ইউপি নির্বাচনে দেশের সব জায়গাতে নৌকা প্রতীক পাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা যেখানে মরিয়া, সেখানে নৌকা প্রতীক পাওয়ার পরও মনোনয়নপত্র জমা দেননি ফরিদপুরের সদরপুরের সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সুশীল চন্দ্র দাস।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পঞ্চম ধাপে আগামী ৫ জানুয়ারি সদরপুর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এ ইউনিয়নে সুশীল দাস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা না দিলেও জমা দিয়েছেন আরও তিনজন।
এরা হলেন, কাজী জাফর, সিরাজুল ইসলাম ও ইয়াকুব আলী। এরা তিনজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ মুজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সনের সমর্থক।
সুশীল দাস ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। তিনি সদরপুর উপজেলা সদরের শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা।
দলীয় প্রতীক নৌকা পেয়েও কেন মনোনয়নপত্র জমা দিলেন না জানতে চাইলে সুলীশ দাস বলেন, বেশ কয়েক মাস আগে সদরপুর মহিলা কলেজে তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইকালে আমি অন্য তিন প্রার্থীর সাথে আমার নামও বলেছিলাম। এর পরে অনেক দিন চলে গেছে। ইতিমধ্যে নির্বাচন হয়েছে ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন উপজেলায়। সেখানে দেখেছি স্বতন্ত্র সাংসদের প্রার্থীদের দাপুটে বিজয়। অথচ আমাদের নেতা কাজী জাফরউল্লাহ একবারও এলাকায় আসেননি।
তিনি বলেন, এজন্য আমি নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নেই। দলীয় মনোনয়নের জন্য যখন ঢাকায় আবেদন করতে বলা হয়, আমি তখন সেখানে মনোনয়ন চেয়ে কোন আবেদন করিনি। কিন্তু দলীয় প্রার্থীর তালিকা যখন প্রকাশ করা হয় তখন দেখি আমাকে সদরপুর ইউনিয়ন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য আমি বিন্দুমাত্র প্রস্তুত ছিলাম না।
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আলম রেজা বলেন, আমাদের যেদিন উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা হয় সেদিন সদর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক চেয়েছিলেন সুশীল চন্দ্র দাস। আমরা সেভাবেই কাগজপত্র রেডি করে ঢাকায় পাঠিয়েছি। এখন শেষ সময়ে এসে ওই প্রার্থী বলছেন তার পরিবারের লোকজন তাকে নির্বাচন করতে দেবে না। এজন্য সদর ইউনিয়নে আমাদের নৌকা প্রতীকের কোনও প্রার্থী নেই।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, ওটা কাজী জাফরউল্লাহর এলাকা। কাদের কাদের মনোনীত করে তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয় সে তালিকা আমাকে দেয়া হয়নি।
‘আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়া একটি দুঃখজনক ঘটনা। পাশাপাশি এটি একটি অন্যায় কাজ’ মন্তব্য করে সুবল সাহা বলেন, সুশীলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, তিনি এ ব্যাপারে সুশীলের অবস্থান খতিয়ে দেখবেন।
প্রসঙ্গত, পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ১৫ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ১৭ ডিসেম্বর ও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৫ জানুয়ারি।
You must be logged in to post a comment.