“ধুম্রজাল শিক্ষানীতি উন্নত শিক্ষার অন্তরায়”

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৮, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন

মোঃ মমিনুল ইসলাম ।।

প্রশ্ন ফাঁস দিয়েই শুরু করি…

ঢাবির মত প্রতিষ্ঠানেও ঘ ইউনিটে প্রশ্ন ফাঁস।উপাচার্য মহোদয়ের কথা অনুযায়ী উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে।এখন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ” বাংলাদেশ টিচার্স কাউন্সিল” প্রশ্ন রাখতে চায় স্কুল কলেজের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের জন্য যদি শিক্ষকরাই দায়ী হয় তবে এখনও তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই দায়ী।এখন তো মাথা উঁচু করে বুক ফুলিয়ে বলছেন না যে শিক্ষকরাই পরীক্ষার আগে প্রশ্ন ফাঁস করেন।তাহলে আর হয় তো ঐ চেয়ারে বসার সুযোগ থাকবে না।

বেসরকারী শিক্ষকদের একটা সমস্যা যখন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষকদের দায় করলেন তখনই সব সংগঠন মিলে প্রেস ক্লাবে এসে প্রতিবাদ করতে পারলেন না।অদৈত কুমার যখন শিক্ষার্থীদের এ+ বিক্রির কসাই হয়ে ধরা পড়লেন তখনও কিন্তু তার চাকরী গেল না।আবার কোনো অভিভাবক, বড় বড় শিক্ষক সংগঠন,মানববাধিকার কর্মী,সুশীল সমাজ, সামাজিক আন্দোলন, শিক্ষা বিপ্লবের নেতা কাউকেই দেখলাম না তার পদত্যাগ দাবী করতে।আমি যদি ঐ চেয়ারে বসতাম তবে সেদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথাও রাখতাম না।কারণ ঐ চেয়ার ছেড়ে দিলে সারা জীবন ঐ চেয়ার ছেড়ে দেওয়ার কারণ মানুষ জানতেন ও সম্মান দেখাতেন।আমাদের দেশের মন্ত্রীদের সরানোর যেমন নেই তেমন কোনো শক্ত আইন ঠিক তেমনই তাদের নেই কোনো সেচ্ছায় পদত্যাগের অভ্যাস।

যেকোনো দেশের জন্য শিক্ষা বিভাগটা হতে হয় দুর্নীতিমুক্ত।নতুবা সে দেশ তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে কোনোভাবেই পৌঁছতে পারে না।পৃথিবীর উন্নত সব দেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তারা ভেদাভেদ ভুলে শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি আগ্রাধিকার দিয়েছে একেবারে ইতিহাসটা যে বছরে তারা রচনা করেছিলেন সেই সরকারের মেয়াদেই।আমাদের দেশের ইতিহাসটা যে বছরে রচিত সেই বছরে যে সরকার ক্ষমতায় আসেন সেই সরকারই ঐ একই মেয়াদে শিক্ষাকে আগে প্রাধান্য দিয়েছিলেন।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঠিকই বুঝেছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানিরা যেভাবে পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ব বাংলা নামক চিরসবুজের চিরচেনা ভূখণ্ড অপার সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে যেভাবে শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক এক কথায় বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে দেশকে ধ্বংস স্তুপে পরিণত করেছে সেই বাংলায় শিক্ষাকে প্রাধান্য না দিয়ে দেশকে কোনোভাবেই উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়া যাবে না।তাই তিনি ক্ষমতায় বসার পরই যুগপোযোগী একটি শিক্ষানীতিতে দেশকে এগিয়ে নিতে চাইলেন এবং ড.কুদরত ই ক্ষুদাকে আন্তর্জাতিক মানের এমন একটি শিক্ষা কমিশন প্রনয়ণের ভার দিলেন যেখানে শিক্ষা,শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকেই বেশি আগ্রাধিকার থাকবে যা পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে প্রণীত হয় এবং সেই শিক্ষা কমিশনই ড. কুদরত ই ক্ষুদা শিক্ষা কমিশন নামে আজও বিশ্বে বহুল আলোচিত।

বর্যুয়া আমলাতান্ত্রীক সমস্যাটা মূলত তখন তখন থেকেই শুরু।কিছু আমলা কোনোভাবেই সেই নীতিকে মেনে নিতে পারেনি কারণ যুগ যুগ ধরে শিক্ষকরাই সেখানে সর্বাধিক আগ্রাধিকার পেতেন এবং তাঁদের ভিআইপি সম্মান থেকে যেত।শুধু এই একটি কারণ নয়। বঙ্গবন্ধুর যুগোপযোগী অনেক ভাবনারই প্রতিফলন হতে দিতে চায়নি একটি বিশেষ কালো চক্র।জাতিকে নিয়ে ক্রমাগত তাঁর নিঃস্বার্থ ভাবনাই তাঁকে ১৫ আগস্টের বিভীষিকাময় রাতের সামনে দাঁড়া করিয়েছিলো যার পেছনে আরও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কালো চক্র জড়িত ছিলো।বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েই সেদিন বাংলার শিক্ষক সমাজের মৃত্যু হয়েছিলো যা আজও বারংবার প্রতিফলিত হচ্ছে একের পর এক নুব্জ শিক্ষানীতিতে পিষ্ট দেশের শিক্ষক মহলে।

ড.কুদরত ই ক্ষুদা শিক্ষা কমিশনটি সব মিলিয়ে ৩৬ টি অধ্যায়ে সম্পন্ন হয়েছিলো।পুরোটাই রচিত হয়েছিলো ইংলিশ ভার্সনে যা আর কোনো শিক্ষা কমিশনেই সম্ভবত রচিত হয়নি।সেই কমিশনে ২২ নং অধ্যায়ে শিক্ষক সমাজের আপামর দাবীর সবক’টিই প্রতিফলিত হয়। এই অধ্যায়ে শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছিলো priority.Priority means presidency. অর্থাৎ উচ্চ পদ মর্যাদা।তার মানে এখানে দেখা যায় শিক্ষরাই পাবে সর্বোচ্চ পদ মর্যাদা ও সর্বোচ্চ সম্মান।এমনকি সেখানে শিক্ষকদের শিক্ষা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রেই আগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।শিক্ষকদের জন্য ফ্ল্যাট বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খুব কাছাকাছি শিক্ষকদের জন্য শিক্ষক ডর্মেটরী বা হাউজ করার কথাও বলা আছে।আর যদি তা সম্ভব না হয় তবে অন্ততপক্ষে শিক্ষকদের বেতনের একটি বিশেষ শতাংশ অতিরিক্ত হিসেবে দিয়ে আবাসন সংকট এমনভাবে দূর করার কথা বলা হয়েছে যেন শিক্ষকরা কোনোভাবে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত না হয়।কারণ এতে শিক্ষার প্রকৃত অর্জন কখনই সম্ভব হবে না।

স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও আজ পর্যন্ত কোনো সরকারের পক্ষেই ড. কুদরত ই ক্ষুদা শিক্ষা কমিশনের ২২ নং অধ্যায়টি বাস্তবায়ণ করেনি।কারণ তাতে ছিলো সেই ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর অমরবাণীর অক্ষর বিন্যাস যার সজ্জারূপ জাতি কোনোদিনই দেখতে পেল না।১৯৭৪ সন থেকে ২০১৮ সন পর্যন্ত যে সাতটি শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছে তার সব ক’টিতেই কুদরত ই ক্ষুদা শিক্ষা কমিশনের ছাপ পড়েছে।কারণ এটি বাদ দিয়ে কেউই শিক্ষা কমিশন গঠন করতে পারেননি বা করতে দেওয়াও হয়নি।সবগুলো শিক্ষা কমিশনই গঠিত হয়েছে সব সরকারের শেষ মেয়াদে যা জাতির জন্য বড়ই লজ্জাস্কর ।বারংবার সরকার এসেছেন আর সেটি নিয়ে উদবেলিতও হননি।অধরাই পরে থেকেছে সব শিক্ষানীতি।এমনকি কোনো সরকারের শিক্ষা কমিশনের পুরো অধ্যায় শিক্ষামন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটেও পাওয়া যায়নি।অর্থাৎ এক ধরণের ধ্রুম্রজালেই আবদ্ধ থেকেছে সব শিক্ষা কমিশন।আর যেটুকু সংযোজন করা হয়েছে সেখানেও সুকৌশলে ড. কুদরত ই ক্ষুদা শিক্ষা কমিশনের ২২ নং অধ্যায়ের কবর দেওয়া হয়েছে।এই প্রথম কবরটি দেওয়া হয়েছিলো ১৯৭৫ সনের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর বিএনপি সরকারের আমলে প্রথম যে শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়েছিলো সেখানেই।পরবর্তনীতে একের পর এক সরকার পরিবর্তন হতে থাকে আর সব সরকারই শুধু নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতেই তৎপর ছিলেন কিন্তু দেশের মূল মেরুদণ্ড যার ওপর দাঁড়িয়ে সেই দণ্ডের কথাই ভুলেছেন বারংবার ।টাইটানিকের সামান্য একটু ছিদ্রই যেমন বিশালাকার জাহাজটিকে ধীরে ধীরে ডুবিয়ে দিয়েছে ঠিক তেমনি শিক্ষার সেই কমিশন বাস্তবায়ণে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ার ভুলটাই এদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকেও ধীরে ধীরে ডুবিয়ে দিচ্ছে।পার্থক্য শুধু এখানেই ১৯১২ সনে টাইটানিকটা ডুবতে সময় দিয়েছিলো মাত্র তিন মাস আর কাল্পনিক টাইটানিকের মত আমাদের এই শিক্ষাব্যবস্থা ডুবতে সময় নিচ্ছে তিন যুগেরও বেশি সময়।টাইটানিকটার ভুল কিন্তু সাথে সাথেই ধরা পড়েছিলো যেকারণে সবাই বাঁচার চেষ্টাও করেছিলো। কিন্তু আমাদের ভুলটা বুঝতে আমাদের আজও দেরী হচ্ছে বলেই জাতির কাঙ্খিত মাথা আজও সত্যিকার অর্থে উঁচু হয়ে উঠছে না।হয়তো জাতি বরফ খণ্ডের সাথে টাইটানিকের মত একটা বড় রকমের আঘাত না পেলে হুস হবে না ।বুঝবেনা জাতির মূল উন্নতির অন্তরায় ছিদ্রটা কোথায়?!

এদেশ সোনার বাংলার দেশ।ঠিক স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের চেয়ে বর্তমান সময়ে এদেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ। দেশ রেমিটেন্সের দিক দিয়েও এগিয়ে।দেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মত একটা মেগাপ্রকল্প হাতে নিয়ে বর্তমান সরকার নিঃসন্দেহে বিশ্বের কাছে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।এছাড়াও স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ,২০০০- ৪০০০ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন,যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর, জঙ্গীবাদ দমন,মাদক বিরোধী অভিযান, সন্ত্রাস দমনসহ অনেক দিক দিয়ে বর্তমান সরকারের ঈর্ষণীয় অর্জন নিঃসন্দেহে দেশ ও বহির্বিশ্বে প্রশংসের দাবীদার।আর এই অর্জন সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে।শিক্ষার ক্ষেত্রেও সরকার বেশ কিছু দিক দিয়ে দেশ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।যেমন নতুন বছরের প্রথম দিনে বিনাবেতনে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, বেতন দ্বিগুণ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস,শিক্ষায় আইসিটি শিক্ষা বাধ্যবাধকতামূলক করা ইত্যাদি কাজ দেশকে সুন্দর ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়।তবে শিক্ষার বেশ কিছু দিক দিয়ে এদেশ এগিয়ে গেলেও শিক্ষা ও শিক্ষকের মান নিয়ে রয়েছে নানান প্রশ্ন।শিক্ষার বেশ কিছু দিক দিয়ে চরম বৈষম্যের সৃষ্টির হয়েছে বিশেষ করে বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে তা প্রকট আকার ধারণ করেছে।একই শিক্ষানীতির আলোকে একই দেশে একই স্তরের শিক্ষকের মধ্যে রয়েছে বেতন বৈষম্য।সম্মানের জায়গাটাতেও রয়েছে চরম অবহেলা যার নিদারুণ স্বাক্ষী হয়েছেন দেশের আপামর জনগোষ্ঠী।অবিলম্বে এই বৈষম্য দূর করতে না পারলে দেশ তাঁর কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছাতে কতটা সক্ষমতা পাবে তাতে যথেষ্ট সন্দেহে রয়েছে।

শিক্ষায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায়ও রয়েছে বৈষম্য। শিক্ষার সকল স্তরের নিয়োগ প্রক্রিয়ায়ই যেন ধ্রুম্রজালে আবদ্ধ থাকে যেখান থেকে সাধারণ নাগালের মধ্যে থাকা শিক্ষকের বের হয়ে আসা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
এরই মধ্যে প্রণীত নতুন শিক্ষানীতিও বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে।
এই নীতিতে বিশেষে করে যে যে বিষয়গুলো সমস্যা সৃষ্টি করেছে এবং যে যে বিষয়গুলো থাকা প্রয়োজন …

১। অনুপাত প্রথা(৫:২) যা প্রভাষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

২।বদলী প্রথা।এমপিওদের এই বদলী প্রথা চালু না থাকায় শিক্ষবৃন্দও চরম ক্ষোভের মধ্যে আছে।
৩।প্রধান শিক্ষক – সহকারী শিক্ষক বেতন স্কেল বৈষম্য এবং অধ্যক্ষ – প্রভাষক/ সহকারী অধ্যাপক বেতন বৈষম্য। এটিও প্রতিষ্ঠানে যুগপোযোগী উন্নত শিক্ষার মান অর্জনের পথে বাঁধার সৃষ্টি করে কারণ সমযোগ্যতা থাকা স্বত্বেও অনেক শিক্ষক শুধু ব্লক পোস্টের জালে বেঁধে তাঁদের কাঙ্খিত বেতন স্কেল থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।
৪।এনটিআরসিএ দ্বারা কাঙ্খিত নিয়োগ দিতে না পারায় সারা বাংলায় প্রায় চল্লিশ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।এটি শিক্ষার বৈষম্য সৃষ্টি করছে।

৫।এনটিআরসিএ সনদপ্রাপ্ত অনার্স মাস্টার্স ডিগ্রীধারী অসংখ্য শিক্ষক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন, ননএমপিও ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক স্থায়ী নিয়োগে বছরের পর বছর ধরে কৃতিত্বের সাথে শিক্ষাকতা করলেও তাঁদের ভাগ্যে মিলছে না এমপিও।এটি তাঁদের দারুণভাবে হতাশ করছে। আর হতাশা নিয়ে বেশিদিন শিক্ষাকতা করলে জাতি ভালো ফলও পায় না।

৬। বয়স ৩৫ এর বাঁধা।এটি ৩৫+ শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করছে যা কোনো সভ্য দেশেই নেই।
৭। শিক্ষকদের নেই শিক্ষক সুরক্ষা আইন।এটি না থাকায় দেশের যত্রতত্রই মিলছে শিক্ষক নির্যাতন যা কোনো সভ্য দেশের শিক্ষক সমাজের পক্ষেই মেনে নেওয়া যায় না।

৮। স্বতন্ত্র শিক্ষা সার্ভিস কমিশনের অভাব।এটি থাকলে দেশের শিক্ষকদের একটা বড় সাপোর্ট থাকতো।
এছাড়াও বিবিধ সমস্যায় জর্জরিত এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা।

তাই দেশের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের কোষাগারের সকল অর্থ সরকারের কোষাগারে নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করলে সরকার শিক্ষায় একদিকে যেমন সৃষ্টি করতো নতুন ইতিহাস ঠিক তেমনি পেতেন আপামর বেসরকারী শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন। এই জাতীয়করণে জন্য সব মিলিয়ে মাত্র ১৫০০ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিলেই কাজটি করা সম্ভব।এতে সরকারের কোনো ক্ষতিই হবে না বরং শিক্ষা ধারাটি এক নীতিতে চলমান থাকতো।সরকারেরও লাভ হতো।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীয় স্বীয় উদ্যোগে একবার এই হিসাবের একটি তালিকা করার জন্যও শিক্ষামন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন কিন্তু বঙ সেই মন্ত্রণালয়ের বর্যুয়া আমলানীতির কব্জায় সেই উদ্যোগ সেখানেই মৃত্যু হয় যা আজও বাংলার শিক্ষক সমাজ জানে।

মূলত এভাবেই প্রতিনিয়ত বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে নেওয়া সেই ড. কুদরত ই ক্ষুদা শিক্ষা কমিশনের মৃত্যু হচ্ছে ।এটি শুধু শিক্ষানীতির বা শিক্ষা কমিশনেরই মৃত্যু নয় বরং বঙ্গবন্ধু আশা আকাঙ্খারই বারংবার মৃত্যু হচ্ছে।কেউই কিন্তু এখানে বঙ্গবন্ধুনীতির কথা শোনাতে চায় না। তারা এ মৃত্যুর শোকও করে না।কিন্তু জাতি ঠিকই ধুকে ধুকে তার মৃত্যু স্বাদ অনেকটাই অনুভব করছে।দেশের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা গবেষক শিক্ষক থেকে শুরু করে আজ সবাই তার স্বাদ কিছুটা হলে পাচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা তার একটি উত্তম স্বাদের উদাহরণ।এভাবে দেশ বৈষম্যের শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে যদি আগামী বিশ বছর এগিয়ে যায় তবে তবে জাতি তার মেরুদণ্ড কতটা শক্ত করে দাঁড়িয়ে থেকে বিশ্বকে দর্শন করতে পারবে তার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।দেশের উন্নয়ন সব ক্ষেত্রে হলেও জাতি তার কাঙ্খিত লক্ষে কখনই পৌঁছতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি আগ্রাধিকার দেওয়া না যাবে।তখন দেশের বড় বড় অর্জন সবই ব্যাহত হবে।তাই দেশে শিক্ষাখাতে দেশের মোট জিডিপির ৬% বরাদ্ধ করে শিক্ষাখাতকে এমন অনন্য উচ্চতায় আনতে হবে যে ক্ষেত্রটিতে দেশের সোনার ছেলেরা সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় পেশা হিসেবে নিবে। শিক্ষকতাই হোক দেশের সবচেয়ে আকর্যণীয় ও সম্মানীয় এমন একটা পেশা যেন দেশ বুক ফুলিয়ে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে বলতে পারে আমিই বিশ্বের সবচেয়ে সেরা।

 

লেখক

সাধারণ সম্পাদক

বাংলাদেশ টিচার্স কাউন্সিল (বাংলাদেশ শিক্ষক পরিষদ/সংসদ)

(পূর্ব নাম- বাংলাদেশ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী জাতীয়করণ সংগ্রাম পরিষদ)

 

 

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ