নিষেধাজ্ঞা না মেনে দলীয় প্রভাবে রমরমা বালু ব্যাবসা: ঝুকিতে একাধীক বিদ্যুৎ এর খুটি

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২০, ৯:১৯ অপরাহ্ন

বায়জিদ হোসেন, বাগেরহাট।।

মোংলার অবৈধ বালু উত্তলনে বিদ্যুৎ এর খুটি ঝুকির মধ্যে থাকলে ও  নিষেধাজ্ঞা না মেনে দলীয় প্রভাবে রমরমা ব্যবসা করছে স্থানিয় কিছু প্রভাবশালী মহল।

বাগেরহাটের মোংলায় সরকারি জায়গায় বালু মজুদ করে তা আবার বিক্রি করছে বিভিন্ন জায়গায়। অবৈধ ভাবে রমরমা এ বালুর ব্যবসা করে তিন ব্যবসায়ী রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি ছাড়াই উপজেলার বুড়িডাঙ্গা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটারাবাদ সরকারি জায়গায় বালু মজুদ করে ব্যবসা করছেন তারা।

ফলে বিদ্যুৎ এর খুটি মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় শ্রীবাস, অশোক এবং শ্রীকান্ত নামে তিন বালু ব্যবসায়ী প্রশাসনের কারো অনুমতি না নিয়েই অবৈধ এ ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জানতে চাইলে সরকারি জায়গায় বালু মজুদ করে ব্যবসা অবৈধ এবং বেআইনি উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত মান্নান বলেন, ‘যারা এগুলো করছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার  সরেজমিনে বুড়িডাঙ্গা ইউনিয়নের ভাটারাবাদ  গিয়ে দেখা যায়, অবৈধ ভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ এর খুটির গোড়া থেকেই বালু নেওয়া হচ্ছে। ফলে ঝুকির মধ্যে রয়েছে একাধীক বৈদ্যুৎতিক লাইনের খুটি। তবে সংবাদিকরা আসছে এমন খবর পেয়ে তড়িঘড়ি করে সরিয়ে ফেলা হয় বালুর পাইপ, তবে সরাতে পারেনাই অবৈধ ড্রেজার মেশিন। এবিষয় ওই তিন অবৈধ বালু ব্যবসায়ী শ্রীবাশ, অশোক এবং শ্রিকান্ত কে মোবাইলে কল দিলে ব্যাস্ত আছি বলে মোবাইল রেখে দেয়।

পশুর নদীর পাড়ের অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্তুপ করে রাখা এসব বালু ড্রেজার দিয়ে ওই পাইপে করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন এ তিন ব্যবসায়ী। বুড়িডাঙ্গা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) প্রদীপ হালদার বলেন, এভাবে বালু কাটে সরকারি বিদ্যুৎ এর খুটি ঝুকির মধ্যে, নিষেধ করা সত্যেও তারা কথা শোনেননি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুড়িডাঙ্গা ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা করে শ্রীবাস, অশোক এবং শ্রীকান্ত রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন। এজন্য তারা স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করেছেন। সরকারি জায়গায় থেকে বালু উত্তলন করে স্থানীয়দের কাছে তা বিক্রি করছেন পরে বিষয়টা স্বীকার করে বালু ব্যবসায়ী শ্রীবাস বলেন, এ সম্পর্কে তাদের চেয়ারম্যান সব জানেন আমরা সময় হলে সরিয়ে নেব।

এ বিষয় বুড়িডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিখিল চন্দ্র বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা, তবে সরকারি সম্পদের ক্ষতি করে কোনো ব্যক্তি বালুর ব্যবসা করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ