উপজেলায় নির্বাচনে স্বতন্ত্রের প্রার্থী জামায়াত, বিএনপি সিদ্ধান্তহীনতায়

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০১৯, ১:০৬ পূর্বাহ্ন
আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও জামায়াতের একজন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে রাজনীতি মহলে....

বায়জিদ হোসেন, বাগেরহাট প্রতিনিধি।।

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০১৯ মার্চের প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের এমন ঘোষণার পর মংলা উপজেলায় নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে মংলার রাজনীতি মহল। এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও জামায়াতের একজন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে রাজনীতি মহলে ।

এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ যাবেন না বলে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এদিকে উপজেলা নির্বাচনের ব্যাপারে একেবারেই নীরব দর্শকের ভূমিকায় বিএনপি।
নেই তেমন কোনো নির্বাচনের প্রস্তুতিও। তবে স্বতন্ত্রের বেশে ভোটের মাঠ দখলে রাখতে চাচ্ছে জামায়াত এমনটাই শোনা যাচ্ছে রাজনীতি মহলে।

৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই উপজেলা। আর এ উপজেলার মধ্যে রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম মংলা সমুদ্র বন্দর, ইপিজেড, বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান সুন্দরবনসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট।

মংলা উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজর ৩৩৯ জন।

এদিকে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ ইদ্রিস আলী ইজারাদার, বর্তমান চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার এবং জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান অধ্যাপক কোহিনূর সরদার।

এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে আগ্রহ নেই বিএনপির। নির্বাচনের বিষয় বিএনপির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মংলা পৌর বিএনপির সহসভাপতি মোল্যা আব্দুল জলিল অন্যদৃষ্টিকে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত হলে নির্বাচন করতে পারি। আর এ ব্যাপারে আমাদের দলীয় কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি এখনো। তাই নির্বাচন ব্যাপারে আপাতত কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত জানাতে পারছি না।’

এদিকে গত উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত হতে মনোনয়ন নিয়ে ভাইসচেয়ারম্যান নির্বাচিত অধ্যাপক মোহাম্মদ কোহিনূর সরদার এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয় তিনি অন্যদৃষ্টিকে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে দল (জামায়াত) হতে কোনো মনোনায়ন দেয়া হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে আমি স্বতন্ত্র হয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে পারি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে দল করে আসছি। বিগত প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের জন্য নিরলস হয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এখন দল যদি আমাকে উপজেলা নির্বাচন করার যোগ্য মনে করে এবং আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড যদি নমিনেশন দেয় তাহলে আমি নির্বাচন কতে ইচ্ছুক।’

এদিকে নির্বাচনের বিষয় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধ মোঃ ইদ্রিস আলী ইজারাদার বলেন, ‘আপনারা জানেন আমি আগামী পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী। এছাড়াও পরপর দু’বার আমি মংলা উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছি। তাছাড়া ছাত্র জীবন হতে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। এখনো বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করছি। ২০১৪ সালে দলীয় কোন্দলের কারণে মনোনয়ন না পাওয়ায় আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারিনি। যদি এবার দল হতে আমাকে উপজেলা নির্বাচনে মনোনায়ন দেয় আমি তাহলে আমি নির্বাচন করবো। আর না দিলেও যিনিই দলীয় মনোনায়ন পাবেন তার পক্ষে কাজ করবো।’

বর্তমান মংলা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার বলেন, আমি দীর্ঘ ৫ বছর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। এই দীর্ঘ সময়ে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সব সময় সাধারণ জনগণের পাশে ছিলাম।সার্বিক বিবেচনায় দল এবারও আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’

অন্যদৃষ্টি/এলিস হক

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ