তব্য বা মুল্যায়িত হয়ে থাকে।
এমতাবস্থায়, প্রশ্ন জাগে মনে যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষ্ক নাকি কিন্ডারগার্টেন অধ্যক্ষ সিনিয়র। সহজ উত্তর অধ্যক্ষ। তাহলে কিভাবে সম্ভব?প্লে-৫ম বনাম ৬ষ্ঠ -১০ম প্রধান।
এবার আসি প্রাথমিক বিদ্যালয় (শিশু-৫ম) প্রধান শিক্ষক বনাম সমপর্যায় প্রতিষ্ঠান কিন্ডারগার্ডেন (প্লে-৫ম) একই সমস্যা বিরাজমান।
আরও আছে উপাধ্যক্ষ বা ভাইস প্রিন্সিপাল পদবী যা কেজি স্কুলে বিদ্যমান।
কিছু প্রতিষ্ঠানের ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত অনুমোদন যা ভবিষ্যতে কলেজ উন্নীত হবে বিধায় এখন থেকেই রেডিমেড অধ্যক্ষ হিসেবে নাম পদবী ব্যবহার শুরু করছেন।
কেউ কেউ আছেন যাদের চাকুরী, অভিজ্ঞতা,ইনডেক্স, নিবন্ধন কিছুই নাই। ডিগ্রী কিংবা এইচএসসি পাস করে নিজে স্কুল খুলে অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষ্ক হচ্ছেন।।
ভুয়া ডাক্তার সনাক্তকরণ ও সাইনবোর্ড অপব্যবহার রোধে যেরকম অভিযান পরিচালিত হয়,শিক্ষা ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ /প্রধানশিক্ষক পদবী ব্যবহারে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যাচাইয়ের জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক সহ সর্বস্তর জনগণ উপকৃত হবে।
যদিও সরকারী কোন স্পষ্ট নিয়ম নেই তবুও হারহামেশায় ব্যবহৃত হচ্ছে আনাচে কানাচে অধ্যক্ষ ও প্রধানশিক্ষক পদবী। আশা করি,এ বিষয় সুষ্পষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে পদবী নিরসনে কার্যকরী ভুমিকা পালন করবেন।
লেখক :
মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম,
প্রভাষক(ইংরেজি)
সমষপুর কলেজ, মুন্সীগঞ্জ।
You must be logged in to post a comment.