পুরুষ নির্যাতনের প্রতিবাদ না করে বা প্রতিকারের পথ না খুঁজে ‘পুরুষত্ব’ টিকিয়ে রাখার জন্য পুরুষরা নিরবে নির্যাতন সহ্য করে বলে মন্তব্য করেছেন পুরুষ অধিকার সংগঠনের মিডিয়া মুখপাত্র সাংবাদিক নজরুল ইসলাম দয়া।
বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) রাতে ব্যক্তিগত ফেসবুকে একটি অভিযোগের বিবরণ তুলে ধরে তিনি এ কথা লিখেছেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
কি লজ্জা! স্ত্রী তোমাকে নির্যাতন করে? লোকে শুনলে বলবে কি! লোকে বলবে তোমার পুরুষত্ব নেই! এই কথা প্রকাশ কইরো না! চুপচাপ থাকো!
পুরুষ নির্যাতন
পুরুষ নির্যাতনের প্রতিবাদ না করে বা প্রতিকারের পথ না খুঁজে ‘পুরুষত্ব’ টিকিয়ে রাখার জন্য নারীর নির্যাতন নিরবে সহ্য করছে পুরুষগুলো। পুরুষেরা কথায় কথায় প্রকাশ্যে কান্না করেনা। কিন্তু নারীরা সেকেন্ডের মধ্যে চোখের পানিতে হাবুডুবু খায়! পুরুষের চোখে পানি নেই বলে, প্রকাশ করেনা বলে, প্রতিবাদ করেনা বলে, লজ্জায় পড়বে বলে, প্রতিকার নেই বলে, পুরুষের অধিকার নেই বলে- আজ নারী আইনের অপব্যবহারে দেশে প্রতিদিনই পুরুষ নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।
অসহায় শিক্ষকের গল্প বলি। পুরুষ অধিকার সংগঠনে একটি অভিযোগ এসেছে। অভিযোগ সুত্রে বিস্তারিত তুলে ধরছি।
রাজশাহী মহানগরের এক শিক্ষক (সনাতন ধর্মের) পারিবারিক পছন্দে বিয়ে করেছেন নওগাঁ জেলায়। রাজশাহীতে বসবাস করলেও চাকুরিরত প্রতিষ্ঠান শ্বশুর বাড়ি এলাকায় হওয়ায় প্রতিদিন আসা-যাওয়া করতো। বিয়ের পর সংসার ভালোই চলছিল। ওই শিক্ষক নারীদের সব আন্দোলনের সমর্থন করতেন। নারী আইনের পক্ষে থেকেছেন। সম্প্রতি পরিবারের সবার সাথে স্ত্রীর আচরণে পরিবর্তন আসে। সংসারে অশান্তি শুরু হয়। কারণ ছিল, স্ত্রী সবসময় মোবাইলে ব্যস্ত। একাধিক পুরুষের সাথে কথা বলতো। পরিবারের সবাই এতে বিরক্ত ছিল। বিষয়টি ধরে ফেলে ওই শিক্ষক। কর্মরত স্কুল থেকে বাসায় ফিরে রাতের বেলায় স্ত্রী’কে ওই শিক্ষক বলল, ‘আমার এবং পরিবারের সম্মান যাবে এমন কাজ কইরোনা। খুব প্রয়োজন হলে মোবাইল ব্যবহার করো। সংসারে মনোযোগী হও। তুমি সংশোধন না হলে তোমার পরিবারকে বিষয়টি জানাবো।
স্ত্রী বলল, আমার আত্মীয়দের সাথে কথা বলেছি। তোমার সম্মানহানি হবে, এমন কাজ করব না। তবুও সংশোধন হয়নি স্ত্রী। স্বামী না থাকার সুযোগে প্রতিদিনই মোবাইলে কথা বলছিল সেই নারী। একদিন স্বামী (শিক্ষক) সরাসরি বিষয়টি ধরে ফেলে স্ত্রীর মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। সেসময় স্বামীকে মারধর করে স্ত্রী। ঘটনাটি ঘরের বাইরে প্রকাশ হয়নি। (কারণ, সম্মান আর পুরুষত্ব)। এভাবেই প্রতিদিন সংসারে অশান্তি চলছিল। স্ত্রীর পরিবারের লোকজনকেও দফায় দফায় বিষয়টি অবহিত করে ওই শিক্ষক। শ্বশুর বাড়ির লোকজন এসে কয়েকবার ওই নারীকে সংশোধন হয়ে সংসারী হতে বলে। (তবুও সংশোধন হয়নি মোবাইল আসক্ত ওই নারী)
হঠাৎ একদিন স্ত্রী বলল, ঝগড়া ভালো লাগেনা। আমি মোবাইলে কথা বললে তোমার (স্বামীর) সমস্যা কি! আমাকে ১০ লাখ টাকা দাও, বাপের বাড়ি চলে যাই। তালাক দাও। নিরুপায় স্বামী বলল, তোমাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তো বিয়ে করিনি- এই কথা বলেই শ্বশুর বাড়িতে ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানাতেই শ্বশুর বাড়ি থেকে বলা হলো- ঠিক আছে, কাল বাড়ি পাঠিয়ে দাও। কয়েকদিন বাড়িতে থাকলে ঠিক হয়ে যাবে। বাড়িতে বুঝাবো। ওই নারী বাপের বাড়ি গেল! তারপর থেকে ওই নারী সহ শ্বশুর বাড়ির সবারই আচরণ পাল্টে গেল। সহজে ফোনও তুলতো না কেউ।
কয়েকদিন পর শ্বশুর বাড়িতে ফোন করল ওই শিক্ষক। শ্বশুর বাড়ি থেকে বলা হলো- টাকা ১০ লাখ দাও। মেয়ে তোমার বাড়ি আর যাবেনা। তালাক পাঠাও। নইলে মামলা দিব।
নিরুপায় শিক্ষক বিষয়টি বিস্তারিত এক সহকর্মীকে বলল। প্রতিবাদ বা প্রতিকারের পথ না খুঁজে ওই সহকর্মী বলল, টাকা দিতে হয় দাও। এই কথা বাইরে প্রকাশ হলে লোকে হাসবে। লোকে বলবে তোমার পুরুষত্ব নেই। (সচেতনতার অভাবে বিষয়টি প্রকাশ পেল না)। কিছুদিন পর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নওগাঁর মহাদেবপুর থানায় নারী নির্যাতন মামলা দায়ের হলো। বিবরণে বলা হয়েছে, যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন। শ্বশুর বাড়ি মহাদেবপুরে গিয়ে স্ত্রীকে মারধর- এমন অভিযোগ করে স্থানীয় একটি হাসপাতাল থেকে কথিত চিকিৎসা নিয়ে মামলা করে। (আপনারাই বলেন, শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী’কে মারধর করল আর শ্বশুর বাড়ি এলাকার কেউ প্রতিবাদ করল না! শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে মারধর করলে এলাকার লোকজন কি ওই জামাইকে চুমু দিবে?)। সেই মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন ওই শিক্ষক। এখন মামলার সমাধান চাইলে, শ্বশুর বাড়ির লোকজন ১০ লাখ টাকা চায়!
অবশেষে পুরুষ অধিকার সংগঠনের মহাসচিব ও মিডিয়া মুখপাত্র বরাবর লিখিত অভিযোগ করে প্রতিকার এবং সহযোগিতা চেয়েছেন নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষক। এবার বলুন, পুরুষ নির্যাতন দমন আইন জরুরি কিনা! পুরুষ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জরুরি কিনা! ঘরে বসে নিরবে নির্যাতন সহ্য করবেন? নাকি রাজপথে আসবেন! অভিযোগের বিবরণ তুলে ধরেছি। নির্যাতিত পুরুষকে আমরা আইনী সহায়তা করব ইনশাআল্লাহ।
লেখক
সাংবাদিক ও কণ্ঠশিল্পী
মিডিয়া মুখপাত্র, পুরুষ অধিকার।
You must be logged in to post a comment.