জন্ম-নিবন্ধন সনদ দিয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অজয় কুমার ভাওয়াল, মোঃ রাহাত খান ও মোঃ জাকির হোসেন নামে দুই গ্রাম পুলিশ।
এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন ছয়গাঁও দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যক্তিরা।
স্থানীয় সরকার বিভাগ ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, জন্ম নিবন্ধন সংশোধনী পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা ও জন্ম তরিখ সংশোধনীর জন্য আবেদন সহ সর্বমোট নির্ধাণ করা হয়েছে ১০০-১৫০টাকা। কিন্তু ছয়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অজয় কুমার ভাওয়াল, গ্রাম পুলিশ রাহাত খান ও জাকির হোসেন তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তার চেয়ারে বসে, স্থানীয় সরকার বিভাগ এর নীতিমালা অমান্য করে ছয়গাঁও ইউনিয়ন বাসীদের কাছ থেকে প্রতিটি জন্ম-নিবন্ধন সনদ সংশোধনী ও অনলাইন বাবদ হাতিয়ে নিচ্ছে ৭০০-১০০০ টাকা।
সম্প্রতি কালে সরজমিন ঘুরে ছয়গাঁও দাখিল মাদ্রাসার নবম, দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ও স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগীদের সাথে আলাপ কালে তারা বলেন, জন্ম-নিবন্ধন সনদ সংশোধনী ও অনলাইন করানোর জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গেলে, পরিষদের সচিব অজয় কুমার ভাওয়াল, গ্রাম পুলিশ রাহাত খান , অনলাইনে আবেদন ও সংশোধনী বাবদ আমাদের কাছ থেকে ৭০০ থেকে ১০০০টাকা রাখেন।
এ ব্যাপারে ছয়গাঁও বাংলা বাজারের ব্যাবসায়ী ইয়াসিন পালোয়ান সহ একাধিক ব্যবসায়ীরা সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের গ্রামের দরিদ্র-হতদরিদ্র পরিবারের থেকে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রসার ছাত্র-ছাত্রীরা জন্ম-নিবন্ধন সনদ সংশোধনীর জন্য পরিষদে আসলে ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা চাইলে ছাত্র-ছাত্রীরা টাকা কম দেওয়ার জন্য আমাদেরকে সুপারিশ করতে বলেন, এ ব্যাপারে আমরা পরিষদে সুপারিশ করতে গেলে, সচিব সাহেব ও গ্রাম পুলিশ রাহাত খান আমাদেরকে বলেন পরিষদ চলবে কি ভাবে।
এ ব্যাপারে ছয়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অজয় কুমার ভাওয়াল (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুঠোফোনে বলেন, আমি এ ধরণের কোন কাজ করি না। আমার বিরুদ্ধে যারাই বক্তব্য দিয়েছে তারা সকলেই মিথ্যাবাদী। আমিই সত্যকথা বলছি।
ছয়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যান মীর মামুন মুঠোফোনে বলেন, আমি দীর্ঘদিন অসুস্থ এবিষয়ে আমি কোন কিছু জানিনা।
ভেদেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আল নাসীফ বলেন, ছয়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অজয় কুমার ভাওয়ালের অসদাচরণ সম্পর্কে আমি জেনেছি, তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
You must be logged in to post a comment.