শাহনেওয়াজ সুমন, ঝিনাইদহ।।
মহেশপুরের পর এবার সোনা পাচারের ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহ মাগুরার সীমান্তে। দুইটি প্রাইভেট কারের মধ্যে একটি থেকে ৪০ ভরি সোনার বার উদ্ধার করেছে ঝিনাইদহ পুলিশ। বাকী একটির হদিস মেলেনি। এ নিয়ে প্রশাসনে ব্যাপক হৈ চৈ শুরু হয়েছে।
পুলিশ ১৩ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার বিকালে শ্রীকান্ত পাল (৪০) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে। আটককৃত শ্রীকান্ত পাল মুন্সীগঞ্জ জেলার বাসাইল গ্রামের সুব্রত পালের ছেলে। ঢাকা তাতীবাজার থেকে স্বর্ণ এনে ভারতে পাচার করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে ঝিনাইদহ-মাগুরা সড়কের পোড়াহাটী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে দাবী করা হচ্ছে। জানা গেছে, দুটি প্রাইভেট কারে সোনার একটি বড় চালান মাগুরা হয়ে ঝিনাইদহে আসছিলো। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ঝিনাইদহের হাটগোপালপুর বাজারে পৌছালে সাদা পোশাকের লোকজন গাড়িটি আটক করে নিরুদ্দেশ হয়। ওই গাড়িতে সোনার বড় চালান ছিল বলে মানুষ জল্পনা কল্পনা করছে।
ঘটনার সময় সাদা পোশাকে পুলিশ ছিল নাকি অন্য কেও ছিল তারও তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ জানান, আমরা এক সাংবাদিকের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে একটি প্রাইভেট কারসহ একজনকে আটক করি। ওই প্রাইভেট কারে ৪০ ভরি সোনা পাওয়া যায়। তিনি বলেন এর আগে হাটগোপালপুর এলাকায় সাদা পোশাকে অপর একটি গাড়ি কে বা কারা নিয়ে চলে যায়। সেটি মাগুরার পুলিশ বা যে কেও হতে পারে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন বিষয়টি নিয়ে পুলিশ অনুসন্ধান করছে। প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানান, দুইটি প্রাইভেট কার ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকায় তারা ঘোরাঘুরি করতে দেখেছে। সে সময় সিলভার কালারের প্রাইভেট কার দুইটির নাম্বার প্লেট কাদা দিয়ে ঢাকা ছিল। সঙ্গে ছিল সাদা পোশাকের লোকজন। থানায় আনার সময় দেখা গেল গাড়ির নাম্বার প্লেট ফর্সা। ঝিনাইদহ শহরের কোন স্থান থেকেই এই সোনা গায়েবের ঘটনা ঘটতে পারে। কারা এই বৃহৎ সোনা গায়েব করলো তা তদন্ত হওয়া দরকার বলে অনেকেই মত দিয়েছেন। উল্লেখ্য ইতিপুর্বে মহেশপুরে একটি পরিবহনে ডাকাতি ও পরিবহন থেকে সাদা পোশাকে সোনা গায়েব করা নিয়ে ওসিসহ ১২ পুলিশ ক্লোজ হয়। ঝিনাইদহ ডিবির ওসিসহ একটি টিম সম্প্রতি একযোগে বদলী করা হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতে সোনা উদ্ধার নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হলো।
You must be logged in to post a comment.