ঝিনাইদহে পুলিশ ও আ’লীগ নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা দিচ্ছে

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩:১৯ অপরাহ্ন
আমার নেতাকর্মীরা ভীত সন্ত্রস্ত। তারা বাড়ি ঘুমাতে পারছেন না। ভোট চাইতে পারছেন না। এজেন্ট হতে পারে এমন কর্মীদের বাড়ি পুলিশ পাঠানো হচ্ছে.....

শাহনেওয়াজ সুমন, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ।।

ঝিনাইদহ-২ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ তার নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতিকে ‘নাজুক ও ভয়াবহ’ উল্লেখ করে সাংবাদিক সম্মেলন করেন।

গত সোমবার দুপুরে শহরের কলাবাগানপাড়ার নিজস্ব বাসভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন রেখে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মজিদ বলেন, তার নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যেভাবে গ্রেফতারের হুমকি দিচ্ছে, তাতে সবার মাঝেই প্রশ্ন উঠেছে। প্রার্থী কি আওয়ামী লীগের নাকি প্রশাসনের?

তিনি লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণে আমার নেতাকর্মীরা ভীত সন্ত্রস্ত। তারা বাড়ি ঘুমাতে পারছেন না। ভোট চাইতে পারছেন না। এজেন্ট হতে পারে এমন কর্মীদের বাড়ি পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী তাহজীব আলম সমি সিদ্দিকী তার ব্যক্তিগত লোকজন দিয়ে সশস্ত্র মহড়ার মাধ্যমে গত রবিবার রাতে প্রকাশ্যে আমার নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও আমার নেতাকর্মীদের বেদম মারধর করেছে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিসে বসে পৌর আওয়ামীলীগ নেতা বাবু জীবন কুমার বিশ্বাসের নির্দেশে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নামধারী যুবলীগ নেতা পবহাটি গ্রামের দিপুল, কেসি কলেজের ছাত্রলীগ নেতা সুমন, কাঞ্চনগরের যুবলীগ নেতা ইমরান, ছাদ, সাব্বির, দ্বীপ এবং পবহাটির ইউসুফ ও স্বাধীনসহ অন্যান্যদের নেতৃত্বে আমার অফিস হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

এ সময় তারা আমার ১২/১৫ জন নেতাকর্মীকে বেদম মারধর করে। খবর পেয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসনাত সাহেব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আমার অফিসে হামলার কিছুক্ষণ পরই পুলিশ প্রটেকশনে সশস্ত্র মিছিল বের করে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর কর্মীরা। মিছিলে ‘ধর ধর বিএনপি ধর, ধরে জবাই কর’ এ ধরণের কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে তারা শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এ সময় পুলিশ প্রশাসনের নীরবতা অত্যন্ত দুঃখজনক ও রহস্যজনক। এমনকি জেলা রির্টানিং অফিসারের পক্ষ থেকে এখনো নজীর স্থাপনের মতো কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহের পূর্বাঞ্চলের আওয়ামীলীগের নেতা পোড়াহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হিরন, দোগাছি ইউয়িনের সাবেক চেয়ারম্যান ফয়জুল্লাহ ফয়েজ, পদ্মাকরের সাবেক চেয়ারম্যান বিকাশ বিশ্বাস, হরিশংকরপুর ইউনিয়নের ফরিদ উদ্দিন, হলিধানীর আব্দুর রশিদ মিয়া, মধুহাটীর জুয়েল ও সাধুহাটীর কাজী নাজির উদ্দীন জনসংযোগের নামে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।

তারা বিএনপি নেতাকর্মীরা যাতে ভোট সেন্টারে না যায় তার জন্য হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। দুর্গাপুর গ্রামে আজাদের ছেলে মশিয়ার ও আনোয়ারের ছেলে মফিজকে মারধর করা হয়েছে। বাজারগোপালপুরে বিএনপি নেতা তুহিন আক্তার লালের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মজিদ লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সরকারি অফিস ঝিনাইদহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয় নৌকা মার্কার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ঝিনাইদহ-২ আসনের এমপি তাহজীব আলম ক্ষমতায় থাকাকালিন এখানে কোন উন্নয়ন করতে না পারায় নিজ দলের কাছেই তিনি গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পথ বেছে নিয়েছেন। যা শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অন্তরায়।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমরা কর্তৃপক্ষকে অবগতসহ দেশবাসীকে জানাতে চাই, আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থী এই সভ্য যুগে আফ্রিকার জঙ্গলের হিংস্র পশুর মতো আচরণ করে নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু  নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরিবেশকে অশান্ত করতে চাচ্ছেন যা, আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ সাংবাদিক সম্মেলনে আসন্ন সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে যে সব পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রশাসনের লোকজন বিতর্কিত ভূমিকায় অবতীর্ণ তাদের দ্রুত প্রত্যাহারের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে দাবি জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আব্দুল আলীম, পৌর বিএনপির সভাপতি জাহিদুজ্জামান মনা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, এনামুল হক মুকুল, সাবেক ছাত্রনেতা আশরাফুল ইসলাম পিন্টু, ইবির ছাত্র নেতা শাহেদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদৃষ্টি/এলিস হক

 

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ