ঝিনাইদহে ভোটের আমেজ আসতে আর কত দেরি ?

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৮, ৮:২৪ অপরাহ্ন

শাহনেওয়াজ সুমন, ঝিনাইদহ।।

ভোটের দিনক্ষন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ঝিনাইদহের ৪টি নিার্বচনী এলাকায় বাড়ছে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি। তবে এই রুদ্ধশ্বাস কেবলই নিজ নিজ দলের চুড়ান্ত প্রার্থী ঘোষনার মুহুর্ত পর্যন্ত। ফলে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এখনো চোখে পড়ছে না নির্বাচনী উত্তাপ। নেই ভোটারসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আমেজ। সর্বত্রই যেন আতংক বিরাজ করছে। একদিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামীলীগের বঞ্চিত নেতাকর্মীদের হতাশা ও অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রার্থী পেয়েও ভোটের মাঠে নামতে না পারার আকাংখা নিয়ে দিন পার করছে বিএনপিসহ শরীক দলের নেতাকর্মীরা। ফেরারী ও জেল জীবন, একাধিক মামলা, আদালতে হাজিরা দিতে দিতে সময় পার করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র দাখিল করার পরই মাঠ সরগরম হয়ে উঠবে। এদিকে আওয়ামীলীগ জেলার ৪টি নির্বাচনী আসনেই প্রার্থী ঘোষনা করেছে। ঝিনাইদহ-১ আসনে দলীয় নমিনেশন তুলে দেওয়া হয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল হাইয়ের হাতে। এই আসনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নায়েব আলী জোয়ারদার ও বিশ্বাস বিল্ডার্সের কর্নধর দুলাল বিশ্বাসের নাম আলোচনায় ছিল। ঝিনাইদহ-২ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি পেয়েছেন দলীয় মনোনয়ন।

জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন এই আসনটিতে আলোচনার শীর্ষে ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু ও সাবেক সংসদ সদস্য সফিকুল ইসলাম অপুর নাম। কিন্তু তারা দলীয় মনোনয়ন পান নি। ঝিনাইদহ-৩ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য এ‍্যাডঃ শফিকুল আজম খান চঞ্চল পেয়েছেন নৌকা প্রতিক। মহেশপুর কোটচাঁদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে শিল্পপতি সাজ্জাতুজ জুম্মা ও বর্তমান সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ মনোনয়ন দৌড়ে ছিলেন। ঝিনাইদহ-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার পেয়েছেন নৌকা প্রতিক। এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। কিন্তু তিনি দলীয় রাজটিকা পরতে পারেন নি। জেলার ৪টি আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামীলীগের প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের বিশাল কর্মী বাহিনীর মধ্যে দেখা দিয়েছে শোকের ছায়া।

প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে এই ভেবে অনেকে এখনো হাল ছাড়েন নি। প্রার্থী ঘোষনার আগে আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গদলের প্রাণবন্ত মুখগুলো যেমনটি ছিল, এখন সেই মুখে মলিনের ছাপ। মিছিল মিটিং থেমে গেছে। শহরের নেই আগের মতো কোলাহল। দলীয় নেত্রীর নির্দেশ মেনে মনোনয়ন প্রাপ্তরাও আনন্দ উল্লাস বন্ধ রেখেছেন। এদিকে বিএনপি প্রতিটি আসনে দুই জন করে প্রার্থীর নাম ঘোষনা করেছে। মঙ্গলবার উচ্চ আদালতের রায়ে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মসিউর রহমান ও আব্দুল ওহাবের নির্বাচন করার পথ রুদ্ধ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঝিনাইদহ-১ আসনে এড আসাদুজ্জামান ও ঝিনাইদহ-২ আসনে এড এম এ মজিদ মনোনয়ন পেতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে ঝিনাইদহ-৩ আসনে কন্ঠ শিল্পী মনির খান ও ঝিনাইদহ-৪ আসনে সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে আগে থেকেই সিগন্যাল দিয়ে রেখেছে হাইকমান্ড। সব মিলিয়ে ঝিনাইদহের নির্বাচনী পরিবেশ এখনো ঝিমিয়ে আছে। প্রার্থীরা মাঠে নামলেই সরগরম হতে পারে বলে এমনটি মনে করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এদিকে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসার রোকনুজ্জামান জানান তফসিল ঘোষনার পর থেকেই আমরা কাজ করছি। ভোট গ্রহনের জন্য সারা জেলায় ৮৪৩৩ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। সেই কাজও শেষ পর্যায়ে বলে তিনি জানান।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ