নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা এক মহাবীর

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯, ৮:৫০ অপরাহ্ন

প্রদীপ কুমার দেবনাথ।।               

ভয়াবহ ২১ শে আগস্ট, মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা এক বীর বঙ্গবন্ধু প্রেমিক নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা এক মহাবীর।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। সময়টি তখন ঠিক  বিকাল ৪.৫০ ঘটিকা। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ ব্র্যান্ডের গাড়িতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে এসে পৌঁছলেন। ট্রাকের উপর তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে উঠে বক্তৃতা দিলেন।

মাত্র ২০ মিনিটের বক্তৃতা শেষে তিনি হাতে একটি কাগজ ভাজ করতে করতে নামছিলেন মঞ্চ থেকে। এমন সময় চারিদিক থেকে তাকে হত্যার উদ্দেশ্য করে একটির পর একটি গ্রেনেড ছোঁড়তে শুরু করলো হায়েনারা। লুটিয়ে পড়ল অসংখ্য নেতাকর্মী। কিন্তু অকুতোভয় বঙ্গবন্ধুর সেনানীরা মুক্তি যুদ্ধে যেভাবে রক্ষা করেছিলো পাকিস্তানী নরপশুদের হাত থেকে বাঙ্গালীদের ঠিক সে ভাবেই মানবপ্রাচীর তৈরী করে তাদের প্রিয় নেত্রীকে বাচাঁতে প্রাণপণ চেষ্টা করলেন। অবশেষে নিজেরা গ্রেনেড হামলায় ক্ষতবিক্ষত হলেও নিজেদের প্রিয় নেত্রী আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জীবন রক্ষা করলেন।

সেই মানবপ্রাচীরের অন্যতম একজন বীর সেনানী আজকের শিল্পমন্ত্রী, নরসিংদী – ৪ ( মনোহরদী – বেলাবোর) এম.পি জনাব নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। অকুতোভয় এই মুক্তিযুদ্ধা বঙ্গকন্যা শেখহাসিনাকে রক্ষা করতে যে মানবদেয়াল তৈরি করা হয়েছিল সেখানে সাবেক মেয়র হানিফ, সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সাবেক মন্ত্রী আমীর হোসেন আমু, সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকদের সাথে বিশাল ভূমিকা পালন করেন। গ্রেনেড হামলা ও প্রচন্ড গুলির আওয়াজে তিনি এতটাই হতভম্ব হয়েছিলেন যে, প্রাথমিক অবস্থায় তিনি নিজে আহত হয়েছিলেন তা বুঝতেই পারেননি। শেখ হাসিনার বিদায়ের পরও বোকার মতো নিথর হয়ে বসা ছিলেন। অবলোকন করছিলেন প্রবাহমান রক্ত, মারা যাওয়া মানুষগুলোর নিথর দেহ, মানুষের হাহাকার, স্বজন হারাদের আহাজারি।

এত বিভৎস দৃশ্য দেখার পর কি শরীর চলে। অনেক পর উনার সেন্স স্বাভাবিক হলে লক্ষ্য করলেন কারা যেন উনাকে টেনে একটা বদ্ধ ঘরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসলেন। একটু পরে লক্ষ্য করলেন উনার রাজনৈতিক ও পেশায় কর্মরত সহকর্মীরা যারা উনাকে এখানে এনেছিলেন তারা উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে জানতে চেয়েছিলেন উনি কেমন আছেন? নিরব ছিলেন এই মহান নেতা – কারণ, ততক্ষণে উনার ব্যথা শুরু হয়েছে শরীরের বিভিন্ন প্রান্তে, জোড়ায় জোড়ায়। তারপর হাসপাতালে কেটেছিল অনেকদিন।

আজ ২১ শে আগস্ট সেই দুঃসহ স্মৃতি তাকে তাড়া করছে করবেও যতদিন বেঁচে আছেন।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ