ঝিকরগাছার বাঁকড়ারার এলাকাবাসী নানা অজুহাতে লকডাউন মানছেন না

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২০, ৯:৫০ অপরাহ্ন

আব্দুল জব্বার।।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া এলাকার মানুষকে কোনভাবেই ঘরে রাখা যাচ্ছে না। প্রশাসনের কড়া নজরদারী উপেক্ষা করে বিভিন্ন অজুহাতে তারা ঘরের বাইরে যাচ্ছে। ঘুরে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন হাট-বাজার ও দোকানে।

জানা যায়, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় বড় বাজারগুলো স্থানান্তর করা হয়েছে। সাপ্তাহিক হাট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার জন্য বারবার মাইকিং করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশ মোতাবেক উপজেলার সকল মসজিদের ওয়াক্ত নামাজে ৫ জন, জুম্মার নামাজে ১০ জন এবং তারাবির নামাজে ১২ জন মুসালি নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝটিকা অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা থাকার পরও সাধারন মানুষের মাঝে সরকারি নিয়মনীতি মানছে না বাঁকড়ার এলাকা বাসী।

শনিবার উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাজার বাঁকড়া হাট বসে। এই হাটে বাঁকড়া, হাজিরবাগ, নির্বাসখোলা, শংকরপুর, মণিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর, ঝাঁপা, মশ্মিমনগর এবং কলারোয়া উপজেলার কিছু অংশের হাজার হাজার মানুষের জনসমাগম ঘটে। এই জনসমাগম রোধে ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা প্রশাসন কাঁচা বাজার ও মাছ বাজার স্থানান্তর করেন জে.কে হাই স্কুল মাঠে। বাজারের দোকান বন্ধ রাখার জন্য কয়েকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় এবং সেনাসদস্যরা লাঠি চার্জ করেছে। কিন্তু কোন কিছুতেই যেন মানুষের মাঝে  বাজার বর্জনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। শনিবার সকালে সরোজমিনে যেয়ে দেখা যায়, বাঁকড়ার চার রাস্তার মোড়, ব্রীজের মোড়, পাঁচরাস্তার মোড়, কাপুড়িয়া পট্টি, তরকারী ও মাছ বাজারে হাজার হাজার মানুষের জনসমাগম ও মিলন মেলা। মনে হচ্ছে সবাই আনন্দের সাথে ঈদের বাজার করতে এসেছে।

এদিকে দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শনিবারের ফলাফল অনুযায়ী প্রথম ঝিকরগাছা উপজেলায় দুজন স্বাস্থ্যকর্মী সহ চারজনের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে। তারপরও মানুষ সেনাবাহিনী পুলিশের সাথে চোর-পুলিশ খেলা করছে। যখন প্রশাসনের লোক আসছে, তার আগে থেকে মোবাইলের মাধ্যমে খবর পেয়ে যাচ্ছে। সেই সবাই দোকান বন্ধ করছে, সাধারন মানুষ পালিয়ে থাকছে। তারা চলে যাওয়ার পর আবারও দোকান খোলা হচ্ছে এবং বাজারে জনসমাগম পূর্বের মত বেড়ে যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ঝিকরগাছা বাজারগুলোতেও একই অবস্থা।

বাজারগুলোর অবস্থাও যেমন, তেমনভাবে গ্রামের মসজিদগুলোতেও মুসল্লিদেরর চাপ বেড়ে গেছে। প্রায় অধিকাংশ মসজিদের মুসল্লিরা সরকারি নিয়ম ও বাঁকড়ার প্রশাসনকেও মানছে না। বাড়িতে নামাজ আদায় না করে তারা মসজিদের দিকেই বেশি যাচ্ছে। তারাবির নামাজেও ব্যাপক মুসল্লিদের চাপ দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে বাঁকড়া বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি ডা. মোস্তফা আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের এখনও সময় আছে করোনা প্রতিরোধ করার। সবাই যদি এক সাথে ঘরে অবস্থান করি ও সতর্ক থাকি, তাহলে করোনা সংক্রমিত হতে পারবে না। কিন্তু সাধারণ মানুষকে কোনভাবে বোঝানো যাচ্ছে না। প্রশাসনের এত চাপ থাকার পরেও কেন মানুষ বোঝছে না এটা আমার বোধগম্য নয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমী মজুমদার বলেন, আমাদের উপজেলা প্রশাসন সার্বিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সবাইকে ঘরে রাখার জন্য সকলভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। সবাইকে সারাবিশ্ব ও দেশের অবস্থা বুঝতে হবে। প্রশাসনের সাথে চোর-পুলিশ খেলা খেলে ক্ষতি ছাড়া কোন লাভ নেই। নিজের পরিবার এবং দেশ ও জাতির জন্য আমাদের সবাইকে সরকারি আইন মেনে চলা উচিত, তা না হলে অবস্থা খুবই ভয়াবহ হবে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ