কারসাজি (রম্য)
খন্দকার ফিরোজ আহম্মেদ।।
দশদিন বয়সী নয়টা হাসের বাচ্চা পিলপিল করে দৌঁড়ে বেড়াচ্ছে আর খুব ছোট ছোট পোকামাকড় ধরে খাচ্ছে। সারা খোলায় ধানের ছড়াছড়ি। বাড়ির সাথেই খোলা। সেখানে হেমন্তের ধান ঝাড়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বাচ্চাগুলোর অবাধ বিচরণ।
ছটফটে বাচ্চাগুলো দৌঁড়ে বেড়াচ্ছে আর মা মুরগিটা ওদের পেছন পেছন ছুটছে। মুরগিটা ভেবে পাচ্ছে না যে মানুষ এতো খারাপ হয় কেমনে। ডিম পেড়েছিলো ছোটো ছোটো, কিন্তু তাওয়া দেয়ার সময় দেখলো যে ডিমগুলো অনেক বড় হয়ে গেছে। ভাবলো ঘরে থাকলে মনে হয় বড় হয়ে যায়। ভালো কথা। কিন্তু মুরগির ডিমে হাসের বাচ্চা হলো কেমনে? নিশ্চয়-ই গেরস্ত ডিমগুলো পাল্টে দিযেছে! কতো খারাপ হলে মানুষে এটা করতে পারে! তার ডিমের উপর কি তার কোনো অধিকার থাকবে না? আশ্চর্য!
এগুলো যদি মুরগির বাচ্চা হতো, তাহলে তার পেছনে পেছনে ছুটে বেড়াতো, কতো মজা হতো। এগুলো যদিও তারই বাচ্চা এখন, কিন্তু এদের নিয়ে পারা যায় না।
বাবারে বাবা! হাসের বাচ্চারা এতো ছটফটেও হয়! আমি ওদের চরিয়ে নিয়ে বেড়াবো কী, ওরাই আমাকে চরিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে!
বাচ্চাগুলো সুযোগ পেলেই কলপাড়ের এঁটো পানিতে, ডোবায়, এমনকি উঠোনে থাকা গামলার সামান্য পানিতে নেমে আচ্ছা করে ডুব দিচ্ছে, আর সাইডে দাঁড়িয়ে ওদেরকে পাহারা দিতে হচ্ছে। মা বলে কথা! শীত লাগলে ভিজে গায়েই ছুটে এসে বুকের তলায় ওম নিচ্ছে। আহারে অবুঝ বাছা গুলো আমার!
মুরগি তো যা হোক বুঝেছে যে এটা গৃহস্থের কারসাজি, কিন্তু ওপাড়ার আবুদ কিছুতেই দামের কারসাজিটা ধরতে পারছে না। পাখি ভ্যান চালায় সে। শখ হলো ঘরের চালের ভাত খাবে। ছয়হাজার টাকা দিয়ে একবিঘে ভূঁই লিজ নিয়ে ধান লাগালো। ধানগাছ মোটামুটি ভালোই হযেছিলো, কিন্তু ধান পাকার সময় এসে ধরা খাইয়ে দিলো কারেন্ট পোকায়।
এদিকে ঘরে চাল নেই। বাজারে চাউলের দাম কেজিতে তিন চার টাকা বেশি। ধানের দাম তাহলে নিশ্চয়ই বেশি! কিন্তু হাটে ধান নিয়ে দেখা গেলো একমাস আগে যে দাম ছিলো তারচে’ দুইশ টাকা কম- মাত্র ছয়শ’ টাকা মণ।
আবুদ কিছুতেই বুঝতে পারছে না যে, চাউলের দাম বেশি হলে ধানের দাম কম হয় কী করে।
You must be logged in to post a comment.