এমপিও নীতিমালার ৯৫ শতাংশই ইতিবাচক -অধ্যক্ষ শরীফ

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ২৬ জুন, ২০১৮, ২:১১ অপরাহ্ন

 

স্টাফ রিপোর্টার

বেসরকারি স্কুল-কলেজের জন্য সদ্যঘোষিত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার ৯৫ শতাংশই ইতিবাচক এবং নীতিমালাটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হলে শিক্ষাব্যবস্থা আরো আধূনিক ও গতিশীল হবে। এছাড়া স্কুল-কলেজের বিজ্ঞান বিষয়সমূহে শিক্ষক ও কলেজে বিষয়ভিত্তিক প্রদর্শকের পদ এবং বিজ্ঞানাগারে ল্যাব সহায়ক পদ সৃষ্টি করা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। ১২ জুন ঘোষিত নতুন জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা সম্পর্কে জানতে চাইলে এমন মন্তব্য করেন বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারি অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য-সচিব অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদী।

তবে, বেসরকারি শিক্ষকদের অবসরের বয়সসীমা ৬০ বছর করার সমালোচনা করেন তিনি। অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর করার দাবি জানিয়ে অধ্যক্ষ শরীফ বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ৬৫ বছর চাকরি করতে পারলে বেসরকারি শিক্ষকরা কেন পারবেন না?

সোমবার (২৫ জুন) দৈনিক শিক্ষার সঙ্গে আলাপকালে অভিজ্ঞ এই অধ্যক্ষ আরো বলেন, নতুন নীতিমালায় অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে উপাধ্যক্ষ হিসেবে ৩ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত জুড়ে দেয়ায় কোনও প্রভাষক কিংবা সহকারী অধ্যাপক হঠাৎ অধ্যক্ষ হতে পারবেন না। অধ্যক্ষের মতো প্রশাসনিক পদে আসতে অভিজ্ঞতার শর্ত জুড়ে দেয়াকে একটি অতি উৎকৃষ্ট সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন শরীফ সাদী। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ পর্যায়ে উপাধ্যক্ষ পদটি সৃষ্টি করায় উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের শিক্ষকতা প্রবেশের পথ বন্ধ করাকে স্বাগত জানিয়ে শরীফ সাদী বলেন, ২৪/২৫ বয়সে শিক্ষাজীবন শেষ করে দীর্ঘদিন পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে ৪৫/৫০ বছর বয়সে শিক্ষকতা পেশায় এসে ভাল শিক্ষক হতে পারেন না। ৩৫ বছরের কম বয়সীরা স্টাডির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় শ্রেণিকক্ষে বেটার পারফর্ম করতে পারেন।

তবে, ষাটোর্ধ শিক্ষকের চুক্তিভিত্তিক কিংবা পুন:নিয়োগের সুযোগ রহিত করা অবশ্যই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। তিনি যুক্তি দেখান, যেখানে যোগ্যতাসম্পন্ন অসংখ্য শিক্ষিত বেকারের কর্ম সংস্থান হচ্ছে না সেখানে পদ ধরে রাখার কোনও মান হয় না।

তিনি বলেন, অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি/পর্ষদকে প্রভাবিত করে কিংবা ম্যানেজ করে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ  এবং বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকেরা চুক্তিভিত্তিক কিংবা পুন:নিয়োগ বাগিয়ে নেন। এই অনৈতিক সুবিধাবাদী একটি বিধান বাতিল হওয়ায় দেশের বেশিরভাগ শিক্ষক খুশি হবেন বলেই ধারণা শরীফ সাদীর।

তিনি বলেন, ডিগ্রি কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা মোতাবেক প্রত্যেকটি বিষয়ে তিনজন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া সুযোগ থাকলেও সরকার এই তিনজন শিক্ষকের মধ্যে তৃতীয় শিক্ষককে এমপিও সুবিধা দিত না। সমন্বয়ের মাধ্যমে তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার একটা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যদিও স্পষ্ট করে তৃতীয় শিক্ষক বলা নেই। তবু বাস্তবে সেটাই হবে। নতুন নীতিমালা দেখে সারাদেশে  হাজার হাজার তৃতীয় শিক্ষক যারা নিদারুন কষ্টে ছিলেন তারা খুশি হবেন এবং এ উদ্যোগটি অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার দাবি রাখে।

তবে, প্রভাষকদের পদোন্নতির অনুপাত প্রথার বিধানটি বাতিল করে সরকারি কলেজ শিক্ষকদের ন্যায় সবাইকে একটা নিদির্ষ্ট সময়ের পর সহকারি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয়ার বিধান যুক্ত করা উচিত।

সরকারের সিদ্ধান্তে ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আগ্রহে সারাদেশের শত শত কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়েছে, এজন্য কয়েক হাজার শিক্ষক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। যোগ্যতাসম্পন্ন এই শিক্ষকেরা এমপিও পান না। এসব কলেজে শিক্ষার সব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হলেও শিক্ষকরা কলেজ থেকে সামান্য কিছু সম্মানী পেয়ে থাকেন, যা দিয়ে তাদের সংসার চালানো কঠিন। অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা করলে একটি যুগান্তকারী ও প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

সামগ্রিক অগ্রগতির স্বার্থে, কৃষিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারসহ সার্বিক উন্নয়নে সরকারের ঘোষিত নীতিমালা প্রণয়ন করে বিজ্ঞান শিক্ষাকে উৎসাহিত করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান ল্যাবরেটরিকে উন্নত অবকাঠামো দেওয়া এবং জনবল কাঠামোতে বেশকিছু সংখ্যক পদ সৃজন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলো বাংলাদেশকে বিজ্ঞান সম্মতভাবে এবং অথনৈতিক এগিয়ে নিতে অবশ্যই সহায়তা করবে। নতুন করে পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নিরাপত্তা কর্মী, নৈশপ্রহরী, আয়া পদ সৃষ্টি করে চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় উল্লেখিত বদলির বিষয়টি অস্পষ্ট রয়েছে যা ষ্পষ্ট করা উচিত। কিছু কিছু বিষয়ের শিক্ষককে দেখা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে বা বাইরে বাণিজ্যিক চিন্তাধারায় প্রাইভেট বা কোচিং সেন্টার খুলে বসেন। এই জন্য বদলির বিষয়টি বাঞ্ছনীয়। এই ক্ষেত্রে নীতিমালাটি সংশোধন করা যেতে পারে। শিক্ষকদের বদলির বিষয়টির সঙ্গে সম্পূর্ণ বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদার বিষয়টি সরকারকে সক্রিয়ভাবে ভাবতে হবে।

২০১০ খ্রিস্টাব্দে ঘোষিত শিক্ষানীতি মোতাবেক শিক্ষকদের আলাদা বেতন কাঠামো দেওয়ার বিষয়টি বাস্তবায়নের দিকে যেতে হবে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরেই ‘টোটাল- এডুকেশন-সিস্টেম’ নিয়ে আসতে হবে, প্রতিষ্ঠানের বাইরে ‘কমাশিয়াল-এডুকেশন’ বন্ধ করতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো এমপিও নীতিমালা-২০১৮ বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হবে বলে মনে করেন শরীফ সাদী।

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ