প্রদীপ কুমার দেবনাথ।।
দক্ষ, সৎ, আদর্শ, উন্নত, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল বজায় রেখে জনশক্তি তৈরি করতে শিক্ষক দরকার। আর জাতীয়করণের অভাবে মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষকতা করতে চাচ্ছেন না। কারণ, স্বল্প বেতন, অভাব – অনটন এসব যুব সমাজ কখনও গ্রহণ করবেনা। তাদের চিন্তা চেতনা অনেক উপরে। আমাদের মত আদর্শ পেশা ভেবে শিক্ষকতা করার মানসিকতা তাদের নেই।
বর্তমান শিক্ষকতায় যে বেতন, তাতেতো নুন আনতে পানতা ফুরোয়। কেন আসবে তরুণ, উচ্চ শিক্ষিত ভাল বংশের সন্তানরা?? সারাজীবন না খেয়ে থাকার জন্য? পরিবারে সবচেয়ে আর্থিক দুর্বল ব্যক্তি হয়ে অসহায়ের মতো থাকার জন্য? সন্তানদের চাহিদার সিকি ভাগও না পূরণের জন্য? সাধারণ মানুষের লাঞ্ছনা বঞ্চনার সহিবার জন্য? অযোগ্য, মূর্খদের পন্ডিতি দেখার জন্য? কমিটি নামক বিষফোঁড়াদের উৎপাত সহ্য করার জন্য?
না, আসবেনা মেধাবীরা। আসবে কারা অসহায়রা। যারা লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে চাকরি করতে পারবেনা। আর একজন অসহায় ব্যক্তি মনপুত চাকরি না হলে যা আছে তা চালিয়ে যাবে, তবে কোনরকমে। এহেন অবস্থায় জাতি বঞ্চিত হবে তাদের সন্তানদের পরিপূর্ণ শিক্ষিত মানুষ হিসেবে পেতে, দেশ বঞ্চিত হবে যোগ্য নাগরিক পাওয়া থেকে, সমাজ বঞ্চিত হবে মেধা-মননে, আদর্শ – নৈপূন্যে, সৃজনশীল মানুষ পাওয়া থেকে।
ফলে মেধা-মননহীন অসার জাতি নিয়ে বর্তমান জ্ঞান -বিজ্ঞানে উন্নত বিশ্বে অদক্ষ মনুষ্য বোঝায় পরিণত হবে আমাদের এই বীর বাঙ্গালীরা।
অথচ বাস্তবমুখী শিক্ষা, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আদর্শ শিক্ষায় ভরপুর পরিপূর্ণ মানবশক্তি তৈরি করা যায় একটু সদিচ্ছা থাকলেই।
শিক্ষার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে মাধ্যমিক শিক্ষাটি ভালভাবে সম্পন্নের মধ্য দিয়েই।
শিক্ষার এই স্তরটিকে আমলা, কথিত বুদ্ধিজীবিরা অত্যন্ত সতর্কভাবে আলাদা, গুরুত্বহীন করে রেখেছে কোন এক অজানা স্বার্থে। এরা জাতিকে মেরুদন্ডহীন করে রাখতে চায়।
তাই, জাতিকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে, মেধাবীদের শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করতে, সুস্থ – সুন্দর – আদর্শ সমাজ তথা রাষ্ট্র বিনির্মানে মাধ্যমাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ এখন অত্যধিক প্রয়োজন।
বছরের পর বছর অযথা প্রশিক্ষণের নামে হাজার কোটি টাকা খরচ, প্রয়োজনহীন ভবন তৈরি, অবাস্তব পরিকল্পনায় হাজার কোটি টাকা ব্যয় না করে শিক্ষার মূলখাতে এই টাকাগুলো ব্যয় করুন।
দেখবেন জাতীয়করণ হাতের ময়লা মাত্র। তাছাড়া প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার নিজস্ব ফান্ড আছে ঐ ফান্ডের টাকাগুলো সরকারি খাতে নিন, দেখবেন জাতীয়করণে সরকারের একটি পয়সাও লাগবেনা।
এইমহুর্তে জাতীয়করণ ছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত করার অন্য কোন বিকল্প নেই। আইন করে শিক্ষকদের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, কিন্তু তাদের মন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখেন কি ????
তাই, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আপনি মন্ত্রীসভায় আসার পর শিক্ষকরা আশায় বুক বেঁধে আছে যে, জাতীয়করণের ঘোষণাটি হয়ত মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষাক্ষেত্রে প্রথম বৈপ্লবিক কাজ হতে যাচ্ছে।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আপনি হয়তবা ভুল মানুষ দ্বারা পরিবেষ্টিত। নয়ত, ৪% কর্তণের সুফলের তুলনায় কুফলগুলো আপনার নজর এড়াতনা। একজন শিক্ষক অবসরের পরে কতটুকু কষ্ট করে তার কল্যাণট্রাস্ট ও অবসরভাতা উত্তোলন করেন তার কোন বর্ণনা দেওয়া সম্ভব নয়। হাজার দুর্ভোগের পরেও মৃত্যুর আগে টাকা উত্তোলন অনেকের ভাগ্যেই জুটেনা। নিঃস্ব, শূন্য হাতে তাঁর বিদায়ের পর পরিবারকে গ্লানি টানতে হয়।
তাই ট্রাস্টের অদ্ভুত কর্মকান্ড রহিত করে পরিপূর্ণ পেনশন প্রথা চালু করার জন্য বিনীত প্রার্থনা জানাচ্ছি।
আসলে, সকল সমস্যার সমাধান কেবল জাতীয়করণই দিতে পারে। তাই, জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে শিক্ষকদের দুশ্চিন্তা দূরকরুন ও শিক্ষকদের সুস্থ মস্তিষ্কে ১০০% শিক্ষকতার সুযোগ করে দিন।
এতে শিক্ষার্থীরা পাবে সঠিক শিক্ষা আর দেশ পাবে তাদের কাঙ্খিত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
লেখক: সহকারী প্রধান শিক্ষক
ফান্দাউক পন্ডিতরাম উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ও সাংগঠনিক সম্পাদক, চট্টগ্রাম বিভাগ, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি।
You must be logged in to post a comment.