নওগাঁয় মা ও শিশু সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার, একজন আটক

নওগাঁ প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ৩ মে, ২০২২, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

নওগাঁয় নিজ বাড়ির শয়ন ঘর থেকে মা আমেনা বেগম (২২) ও ২ বছর বয়সী ছেলে শিশু আমির হামজা’র মৃতদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এঘটনার পর থেকে নিহত গৃহবধূ আমিনা বেগমের স্বামী ও শ্বশুর পলাতক রয়েছে।

তবে তার শ্বাশুড়ীকে আটক করেছে থানা পুলিশ। অপরদিকে ময়না তদন্ত শেষে মা ও শিশু সন্তানের মৃতদেহ পিতার বাড়ির স্বজনদের কাছে পুলিশ হস্তান্তর করার পর শনিবার ১মে দিনগত রাত ৯ টারদিকে দাফন সম্পূর্ণ করেন স্বজনরা। গৃহবধূ আমিনা’র বাবা সহ স্বজনদের অভিযোগ, স্বামী সহ পরিবারের লোকজন মা ও শিশু সন্তানকে প্রথমে হত্যা করার পর ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে (ধামাচাপা দিতে) এলাকার প্রান্ত নামের এক যুবকের পরামর্শ (সহযোগীতায়) বিষপানে আত্নহত্যার প্রচারণা চালানো সহ এমনকি যুবক প্রান্ত নিজেকে প্রশাসনের ঘনিষ্ঠজন হিসাবে প্রকাশ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা করেন বলেও স্বজনদের অভিযোগ।

মা ও ২ বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর ঘটনাটি নওগাঁর মান্দা উপজেলার গনেশপুর সরদারপাড়া গ্রামের। বরিবার পূর্বরাতে খবর পাওয়ার সাথে সাথে মান্দা থানার ওসি শাহিনুর রহমান সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স সহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে রাত ১১টারদিকে প্রাথমিক সুরতহাল রির্পোট অন্তে ঘটনাস্থল থেকে মা ও শিশু সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার

করে ময়না তদন্তের জন্য পরেরদিন নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। তবে ঘটনার পর থেকে গৃহবধূ আমিনা বেগমের স্বামী ময়েন উদ্দিন ও শ্বশুর আবেদ আলী পলাতক রয়েছেন।

আরও পড়ুন : জনগণ ঈদযাত্রায় কষ্ট পায়নি বলে বিরোধীরা ঈর্ষায় জ্বলছে : কাদের

এ ঘটনায় গৃহবধূ আমিনা বেগমের শাশুড়ি ওজেদা বেগম (৫০) কে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছেন পুলিশ।

নিহত গৃহবধূ আমিনা বেগমের  চাচা ও ফুফাত ভাই জানান, প্রায় ৫ বছর পূর্বে আমিনা বেগমকে গনেশপুর সরদারপাড়া গ্রামের আবেদ আলী মৃধার ছেলে ময়েন উদ্দিনের সঙ্গে

পারিবারিকভাবে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের সময় জামাইকে একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল, সোনার গহনাসহ ঘর সাজানোর বিভিন্ন আসবাবপত্র উপঢৌকণ হিসাবে দেয়া হয়েছিলো। তারপরও আরো যৌতুকের টাকার দাবিতে মাঝে মধ্যেই আমিনাকে মারধরসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছিল জামাইসহ তার পরিবারের লোকজন।

এমনকি প্রায় ৩ মাস আগে ও আমিনাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর সে আমিনা তার শিশুকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই ছিল। সপ্তাহ ৩ আগে গণেশপুর ও শ্রীমন্তপুর দু’ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মধ্যস্থতায় সালিসের পরই আমিনাকে জামাই বারিতে এনে তোলেন এবং এর পরই মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আমিনা ও তার শিশুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন জামাইসহ তাঁর পরিবারের লোকজন।

স্বজনরা আরো জানান, সংবাদ পেয়ে রাতেই জামাই বারি গিয়ে শয়ন ঘরের খাটের উপর মা ও ছেলের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখতে পান। এ সময় জামাই ময়েন উদ্দিন ও বেয়াই আবেদ আলীকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

মৃতদেহ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত নিশ্চিত করে মান্দা থানার ওসি শাহিনুর রহমান জানান, সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে মা ও শিশু সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার পূর্বক ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয় এবং ময়না তদন্ত শেষে মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর মা ও শিশু মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ওসি আরো বলেন, এ ঘটনায় নিহত আমিনা’র শাশুড়ি এজেদা বিবিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এব্যাপারে গৃহবধূ আমিনা’র বাবা মোস্তফা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত পূর্বক জড়ীতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ওসি। মা ও দু’ বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর ঘটনায় স্বামীবাড়ি ও পিতার বাড়ি এলাকার লোকজনের মাঝে শোকের ছাঁয়া নেমে এসেছে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ