উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে মোংলার সম্ভাব্য প্রার্থীদের জোড় প্রস্তুতি 

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
রবিবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০১৯, ১২:৩০ অপরাহ্ন

বায়জিদ হোসেন, বাগেরহাট প্রতিনিধি।।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনেরর উত্তাপ শেষ হতেনা’হতে  শুরু হয়েছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নানান আলাপ-আলোচনা।  করা হতে যাচ্ছে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান,  রাজনিতি মহলে চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষণ।

আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন কমিশনের এমন ঘোষণার পর থেকে মংলা উপজেলায় নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে আওয়ামীলীগের হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন এমন সম্ভাব্য অর্ধডজন প্রার্থীর নাম বেশ জোরে শোরে শোনা যাচ্ছে রাজনিতি মহলে। অপরদিকে এখানকার বিএনপি’র পক্ষ থেকে কোন প্রার্থী দেয়ার খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া না গেলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে এক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কায় নীতিগতভাবে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি তাদের মধ্যে। এদিকে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতে না হতেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তোড়জোর শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে চলতি বছরের মার্চে উপজেলা নির্বাচন হবে এমন ঘোষণাও এসেছে কমিশন থেকে। নির্বাচন কমিশনের এমন ঘোষণার পর থেকে মংলা উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীরা একে অপারের সাথে আলাপ আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন। ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত মংলা উপজেলা পরিষদ। আর এ উপজেলার মধ্যে রয়েছে দেশের বৃহত্তম মংলা সমুদ্র বন্দর, ইপিজেড, বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মোল্লা আব্দুল জলিল’কে পরাজিত করে আওয়ামীলীগের প্রার্থী আবু তাহের হাওলাদার নির্বাচিত হন। তবে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে যাদের নাম সব খানেই শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ ইদ্রিস আলী ইজারাদার, বর্তমান চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মংলা সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ সুনীল কুমার বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, বিএনপি’র মোল্লা আঃ জলিল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক কহিনূর সরদার। সম্ভাব্য প্রার্থীরা জানান, যেহেতু দলীয় প্রতীকে এবারই প্রথম উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সে কারনে দলীয় মনোনয়ন একটি বড় বিষয় বলে মনে করছে সকলেই। আর দলীয় মনোনয়ন যদি পাওয়া যায় এবং দল থেকে যদি সকলের প্রতি কঠোর নির্দেশনা থাকে তাহলে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশী। ফলে সকলেরই চেষ্টা থাকবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার। তবে দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করবেন বলেও জানান আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এ বিসয় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ ইদ্রিস আলী ইজারাদার জানান, উপজেলায় আ.লীগের দুর্দিনের সময় যখন দলেরর হাল ধরার মত  কোন লোক ছিলনা তখন থেকে তিনিই দলকে সংগঠিত করেছেন এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের দেখভাল করেছেন। আজ মংলা উপজেলা ব্যাপী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সুসংগঠিত।

এছাড়াও পর পর দুই বার তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। সার্বিক বিবেচনায় দল এবারও তাকে মনোনয়ন দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ২০১৪ সালে দলীয় কোন্দলের কারনে মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারেননি। তবে কোন কারনে যদি দলীয় মনোনয়নে ব্যর্থ হন তাহলে যিনিই দলীয় মনোনয়ন পাবেন তার পক্ষে কাজ করবেন বলে জানান তিনি। আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন জানান, ছাত্রলীগ, যুবলীগ থেকে শুরু করে আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে দল করে আসছি। বিগত প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করেছি, প্রানপন চেষ্টা করে দলকে সংগঠিত রেখে আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এবং বেগম হাবিুন নাহারকে নির্বাচিত করেছি। তাই খুলনা সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আঃ খালেক ও বর্তমান পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার যদি উপজেলা নির্বাচন করার যোগ্য মনে করেন তবে জোরেশোরে দলীয় সভানেত্রীর কাছে মনোনয়ন চাইবেন তিনি। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার জানান, দীর্ঘ ৫ বছর তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সব সময় সাধারণ জনগণের পাশে ছিলেন। সার্বিক বিবেচনায় দল এবারও তাকে মনোনয়ন দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। যেহেতু দলীয় প্রতীকে এবারও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সে কারণে সংসদ নির্বাচনের ন্যায় দলীয় মনোনয়ন নির্বাচনী ময়দানে সৎ,কর্মঠ ও যোগ্য প্রাথীকেই খুলনা সিটি মেয়র ও উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহারের সহযোগিতায় দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকেই মনোনয়ন দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এদিকে এবারের নির্বাচনে বিএনপি’র কোন প্রার্থী মাঠে নেই। গত নির্বাচনে দলীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় তার অনেক বেগ পেতে হয়েছে বলে মনের ক্ষোভ নিয়ে আছেন দলটির পৌর সহ-সভাপতি মোল্লা আব্দুল জলিল। অপর দিকে জামায়াত নেতা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক কহিনূর সরদার জানান, দেশের দক্ষিণাঞ্চল তথা মংলা উপজেলার প্রতিটি মানুষ বিএনপি-জামায়াতকে পছন্দ করে। আমরা এ অঞ্চলের সাথে এই এলাকার মাটি ও মানুষের সাথে মিশে আছি। যেহেতু এই এলাকার মানুষের সাথে আমার এবং আমার পরিবারের নাড়ির সম্পর্ক সে কারনে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, মানুষ যদি সঠিকভাবে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে তবে তিনি প্রার্থী হতে আগ্রহী। তবে দলগতভাবে এখনও কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। দলীয় সিদ্ধান্ত হলে তখনই বলা যাবে কে হবেন প্রার্থী, এখন শুধুই অপেক্ষার পালা।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ