এম.হাবিবুল্লাহ বাহার।।
বিদেশী বেনিয়াদের নাম আমরা শুনেছি এবং এখনও পড়ি। এখনো আমাদের বাচ্চাদের ঘুম, পাড়ানো সেই বর্গি,মগ,নীলকর ইত্যাদি শোষকদের নামে। “খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গি এল দেশে। বুলবুলিতে ধান খেয়েছে- খাজনা দেবো কিসে!” ছড়ার লাইন গুলো থেকে আমরা বুঝি বেনিয়াদের অত্যাচার এমনইউচ্চ মাত্রার ছিল যে,তৎকালীন মায়েরা তাদের বাচ্ছাদের কে বর্গির ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়াতো। কথা গুলো বলার কারণ হলো এই যে,ইদানিং ntrca -র অর্থ লিপ্সার যে পরিকল্পনা তাতে কোন অংশেই তাবৎ কালের কালের কম নয় বরং তা বহুমাত্রায় পূর্ব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ntrca চেয়ারম্যান দাবি করেছেন বিসিএস আবেদনে ৮০০টাকা করে নিচ্ছে অথচ উনারা নিচ্ছেন ১৮০টাকা।
বাহ! চমৎকার যুক্তি। এবার আসুন আপনার যুক্তি খণ্ডনে আমার কিছু যুক্তিঃ সম্প্রতি পত্রিকায় রিপোর্ট হয়েছিল বিসিএসের আবেদন পড়েছে মালদ্বীপের জনসংখ্যার সমান/অধিক। অন্যদিকে ntrca -র বিজ্ঞপ্তিতে কিন্তু এত প্রার্থী আবেদন করেনি কারণ মোট ৬লক্ষ প্রার্থী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ৩৫+(বয়স)।বাদ দেওয়া হয়েছে ৬মাসের কম্পিউটার ডিপ্লোমা(প্রভাষক ও সহকারী)। বাদ যাবে ৭২হাজার ইনডেক্সধারীর ৯০%থেকে ৯৫% তাহলে থাকবে কত জন? সর্বোচ্চ এক লক্ষ নিবন্ধন ধারী এই গণ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করেছে। এবার আসুন আয়ের হিসেবেঃ মালদ্বীপের জনসংখ্যার চেয়ে বেশী আবেদন থেকে পিএসসির আয়ে ৩০-৩৫কোটি প্রায়। অন্যদিকে এক লক্ষ(সর্বোচ্চ) নিবন্ধিত প্রার্থীর নিকট থেকে এনটিআরসিএ আয় করেছে পত্রিকা রিপোর্ট মতে ৫৬কোটি টাকা! এবার চেয়ারম্যান মহোদয়ের যুক্তির সাথে আমার বিশ্লেষণ মিলিয়ে দেখুন। তাঁর ভাষ্যমতে পিএসসি ৮০০টাকা নেয় আর ওনি নেন ১৮০টাকা। সত্যিই কি তাই? না ওনি নিয়েছেন ৫৬০০০০০০০÷১০০০০০=৫৬০০টাকা জনপ্রতি।
ওনি নাকি একাধিক আবেদনের সুযোগ দিয়েছেন।পিএসসি কি তা দেয়নি? অবশ্যই দিয়েছেন কারণ ২৯ক্যাডারের একটি যদি চয়েজ দেওয়া হয়, তবে ওই বিয়ষের সবগুলো পদের জন্যই তার আবেদন হয়ে যায়। তাহলে ওনি কেনো এক আবেদনে সংশ্লিষ্ট পদের সবগুলোতে চয়েজের অপশন রাখতে পারলেন না?
এবার আসি বিজ্ঞপ্তির অসঙ্গতিতেঃ এমপিও নীতিমালার ১২নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ইনডেক্সধারী প্রার্থীগণ বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন। তার মানে কর্মরত সকল ইনডেক্সধারী।
কিন্তু তিনি বিজ্ঞপ্তিতে এক অদ্ভুত শর্ত জুড়ে দিয়েছেন যেমনঃ ইনডেক্সধারী প্রার্থীদের ও অপরাপর নিবন্ধন ধারীদের সাথে মেধা তালিকায় থেকে বাছাই হতে হবে। কি অদ্ভুত! প্রায় পাঁচ লক্ষ ইনডেক্সধারীর ভিতরে চার লক্ষাধিক ইনডেক্সধারী ২০০৫সালের আগে ইনডেক্স প্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁরা মেধা তালিকা পাবেনন কোথায়? নীতিমালার সংশোধন না হলে যদি ৩৫+সুযোগ না দিতে পারেন তবে নীতিমালা সংশোধন না করে তিন লক্ষাধিক ইনডেক্সধারীকে কিভাবে বাদ দেন? নাকি হুজুরের ওয়াজের মতনই তিনি বলতে চান”পর্দার ঐ ওয়াজটি আমি শুধু ঐ পাড়ার মহিলাদের জন্য করেছি, যা আমার স্ত্রীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।”
এবার আসি পকেট কাটা প্লানেঃ আগেই হিসেব দিয়েছি যে,প্রতিজন গড়ে ৫৬০০টাকা ntrca কে দিয়েছে। হ্যাঁ নিয়েছেন ভাল কথা কিন্তু ” কলা দেখিয়ে মূলা খাওয়ানোর” দরকার কি ছিল? এক প্রার্থী আবেদনের তৃতীয় দিন আমাকে ফোন করে বললেন স্যার কাল আমি ১৮টি এপ্লিকেশন করেছি এবং টাকা পেড করেছি কিন্তু আমার পাশাপাশি উপজেলা হওয়াতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম ১৮টির ১৫টিই হচ্ছে মহিলা কোটা কারণ ওগুলোতে ২০%/৩০%কোনটিই পূরন করা নেই।এখন আমি কি করব? তাকে আমি কি উত্তর দেব? কারণ এমপিও নীতিমালায় মহিলা কোটা পূরণ করা বাধ্যতামূলক করা আছে।আবার ntrca বলেছেন এমপিও করার দায়িত্ব তাঁরা নিবেন না।
অন্যদিকে এবার ntrca এমন সফটওয়ার করেছেন যাতে একটিতে কেউ টিকে গেলে বাকী সব নট-সিলেক্ট। হয়ে যাবে।তাহলে ঐ লোকটির ১৫প্রতিষ্ঠানের কোনটিতেই গণনায় আসার সুযোগ নেই।মহিলা পাওয়া যায়না এমন এলাকা বর্তমানে খুবই বিরর।তাহলে ১৫টি প্রতিষ্ঠানে এই যে প্রায় তিন হাজার টাকা অকারণে নেওয়া হল তার কৈফিয়ত কে দিবে? ৫টাকা গাড়ীভাড়া বাঁচানোর জন্য যে বেকার যুবকটি ৩কিঃমিঃ পায় হাটে সেই যুবকদের কাছ থেকে এভাবে কোটি কোটি টাকা অকারণে কাটার কি অধিকার আছে ntrca-র?
এত টাকা খরচ করেও যদি চাকরি না হয় তবে যুবকরাও শিশুদের মতই ntrca-র নাম শুনলেই ভয়ে ঘুমিয়ে পড়বে। তাই কর্তৃপক্ষের নিকট প্রত্যাশা তাঁরা যেন পরবর্তী নিয়োগের আগেই বদলি ব্যাবস্থা চালু করণ,গণ বিজ্ঞপ্তিতে এক আবেদনে শতাধিক প্রতিষ্ঠান পছন্দের অপশন,mpo/non mpo উল্লেখের পাশে Male /Female উল্লেখ করণ এবং শিথিলযোগ্য এলাকা গুলোতেmale /female উভয়ের জন্য উন্মুক্ত করণ সহ বিজ্ঞপ্তি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করেন।
লেখক
প্রভাষক, বাংলা
টাঙ্গাইল।
You must be logged in to post a comment.