মোঃ মোমিনুল ইসলাম।।
শিক্ষার্থীদের গন্তব্যহীন পথে হাঁটতে শেখাচ্ছে এই শিক্ষাব্যবস্থা।
একজন ছাত্র যে বিষয়ে পড়াশোনা করে তার সাথে কর্মেরও কোনো মিল নেই।যারা কমার্স ব্যাকগ্রাউন্ডে ডিগ্রী নিয়েছেন তাদের ব্যাংকে থাকার কথা থাকলেও সুকৌশলে ব্যাংক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় সব ধরণের শিক্ষার্থীদের ব্যাংকের বড় বড় অফিসারের জায়গা পুরণ করা হয়েছে।অথচ বিষয়টা যদি এমনটি হতো যে যারা কমার্সে পড়াশোনা করেছে আগ্রাধিকার ভিত্তিতে তারাই ব্যাংকে থাকবে তবে কিন্তু ব্যাংক পরীক্ষাগুলোরই দরকার পরতো না।কারণ কমার্সের শিক্ষার্থীরা অনার্সেই ফিল্ড ওয়ার্ক করে অর্থাৎ ব্যাংক ভিজিটের মাধ্যমে ইনটার্ন করে থাকে।এত দক্ষ সম্পদ থাকার পরেও কেন ব্যাংক পরীক্ষা এই প্রক্রিয়ায় নেওয়া হবে?আমার জানামতে পদার্থ বিজ্ঞান পড়েও বর্তমানে ব্যাংকের এমডি হিসেবে কর্মরত আছেন যা সত্যিই আমাদের ভাবতে শেখায়।
পদার্থ বিজ্ঞানের পর্যাপ্ত কর্মক্ষেত্র দেশে নেই।ফলে সিদ্ধান্তও বদলে গেছে।এজন্য দায়ী কে?
প্রায় সব ছাত্রই বিসিএসকে সোনার হরিণ মনে করে এবং হতেও চায় বিসিএস ক্যাডার।কারণ সুকৌশলেই এই ক্যাডারদেরকে আকর্ষণীয় করা হয়েছে।দেওয়া হয়েছে সেই ক্ষমতা ও সম্মান।
কিন্তু শিক্ষাকে আজ এর চেয়েও আকর্ষণীয় করার প্রয়োজন ছিলো যা ৪৮ বছরেও আমরা করতে পারিনি।এজন্য দায়ী কে?
প্রকৌশল বিদ্যায় পড়াশোনা করে তারাও ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার।কারণ অবলীলায় ব্যাংক কর্মকর্তারা তাদের নিয়োগ দেয়।কিছু দিন পরে এরাই আবার এই পেশা ত্যাগ করে দুঃখ ক্ষোভে নিজেই ব্যবসা পরিচালনা করে।কেউ গণিত পড়েও দেয় জুতার দোকান,কেউ দেয় গার্মেন্টের দোকান।কেউ হয় ব্যাংক অফিসার কেউ হয় বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডার ভিন্ন অন্য সব লোভণীয় ক্যাডার।কারণ হয়তো গণিতকে তারা লোভণীয় মনেই করে না।কেন করে না এর উত্তর দিবে কে?
যে রাষ্ট্র কোটি কোটি টাকা খরচ করে ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালের বিষয়ভিত্তিক ডিগ্রী দেয় সেই বিষয়ের সাথে সম্পর্কহীন পেশা রাষ্ট্রের জন্য গতি কিভাবে বৃদ্ধি করবে?আর রাষ্ট্র যে আশা করে ছাত্রদের পড়ালো সেই আশা কেন কর্ম জীবনে ছাত্ররা পূরণ করতে পারবে না?শিক্ষাব্যবস্থা যদি সেই পথ দেখানোর চিন্তা করতো তবে ছাত্ররা অবশ্যই আর কিছু না হোক একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পরেই জীবনের সিদ্ধান্ত স্থির করে ফেলতো।
অন্যান্য দেশে অবশ্য শিক্ষাব্যবস্থা ছাত্রদের অষ্টম বা দশম শ্রেণি থেকেই দীর্ঘমেয়াদী পথ দেখিয়ে হাঁটতে শেখায় যা আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী হাতে দিয়েও শেখাতে পারিনি।আমি এজন্য কী করে শিক্ষার্থীদের দোষ দিবো?
আমি চরমভাবে আঘাত করতে চাই এই মরা শিক্ষাব্যবস্থাকে যা বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরেও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বারংবার হত্যা করছে।আজ তিনি বেঁচে থাকলে অন্যান্য দেশ থেকে মানুষ আমাদের দেশে এসেই গবেষণা করতো,উন্নত চিকিৎসা নিতো,বিল্ডিং নির্মাণের উন্নত নকশা নিতো আর দেশের সব প্রকৃত মেধাবীরাও দেশেই থাকতো ও নতুন নতুন আবিষ্কারের নেশায় মগ্ন থাকতো।
একটা দেশ শিক্ষা,চিকিৎসা,খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থান সব দিকেই উন্নত হলে উন্নত বলে স্বীকার করা যায়।তবে শিক্ষা,চিকিৎসা ও খাদ্য সবার আগের স্থান কেড়ে নেয়।আর সবগুলো দিকের উন্নয়নই শিক্ষাব্যবস্থার ওপর পরোক্ষভাবে নির্ভর করে।তাই শিক্ষাকেই সবার আগে উন্নত করার দরকার ছিলো।যেহেতু জাতির সূর্য সন্তানেরা এখনও এমন ভাবনা ভাবেননি সেহেতু এই দেশকে উন্নত করা খুবই কষ্টকর হবে।তবে এখনও যদি একটি বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা করে এগোনো যায় ও দুর্নীতি দূর করে শিক্ষাকে উন্নত করা যায় তবে আগামী ১০ বছরেই দেশ উন্নত করা সম্ভব।
You must be logged in to post a comment.