জাকির হোসেন, শার্শা, যশোর।।
হীরা ব্রিকস উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার অমান্য করে অবৈধ ভাবে এবছর আবারও তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের কুন্দিপুর গ্রামের হীরা ব্রিকসের কার্যক্রম চালু হওয়ায় এলাবাসীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী জানতে চাইছেন আদালত অবমাননা করা হচ্ছে এ ঘটনা জানার পরেও প্রশাসন কেন কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছে না।
বহুল আলোচিত এই ইট ভাটাটি প্রশাসন একাধিকবার বন্ধের নির্দেশ ও দফায় দফায় জরিমানা আদায় করলেও চলতি মৌসুমে আবারও ইট প্রস্তুত কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারী উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) ভাটার কার্যক্রম বন্ধের জন্য নির্দেশনা দেয়। যার স্মারক নং-০৫.৪৪.৪১০০.০০৯.০৩.০০১.২০১৮-৪৮।
সেখানে গেলে দেখা যায় কুন্দিপুর গ্রামে গড়ে উঠা হীরা ব্রিকসের খুব কাছেই রয়েছে কুন্দিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রয়েছে জনবসতিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ইট ভাটার স্থানসহ এর চার পাশে রয়েছে ৩ ফসলী জমি। যার ফলে পরিবেশ অধিদপ্তর হীরা ব্রিকসের অনুমতি বা লাইসেন্স প্রদান করেন নি। এক পর্যায়ে ভাটা মালিক রফিকুল ইসলাম স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ভাটার কার্যক্রম চালু করলে স্থানীয় সচেতন মহল একাধিকবার অভিযোগ করেন জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে।
ফলে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা দু’দফায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভাটাটি বন্ধসহ জরিমানা আদায় করেন। এরপর ভাটা টি কিছুদিন বন্ধ থাকলেও চলতি মৌসুমে ভাটার কার্যক্রম অবৈধ ভাবে আবারও শুরু করেছে। এমতাবস্থায় আবারও চরম হতাশা বিরাজ করছে স্থানীয় সচেতন মহলে। উচ্চ আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞায় কর্ণপাত করছে না ভাটা মালিক রফিকুল ইসলাম ও আব্দুল গফুর টিটু।
এলাকাবাসী আবারও জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরে ভাটাটি বন্ধের জন্য আবেদন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্দেশনায় জানা যায়, (৩) ফসলী জমিতে এবং স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার ১ কিলোমিটারের মধ্যে কোন ইটভাটা তৈরী করা যাবে না। সেখানে ভাটার পাশে সকল জমি ৩ ফসলী এবং তার পাশের জমি থেকে আবাসিক এলাকা শুরু, তাছাড়া ৪০ গজ দূরে কুন্দিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৭০ গজ দূরে করিমালী এ কে আলিম মাদরাসা অবস্থিত।
যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের ২২.০২.৪০৪১.২৯৯.২৭.০০১.৪০৫ নং স্মারকে ভাটা বন্ধের ইস্যুকৃত একটি পরিপত্রে বলা হয়েছে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ এর ৮ (৩) (ঙ) ধারা মোতাবেক ইটভাটাটি নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থিত। বলা হয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ ও বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭ এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আইনের এত বিধি নিষেধ থাকার পরও কিভাবে আবারো নিষিদ্ধ ঘোষিত হীরা ব্রিকস তাদের কার্যক্রম চালু করল তা কাহারও বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কুন্দিপুর গ্রামের মানুষ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাভারণ পুরাতন বাজারের আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘হীরা ব্রিকসের কোন কাগজ পত্র নেই। প্রতি সপ্তাহে দেখি প্রশাসনের লোক আসছে ভাটার অফিসে, ভূড়ি ভোজ শেষে হাজার হাজার টাকা নিয়ে বলে যাচ্ছে কার্যক্রম চালিয়ে যাও, আমরা তোমার সাথে আছি। নাভারণ ৭নং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় ভাটা মালিক পার পেয়ে যাচ্ছে।’
কুন্দিপুর গ্রামের মাসুদুর রহমান বলেন, ‘গত ২ ফেব্রুয়ারী যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হুসাইন শওকত স্বাক্ষরিত এক পত্রের আলোকে ঝিকরগাছা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ইট ভাটার সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে যায়। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই কিভাবে ৯ মাসের মাথায় অবৈধ ভাবে আবারও কার্যক্রম চালাচ্ছে এলাকাবাসীর বোধগম্য নয়। সবাই বলছে প্রশাসন লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে এ কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। টাকার কাছে সাধারণ মানুষের জীবনের কোন দাম নেই।’
হীরা ব্রিকসের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাইকোট থেকে আমাদের বিরুদ্ধে আগে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটা ঠিক করেই ভাটা চালু করেছি। ভাটা কিভাবে চলছে এটা যশোরের ডিসি সাহের জানেন। আপনারা ডিসি অফিসে গিয়ে খোঁজ নেন। ঝিকরগাছা উপজেলায় যতটা ভাটা আছে কারও পরিবেশ অধিদফতরের কাগজ নেই। সবাই যে ভাবে ভাটা চালাচ্ছে আমিও সেই ভাবে চালাচ্ছি। কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছি কাগজপত্র ঠিক না থাকলে কি করা যায়।’
যশোর পরিবেশ অধিদফতরের ইনচার্জ শেখ নাজমুল হুদা বলেন, ‘হীরা ব্রিকসের কোন ছাড় পত্র নাই। তবে হাইকোটে রিট আছে। আমার অফিসের ইন্সপেক্টর ভাটা তদন্তে গিয়েছিল। সেখান থেকে সে কোন টাকা নেয়নি। টাকা নিলে ৩০ হাজার কেন ৩০ লাখ নেব। তবে ভাই এসব রিউমার্ক ছড়িয়ে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার দরকার নেই।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হীরা ব্রিকসের কোন কাগজপত্র নাই। হাইকোটের একটি আদেশে তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
You must be logged in to post a comment.