উন্নত প্রযুক্তির ন্যানো এবং কপার মাস্ক দেশেই উৎপাদনের সম্ভাবনা

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০, ৮:৫৩ অপরাহ্ন

আশানুর রহমান, গাজীপুর।।

উন্নত প্রযুক্তির ন্যানো এবং কপার মাস্ক দেশেই উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। টঙ্গীস্থ সরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিফোন শিল্প সংস্থার (টেসিস) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মাস্ক উৎপাদনে এগিয়ে এসেছে বেসরকারি খাতের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওকে মোবাইল লিমিটেড।

ইতোমধ্যে উৎপাদনসংক্রান্ত অনুমোদন চেয়ে ওষুধ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে চিঠি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সবকিছু ঠিক থাকলে উৎপাদন শুরু হতে পারে চলতি বছরের শেষ নাগাদ।

সার্বক্ষণিক পরিধানযোগ্য মাস্কের ব্যবহার বাড়ছে বিভিন্ন দেশে। উন্নত প্রযুক্তির জীবাণুরোধী কপার এবং ন্যানো মাস্ক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কোরিয়া, জাপান ও জার্মানিসহ উন্নত দেশগুলোতে। কিন্তু এসব উচ্চমূল্যের মাস্ক সাধারণের নাগালের বাইরে।

কিন্তু বাস্তবতা হল, মাস্ক এখন করোনাকালের নিত্য সঙ্গী। করোনা প্রতিরোধেঅন্যতম প্রধান হাতিয়ার। তাই বাজারে মিলছে নানা ধরনের মাস্ক। তবে দেশে এখন সার্জিক্যাল মাস্কের ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি। কিন্তু গরমকালে দীর্ঘ সময় মাস্ক পরে থাকা প্রায় অসম্ভব। দেখা যাচ্ছে, অনেককেই মাস্ক নামিয়ে রাখছেন গলার কাছে। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ছে। এ অবস্থায় কিছুটা হলেও আশার আলো জাগিয়েছে উন্নত প্রযুক্তির ন্যানো এবং কপার মাস্ক। যা এখন দেশেই তৈরি হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওকে মোবাইল লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট কাজী জসিমুল ইসলাম শনিবার বলেন, ‘এখন বিশ্বব্যাপী মাস্ক থেকে শুরু করে যে কোনো কোভিড সংক্রান্ত পণ্য উৎপাদন যন্ত্রপাতি আমদানি সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে নানামুখী প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তারপরও আমরা আশা করছি, কপার এবং ন্যানো দুটি মাস্কের উৎপাদন চলতি বছরেই শুরু করতে পারব। প্রাথমিকভাবে সীমিত যন্ত্রপাতি দিয়েও প্রতিদিন ৮০ হাজার কপার এবং ৬০ হাজার ন্যানো মাস্ক উৎপাদন করা সম্ভব হবে।’

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ন্যানো এবং কপার মাস্ককে নেক্সট জেনারেশন মাস্ক বলা হয়। কারণ এটি একদিকে জীবাণু প্রতিরোধে সক্ষম, অন্যদিকে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়াও সহজ। এ কারণে ইউরোপ এবং আমেরিকায় বহু আগে থেকেই এ মাস্ক ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে কপার মাস্কের বহুল ব্যবহার ছিল কয়লা খনিতে। এর উৎপাদন স্বত্ব ছিল একটিমাত্র দেশ চিলির হাতে। বিশ্বে কোভিড সংক্রমণের প্রেক্ষিতে কপার মাস্ক উৎপাদনের স্বত্ব সম্প্রতি উন্মুক্ত করে দেয় চিলি।

এরপর দক্ষিণ কোরিয়া ব্যাপকভাবে কপারযুক্ত কাপড় তৈরি শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে এখন বাংলাদেশে কপার মাস্ক উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ