যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় বেশ কয়েক বছর পূর্বে যেখানে চুরি-ছিনতাই কাজে ব্যস্ত শহর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বর্তমানে সোনার বাংলা রূপ নেওয়া প্রথম ডিজিটার শহর যশোর। আর এই যশোর জেলার মধ্যে একটি ঝিকরগাছা পৌরসভা। আর এই পৌরবাসীর মধ্যে এখন মশার উৎপাতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রাত্রে তো বটেই, দিনেও মশার আক্রমণ থেকে কোন ভাবেই রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ দিনের বেলায়ও মশারি টানিয়ে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত, অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে সর্বত্র মশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কোথাও একদন্ড স্বস্তিতে কাজ করা যাচ্ছে না। মশা নিধনে পৌরসভার কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পাড়া-মহল্লায় মাঝে মাঝে বিকট শব্দের ফগার মেশিনে ওষুধ ছিটানো হলেও শব্দ দূষণ ব্যতীত তেমন কোনো কাজ হয় না। বরং মশা এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস না করে এভাবে ধোঁয়া দিয়ে মশা নিধন করা যে সম্ভব নয়, তা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তাছাড়া যেসব ওষুধ ছিটানো হয়, তাতে ভেজাল রয়েছে বলেও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠে। অথচ পৌরসভায় মশা নিধনের জন্য অনেক অর্থই বরাদ্দ থাকে। সেটাতে যে কোনো লাভ হয়নি বা হচ্ছে না, তা মশা নিধন কার্যক্রমে শৈথিল্য থেকে বোঝা যায়। তবে ক্রমাগতই ‘মশা রোমান্টিক গান শোনাচ্ছে’ কানের কাছে এবং সারা শরীরে মশার তীক্ষ ইনজেকশনের আঘাতে চুলকানী ঘা নামক এক ধরনের পাচড়া দেখা দিচ্ছে। অনতিবিলম্বে মশা নিধন কার্যক্রম শুরু করা না হলে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। এ বিষয়ে অতিদ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় নিতে এলাকার সচেতন মহল দাবী জানিয়েছেন।
পৌর সদরের স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সেবা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি চৌধুরী আশরাফুজ্জামান বাবু মাস্টার বলেন, মশার গুন গুন গান ও কামড়ে পৌরবাসীর জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। মশার উৎপাতে ঠিকমত কাজকর্ম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। আমি ঝিকরগাছা পৌরবাসীর পক্ষ হতে পৌর মেয়রের নিকট অবিলম্বে মশা নিধন কার্যকম পরিচালনা করার দাবী জানাচ্ছি।
পৌরসভার মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল জানান, ইতিমধ্যেই পৌরসভায় মশা নিধনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে । প্রথম অবস্থায় পৌরসভার অন্তর্গত সকল ড্রেনে কাজ চলছে এবং অচিরেই সব ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মশা নিধন কাজ শুরু হবে।
You must be logged in to post a comment.