দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত ফয়েজের পরিবারে আহাজারি থামেনি 

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৮, ৯:২০ পূর্বাহ্ন

মোহাম্মদ আলী, লক্ষ্মীপুর।।

জেলার রামগঞ্জে ১৭দিনেও পরিবারের আহাজারি থামেনি নিহত ফয়েজের বাড়িতে। বারবার জীবন ভিক্ষা চেয়ে বাঁচতে পারেনি দিন-মুজুর মোঃ ফয়েজ (২২)। শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যখন রক্ত ঝরছিলো তখন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভিতরে থাকা দূর্বৃত্তদের কাছে এমন অনেক আকুতি মিনতি কোনটাই নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি। এভাবে বলতে বলতে রক্ত ঝরতে ঝরতে ৮/১০ মিনিট পর সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ফয়েজ। ঘটনাটি ঘটে গত ৫ আগষ্ট বিকেল ৪টায় ঢাকাস্থ বাবু বাজার ওভার ব্রীজের নিচে। খবর পেয়ে বাবা আবুল হাসেম ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফয়েজকে উদ্ধার করে স্থানীয়দের সহায়তা নিয়ে ফয়েজকে ঢাকা শ্যামলী হৃদরোগ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। কর্তব্যরত ডাক্তার ফয়েজের অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত আইসিইউতে নিয়ে যায়। তিনদিন পরে ৯ আগষ্ট রাত ১১টায় ফয়েজের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। পরে ১০ আগষ্ট সকালে ফয়েজের লাশ রামগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে পৌছঁলে এক হৃদয় বিধারক পরিস্থিতির সৃষ্টি। একই দিন বিকেল ৩টায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য ৫ আগষ্ট ঢাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনে ঢাকা বাবু বাজার ওভার ব্রীজের নিছে ছাত্রলীগ নেতা মনে করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস পরা দূর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান ও ডান হাত হাত কেটে দেয়। সোমবার সকালে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা ৫নং চন্ডিপুর ইউনিয়নের দক্ষিন হরিশ্চর উরিচ্ছার বাড়িতে গেলে নিহত ফয়েজের বাবা মা সহ পরিবারের লোকজন আহাজারি করতে করতে এসব কথা বলেন। মা সামছুন নাহার ছেলের শোকে কিছুক্ষন পর পরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। শান্তনা দেওয়ার কোন ভাষাই খুজে পাচ্ছে স্থানীয় গ্রামবাসী ও বাড়ির লোকজন। ফয়েজ ওই বাড়ির দিন-মুজুর আবুল হাসেমের ছেলে। চার ভাই বোনের মধ্যে ফয়েজ ৩য়।

স্থানীয় ও ফয়েজের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের দক্ষিন হরিশ্চর উরিচ্ছার বাড়ির দিন মুজুর আবুল হাসেম তার ছেলে ফয়েজের শরীরের বিভিন্ন অসুস্থতার কারনে মোঃ ফয়েজকে নিয়ে ৫ আগষ্ট ভোরে লঞ্চ যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরে দুপুরে সদরঘাঁট পৌছে ঢাকা মিটর্পোট ১৭ ডিসি রায় রোডস্থ ঢাকা হাসপাতালে নিয়ে যায়। ডাক্তারী পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ফয়েজের বাবা আবুল হাসেম তাকে হাসপাতালে বসিয়ে বাহিরে ঔষধ কিনতে যায়। বিকেল প্রায় ৪টায় ফয়েজ ছাত্রদের মিছিলের আওয়াজ শুনে বাবু বাজার ওভার ব্রীজের নিচে দেখতে যায়। এসময় ছাত্র ও পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে ফয়েজ দৌড়ে ছাত্রদের সামনে এসে পড়ে। ওই সময়ই ফয়েজকে ছাত্রলীগ নেতা মনে করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভিতরে থাকা স্কুল ড্রেস পরা একদল দূর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান ও ডান হাত হাত কেটে ফেলে।
নিহত ফয়েজের বাবা মোঃ আবুল হাসেম জানান, আমার নিরাপরাধ ছেলে বাঁচার জন্য বহু আকুতি মিনতী করেছিল। কিন্তু মানুষরুপী পশুরা এতো নির্মমভাবে ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি অনেক বৃদ্ধ হয়ে গেছি। মনে বড় আশা ছিলো ছেলে বড় হয়েছে। আয় রোজগার করে পরিবারের অভাব অনটন দুর করবে। তবে ওই ওভার ব্রীজের আশপাশে অনেক সিসি ক্যামেরা রয়েছে। ওখান থেকে ওই সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে আমার ছেলে হত্যার বিচার দাবি করছি এবং এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আ.ক.ম রুহুল আমিন জানান, নিরাপরাধ ছেলেটাকে এভাবে কুপিয়ে হত্যার বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখজনক। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। বিষয়টি সরকারের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ তদন্ত করে ওই হত্যাকারীদের বিচার দাবিসহ দুস্থ পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো উচিত।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ