পালেরচর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২২, ৯:১৬ পূর্বাহ্ন

শরীয়তপুর জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ উঠেছে।

তিনি জমির নামজারী করতে প্রতি ফাইলে  দশ হাজার থেকে শুরু করে কাজের প্রকার ভেদে লাখের উপরে টাকা নিয়ে থাকেন।  জমির নামজারী, মিস কেস, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, জমির দাগ বা পরিমাণ সংশোধন, সরকারী খাস সম্পত্তির লিজ বা ইজারা গ্রহণ ও নবায়ন করা, ইজারাদারের নাম পরিবর্তন করা সকল ক্ষেত্রেই তিনি টাকা নিয়ে থাকেন। তার কাছে টাকা ছাড়া কোন কাজ হয় না। আবার কেউ কেউ টাকা দিয়েও হয়রানি হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পালেরচর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, ভুমি কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের কাছে ভূমি সংক্রান্ত যে কোন কাজে আসলে, তিনি আমাদেরকে বলেন বিষয়টি বড় জটিল  অনেক টাকা খরজ হবে এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এই কাজ করাতে হবে। খরজ বহন করতে পারবেন এই কথা বলে আমাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হতিয়েনেয়।

শুধু তাই নয়, তাকে টাকা না দিলে জমির পর্চা এবং খাজনার দাখিলা কাঁটতে আসা গ্রাহকদের সাথে প্রায়ই তিনি অসৌজন্যমুলক আচরণ করেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে তার সত্যতা পাওয়া যায়।

তিনি মহিউদ্দিন হাওলাদার কান্দি গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম হাওলাদারের ছেলে মোশারফ হাওলাদারের ৮ বিঘা জমির নামজারী করতে ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা চেয়েছেন। তাকে ৭৫ হাজার টাকা নগদ দেয়া হয়েছে। বাকী ৩০ হাজার টাকা নামজারীর কাজ সম্পন্ন করার পর দেয়া হবে। কিন্তু ৭/৮ মাস সময় উত্তীর্ণ হলেও তার জমির নামজারী করে দেয়া হচ্ছে না।

মহিউদ্দিন হাওলাদার কান্দি গ্রামের আরেক বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন হাওলাদারের পুত্র আবু বকর হাওলাদারের ৪ বিঘা জমি নামজারী করতে ১ লক্ষ টাকা চেয়েছিলেন। পরে ৮০ হাজার টাকায় নামজারী করে দেবেন বলে রাজি হন। তখন তাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়। বাকী টাকা নামজারীর কাগজ হাতে পেলে দেয়া হবে। কিন্তু ৬/৭ মাস পার হলেও নামজারীর কাগজ দেয়া হচ্ছে না। আজ দেই, কাল দেই বলে হয়রানী করছে।

পালেরচর আব্দুল মান্নান হাওলাদারের কান্দি গ্রামের বসিন্দা মোঃ হোসেন বেপারীর পুত্র সামচুল হক বেপারী জানান গত ৪ আগষ্ট  আমি এবং আমার ভাই জয়নাল বেপারীর জমির খাজনা পরিষোদের জন্য ভূমি অফিসে আসলে আমাদের কাছ থেকে ভূমি কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক ৮৫ হাজার টাকা রেখে আমাদেরকে৬৪,৪৫০ টাকার রসিদ প্রদান করেন। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আপনাদের এক লক্ষ টাকার উপরে খাজনা হয়ে ছিলো একটু কমিয়ে রাখলাম।

ইয়াছিন আকন কান্দি গ্রামের বাসিন্দা হোসেন আকনের পুত্র আবদুস জাব্বার আকনের কাছে ২টা জমির নামজারী করতে ৩০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। অনেক অনুরোধ করার পর ১৬ হাজার টাকায় নামজারী করে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে পালেরচর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হকের কাছে বক্তব্য চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা।

এ ব্যাপারে জাজিরা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবীবা ফারজানা বলেন, গ্রাহকরা তাদের জমির নামজারী করতে তো আমাদের কাছে আসেন না। তারা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার মাধ্যমেই নামজারীর কাজ করে থাকেন। আমি এখানে নতুন এসেছি। এখন পর্যন্ত সব কিছু বুঝে উঠতে পারিনি। তবে আপনাদের কথা মাথায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করবো।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ