চালু আর বন্ধের খেলায় মোবারকগঞ্জ চিনি কল

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
শনিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১১:২২ অপরাহ্ন
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম ও ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ সুগার মিল প্রায় ৩শ’কোটি টাকার ঋণ ও লোকসানের বোঝা নিয়ে বসবাস করছে.....

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ।।

ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনি কল (মেচিক) উদ্বোধনের পর ১৫ ঘন্টা আখ মাড়াই বন্ধ ছিল। গত শুক্রবার বিকাল ৪টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সুগার মিল ২০১৮-১৯ আখ মাড়াই মৌসুম শুরু হয়। ২ ঘন্টা পর সন্ধ্যা ৬টায় যান্ত্রিক ক্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়।

শনিবার সকাল ১১টায় মেরামত করে আবার আখ মাড়াই কার্যক্রম শুরু করা হয়। মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের কারখানা ব্যবস্থাপক শহিদুল হক জানান, উদ্বোধনের পরেই মিল হাউজের রিটার্ন ক্যারিয়ারে সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া বয়লারের ৪ নং টিউব লিক ধরা পড়ে। যার কারণে আখ মড়াই বন্ধ করে মেরামতের পর শনিবার ১১টায় আবার চালানো হয়।

তিনি আরো জানান, অনেক দিনের পুরানো এই সুগার মিলে যান্ত্রিক ত্রুটি হতেই পারে।

জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম ও ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ সুগার মিল প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা  ঋণ ও লোকসানের বোঝা নিয়ে গত শুক্রবার ৭ই ডিসেম্বর আখ মাড়াই মৌসুম শুরু করে। মিলের ইতিহাসে এই মৌসুমটি সুগার মিলের ৫২তম আখ মাড়াই মৌসুম।

এবার প্রায় ১ লাখ ৮হাজার ৪২৩ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৮ হাজার ১৩২ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সুগার মিল কর্তৃপক্ষের। চিনি আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭.৫০%। আর এ মৌসুমে ৮০-৮৫ দিন আখ মাড়াই করা হবে।

মিলে ১ হাজার শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর ২ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। বর্তমানে মিলের গুদামে পড়ে আছে ২ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন চিনি যার মূল্য ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়াও মিলে রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬৮৩ মেট্রিক টন চিটাগুড়। যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা।

গত ৫১টি আখ মাড়াই মৌসুমের মধ্যে সুগারমিলটি লাভের মুখ দেখে মাত্র ১৬টি মৌসুম। যার পরিমাণ ছিল মাত্র ৩৮ কোটি টাকা। আর ৩৫টি আখ মাড়াই মৌসুমে সুগার মিলটি সরকারের কাছে ঋণ ও লোকসান প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা।

লোকসান ও চিনি বিক্রি না হওয়ার কারণে মোবারকগঞ্জ সুগার এলাকায় আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা দিন দিন কমে যাচ্ছে বলেও শ্রমিকরা জানান।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের নলডাঙ্গায় ১৯৬৫ সালে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১৮৯.৮১ একর নিজস্ব সম্পত্তির ওপর নেদারল্যান্ড পদ্ধতিতে সরকার মোবারকগঞ্জ চিনি কলটি স্থাপন করে। এর মধ্যে ২০.৬২ একর জমিতে কারখানা, ৩৮.২২ একর জমিতে স্টাফদের জন্য আবাসিক কলোনী, ২৩.৯৮ একর জমিতে পুকুর ও প্রায় ১০০ একর জমিতে পরীক্ষামূলক ইক্ষু খামার স্থাপিত হয়।

অন্যদৃষ্টি/এলিস হক

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ