নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ইদিলপুর ইউনিয়নের আশ্রয়ন প্রকল্পের ৩০ টি পরিবার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৮:৪১ অপরাহ্ন

নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মাছুয়াখলি গ্রামে আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসরত ৩০ টি পরিবার।

সরজমিন ঘুরে আশ্রয়ন প্রকল্পের বসবাসরত পরিবারের সাথে আলাপ কালে জানা যায় যে, দীর্ঘদিন যাবৎ পরিবার গুলো বিদুৎ ও পযাপ্ত সুপেয় পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। গুচ্ছ গ্রামবাসীরা জানান, বেশ কয়েক বছর পূর্বে ইদিলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার শিকারীর নিকট ৫০০/- টাকা করে মোট পনের হাজার টাকা বিদুৎতের মিটাররের জন্য প্রদান করা হলেও অদ্য পর্যন্ত কোন মিটার সংযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে সন্ধ্যা হলেই এ আশ্রয়ন প্রকল্পে বিরাজ করে ভূতুরে পরিস্থিতি। এই প্রকল্পে বসবাস রত বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিরা সকল প্রকার সরকারি ভাতা থেকে বঞ্চিত বলে জানান আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা।

গুচ্ছ গ্রামে বসবাসরত আল-আমিন সরকার এবং ইসাহাক বেপারী জানান, এখানে কোন চেয়ারম্যান মেম্বার আসেনা। আমাদের কোন খোঁজ খবর রাখেনা। আমরা সবদিক থেকে সুবিধা বঞ্চিত। আমাদের এখানে বিদ্যুৎ নেই। আমাদের যাতায়ের কোন রাস্তা নেই। আর গুচ্ছ গ্রামের নির্দিষ্ট কোন সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি। আর সীমানা নির্ধারণ না করায় আশেপাশের জমির মালিকরা আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে। আমরা সকল সুবিধা সহ বিদ্যুতের ব্যবস্থা চাই। চেয়ারম্যান একটি নড়বরে কাঠের পুল দিয়েছে বটে। আমরা সেই কাঠের পুলের বিপরীতে ব্রীজ চাই।

এই ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ইদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার শিকারী বলেন, আমি তাদের থেকে নেওয়া অর্থ মিটারের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জমা দিয়েছি। তারা ঘরের বিদ্যুৎ ওয়ারিং এর কাজ শেষ করলে খুব দ্রæত মিটার চলে আসবে বলে আশা করছি। তারা এক একজন বিভিন্ন স্থানের ভোটার বিধায় কার্ডের সুবিধা পাচ্ছেন না। কিন্তু আমি বিনা কার্ডে তাদের কয়েকবার ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি। এমনকি আশ্রয়ন প্রকল্পে প্রবেশের পথে আমি একটি কাঠের পুল নির্মাণ করে দিয়েছি।

গোসাইরহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাহমিনা আক্তার চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, আমরা সেখানে গিয়েছি গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দারা কেউ সুবিধা পাবে কেউ পাবেনা এরকম কিছু নয়। তবে বিদ্যুতের মিটারের জন্য যদি চেয়ারম্যান টাকা নিয়ে থাকে তাহলে তারা সকলে চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে বলুক তারা কেন এখনো মিটার পায়নি। আমাদের পক্ষথেকে যা যা করার দরকার ছিলো তা আমরা করেছি।

গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসাইন বলেন, ত্রাণতো সব সময় আসেনা যখনই ত্রাণ আসে তখনই তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। আর কাঠের পুলটি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছে তবে খুব শিঘ্রই কাঠের পুলের স্থানে ব্রীজ নির্মান করা হবে। আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা যারা ঘরে ওয়ারিংয়ের কাজ শেষ করেছে তারা দ্রæত মিটার সংযোগ পেয়ে যাবে। আর বাকীরা ওযারিংয়ের কাজ শেষ করলেই  বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে যাবে। তবে এখন সমস্যা হলো তাদের অধিকাংশই ঘরে ওয়ারিং করছেনা। এ বিষয়ে যদি কেউ অভিযোগ করে থাকে তাহলে সে অভিযোগ ভিত্তিহীন।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ