এহেন ঘৃণ্য অপরাধীদের স্বচ্ছ তদন্তে শাস্তি প্রদান করা হলে ইসলাম ও মাদ্রাসা শিক্ষা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৯, ৮:৪৮ পূর্বাহ্ন

আবদুল মান্নান।।

মাদ্রাসা তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাত করতে পারে বলে অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলা গং সারা বছর অপকর্ম করে বেড়ায়! তারা কৃত অপকর্ম ধামাচাপা দিতে মাদ্রাসার অর্থ খরচ করে প্রতি বছর মিথ্যা ভাউচার সৃজন করে! লুটপাটের রাম-রাজত্ব চলে মাদ্রাসা সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে! প্রতিষ্ঠানের টাকা যেন তাদের বাবার জমিদারি!

আর তাদের এহেন অপকর্মে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা দেয় তাদের আজ্ঞাবহ পরিচালনা কমিটি ও বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত কিছু চরিত্রহীন শিক্ষক। আর পুরো দায় পড়ে যায় মাদ্রাসা শিক্ষা ও নিরাপরাধ অবশিষ্ট শিক্ষকদের উপর।

চরিত্রহীন অধ্যক্ষ সিরাজদের প্রতিষ্ঠানের তথা মাদ্রাসার আয়ের যথাযথ হিসেব দিতে হয় না বলে তারা এহেন অপকর্ম করে বেড়ায়! আজ্ঞাবহ ও দুর্নীতিগ্রস্ত পরিচালনা কমিটির সহায়তায় তারা লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে! কোন শিক্ষক প্রতিবাদ করলে শোকজ, চাকরিচ্যুতি এমনকি শারীরিক হেনস্থার লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হয়।

তাই ধর্ম কিংবা শিক্ষার নাম দিয়ে কেউ যেন প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাত করতে না পারে তার কার্যকরী পদক্ষেপ এখনই  গ্রহণ করা উচিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা রাখার সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে সিরাজ গংদের উত্থান স্তব্ধ হতে বাধ্য।

সিরাজউদ্দৌলার মত দুর্ধর্ষ প্রতাপশালী অপরাধী অধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ কেন্দ্রিক সংগঠনের ছত্রছায়ায় মাদ্রাসা গুলোতে আর্থিক অনিয়ম নিয়মে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি ওপেন-সিক্রেট। ইসলাম যেখানে আর্থিক স্বচ্ছতা কে অধিক গুরুত্ব দেয়। আর্থিক অস্বচ্ছ ব্যক্তি জানাতে প্রবেশ করতে পারবেনা বিশ্বনবী(সা:) এর সূ-স্পষ্ট ঘোষণা বিদ্যমান। সেখানে সিরাজউদ্দৌলার মত ব্যক্তিরা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং নারীর শ্লীলতাহানির পর আগুনে পুড়িয়ে মেরে ইসলাম কে কালিমা লেপন করছে। তারা কোন দিন মানুষ হতে পারেনা।

সিরাজউদ্দৌলার মত দেশের আরও যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুপার ও অধ্যক্ষরা মাদ্রাসার টাকা আত্মসাত ও বাগ-বাটোয়ারা নির্ভীগ্নে করতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ব্যবহার করছে। নিজের পদ-পদবীর অপব্যবহার করে ধরাকে সরাজ্ঞান করছে। সে সমস্ত সুপার-অধ্যক্ষ ও প্রধান এবং তাদের সহযোগীদের  শাস্তি নিশ্চিত করে মাদ্রাসা সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কালিমা মুক্ত করা আবশ্যক।
এহেন ঘৃণ্য অপরাধীদের স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হলে ইসলাম ও মাদ্রাসা শিক্ষা কখনো  ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা।বরং ইসলামের সৌন্দর্য প্রতিষ্ঠিত হবে।কারণ প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাত করা অন্যায়। এটি একটি জঘন্য চুরি। যারা কলমের খোঁচায় মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টাকা চুরি করে ইসলাম তাদের জন্য এই নশ্বর পৃথিবীতে শাস্তির বিধানের ব্যবস্থা করে রেখেছে। তদুপরি এ সমস্ত অপরাধের জন্য দেশীয় আইনে সূ-স্পষ্ট শাস্তির বিধান রয়েছে।

তবে অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজের অপরাধের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা ও আলেমদের দায়ী করা কখনো সমীচীন হবেনা।তবে সিরাজের অপরাধের জন্য তারাই দায়ী যারা স্বকীয়তার অজুহাতে মাদ্রাসা শিক্ষাকে জাতীয়করণের বাইরে রেখেছে। প্রতিষ্ঠানের আয় সরকারি কোষাগারে জমা রাখার সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

উক্ত নৃশংস ঘটনা পর ইসলাম ও মাদ্রাসা শিক্ষা  বিদ্বেষী কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি মাদ্রাসা শিক্ষা ও আলেম -উলেমাদের চরিত্র হননে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মিডিয়ায় অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। মাওলানা সিরাজের অপরাধকে ইস্যু করে ইসলাম ও আলেম-উলেমাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ মূলক ঢালাও  প্রোপাগান্ডা রটিয়ে যাচ্ছে। যা মোটেও কাম্য নয়।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ