দেখা যায় সড়কের কাপাসাটিয়া (ডাকপার) খালের ওপর প্রায় ২০ মিটার লম্বা এবং ১০ মিটার প্রস্থ বড় কালভার্ট নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। ঝিনাইদহ সার্কিট হাউসের কাছে রাস্তা ও বেড় দেবে গেছে। রাস্তা নির্মানে বেহাল চিত্র দেখে মানুষ হা-হুতাশ করছে। ঝিনাইদহ সওজ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে হরিণাকুন্ডুু উপজেলা শহরের মোড় পর্যন্ত প্রায় ২১ কিলোমিটার সড়ক মেরামত ও সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সড়কটি নির্মাণ করতে এডিবির বরাদ্দ থেকে ৪২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। র্যাব আরসি ও মেসার্স জহিরুল ইসলামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করতে যৌথভাবে নির্বাচিত হয়। সিডিউল মোতাবেক সড়কটির ১২ ফুটের জায়গায় ১৮ ফুট প্রশস্তকরণসহ পিচ কার্পেটিংয়ের সঙ্গে ১৭টি ছোট এবং একটি বড় কালভার্ট নির্মাণ করার কথা। সেই সঙ্গে সড়কের দু’ধারের সোল্ডারে ৩ ফুট প্রশস্ত করে মাটি ভরাট করে রোড মার্কিং চেক (এক ধরনের পিলার) দেয়ার কথা। পৃথক ৩টি প্যাকেজে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি শেষ করার জন্য নির্বাচিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যমতে গত বছরের মে মাসে কাজটি শুরু করা হয়। প্রথম থেকেই ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ে। নিম্নমানের ইট-বালু খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে এমন অভিযোগে ওই বছরের ৮ আগস্ট হরিণাকুন্ডুর মথুরাপুর গ্রামবাসি কাজটি বন্ধ করে দেয়।
হরিণাকুন্ডুর তৎকালীন ইউনও মনিরা পারভিন ও কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান জোয়ারদারের মধ্যস্থতায় কাজটি শুরু করেন ঠিকাদারের লোকজন। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও সময় বাড়িয়ে ২০১৮ সালের ৩০ জুন করা হয়। তারপরও বর্ধিত সময়েও কাজটি শেষ হয়নি। এ জন্য ঠিকাদারকে শাস্তির মুখোমুখি না করে উপরন্ত তাকে বিধি বহির্ভুত ভাবে কাজ শেষের আগেই বিল দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই রাস্তার দায়িত্বে থাকা এসও ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গত ৩০ জুন চূড়ান্ত বিল বাবাদ ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঠিকাদারকে পরিশোধ দেখানো হয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে এ ধরনের কাজ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একই বিভাগের এসডি তানভীর আহমেদ বলেন, কাজ শেষ না হলেও টেকনিক্যাল কারণে ঠিকাদারকে চূড়ান্ত বিল প্রদান করা হয়েছে। এর জন্য চাপে পড়েছেন তারা। অভিযোগ করা হয়েছে যথা সময়ে কাজটি শেষ না হলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠনের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং গোপনে খাতাপত্রে কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করা হয়েছে।
এছাড়া গত জুনে ৫০ হাজারের নিচে ডিপিএম দেখিয়ে ৩৪টি, এক লাখের নিচে দেখিয়ে ৪০ টি ও ৫ লাখের কম দেখিয়ে ৪টি আরএফকিউ টেন্ডার করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই কাজের সাথে ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, এসডি ও কয়েকজন উপসহকারী প্রকৌশলী জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। খুলনার মোজাহার এন্টার প্রাইজের নামে পাথরকুচি, ইট ও বালি সাপ্লাইয়ের কাজ দেখিয়ে ৪০ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।