কাজী জিন্নাহ।।
যেখানে মানুষ পশু পাখির ন্যায় রাস্তায় মরে পড়ে থাকে সেখানে জীবন নিয়ে স্বপ্ন দেখাটাই বোকামি। সেখানে স্বাভাবিক মৃত্যুর আশাই বেছে থাকাটাই যেন বড় স্বপ্ন।
কি দরকার কষ্ট করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ওয়াসিম এর মত বায়োটেকনোলজিস্ট হওয়ার অপেক্ষাই দিন পার করা আর বাবা-মাকে বাড়ি ফিরার মিথ্যা গল্প শোনানোর। তার থেকে ভালো দুবেলা দুমুঠো খেয়ে কোন এক গ্রামে অথবা জঙ্গলে নিরাপদ একটি স্বাভাবিক মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন কাটানো।
আমাদের দেশে ২০১৮ সালে ৭ হাজারের অধিক মানুষ সড়ক দুর্ঘটনাই মারা গেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চালকের অসাবধানতা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। তার উপর গাড়ির হেল্পারের ধাক্কাই ইচ্ছাকৃত ভাবে খুন করা এ যেন স্বাভাবিক ঘটনা। এই অল্প কিছুদিনের মধ্যেই একই রকম একাধিক সংবাদ চোখে পড়ল। বর্বরতার সীমা ছাড়াতে আর কিছু বাকি আছে কিনা জানি না!! যেভাবে পায়েলকে হত্যা করেছিল ঠিক একই ভাবে ওয়াসিমকেও ওরা হত্যা করেছে।
প্রতিবাদে মিছিল হয়েছে আন্দোলন হয়েছে কোন বিচার হয়েছে কি ওদের? কে করবে ওদের বিচার, ওরাই তো বিচার করে। বেশি আন্দোলন করলে সারাদেশে গাড়ি বন্ধ, প্রশাসনও হারমেনে নেই ওদের কাছে, এ যেন মগের মুল্লুক।
শ্রমিক নেতাদের কাছেই যখন মাথানত করে প্রশাসন আর প্রতিদিন রাজপথে হত্যার শিকার হয় একটি দেশের নাগরিক তখন কে সেখানে সভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখবে। যেখানে অপরাধীকে শাস্তি দিতে উদারতা, সেখানে সভ্যতা স্থায়ী হয় না, বর্বরতাই আচ্ছন্ন হয় গোটা সমাজ। ওয়াসিম এর জন্য দুয়া করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।
তারপরও ওয়াসিম হত্যার বিচার চাই।
লেখক
Assistant Professor
(Dept. of Animal & Fish Biotechnology, Faculty of Biotechnology & Genetic Engineering)
Sylhet Agricultural University
You must be logged in to post a comment.