ইবিতে চিকিৎসার মান উন্নয়নে শিক্ষার্থীর আমরণ অনশন

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
সোমবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৮, ৫:০৭ অপরাহ্ন

আরাফাত, ইবি।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা ক্ষেত্রে উন্নত সেবার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে এক শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবন দিতে আসিনি, জীবনকে নতুন ভাবে গড়তে এসেছি। বন্ধুর লাশের ভার আর সইতে পারছি না। উঁচু ভবন নয়, উঁচু উঁচু মানের সেবা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে। এমন কিছু লেখা ছিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’র দেয়ালে ঝুলানো। ইবির একজন শিক্ষার্থী বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. আবুল বারাকাতের লেখা ‘দর্শনের দারিদ্র্য’ বইটি হাতে নিয়ে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’র পাদদেশে আমরণ অনশনে নামে।

সোমবার বেলা বারোটায় হেমন্তের আগুনঝরা রোদ্রে তাকে দেখা মেলে এ আমরণ অনশনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে একজন করে ক্লিনিক্যাল সাইক্লোজিস্ট ও সাইকিয়াট্রিস্ট নিয়োগের দাবিতে তার এ অনশন। আমরণ অনশনকারী ছাত্রের নাম তানবীর হাসান লিংকন। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

উল্লেখ্য গত বৃহস্পতিবার আইন বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান অসুস্থতার কারনে চরম দুশ্চিস্তাগ্রস্থ ও হতাশায় আত্মহননের পর সোমবার ক্যাম্পাস খোলার পরপরই সে এই আমরণ অনশন শুরু করেন। এর আগেও গত এক বছরে প্রেমজনিত কারণে ইবির চার শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন সচেতনতামূলক সভা-সেমিনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে কোন সাইক্লোজিস্ট ও সাইকিয়াট্রিস্ট নিয়োগ না দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার মতো ভয়ানক পথ।

এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে একজন করে ক্লিনিক্যাল সাইক্লোজিস্ট ও সাইকিয়াট্রিস্ট নিয়োগের দাবিতে লিংকন আমরণ অনশন শুরু করে। এসময় লিংকন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমার এ দাবি না মানা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবো।’ পোস্টারে আরো লেখা ছিল ‘উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে আত্মহত্যার মিছিল আর যেন দীর্ঘ না হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলের ডাক্তাররা আরও মানবিক ও আন্তরিক হবে কবে?’

অনশন চলাকালে তার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন সর্বশেষ আত্মহননকারী আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসানের সহপাঠীরা। তারা জানান, ‘গত বৃহস্পতিবার মেধাবী ছাত্র নাজমুল শারীরিক ও মানসিক নানা অসুস্থতার কারনে চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্থ ও হতাশায় আত্মহননের পথ বেছে নেন তিনি। আজ এই আমরণ অনশনে আমাদের সর্বাত্মক সমর্থন রয়েছে।

পরে দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান অনশনে উপস্থিত হয়ে তার দাবী সমূহ মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে, প্রায় ২ ঘন্টা পর অনশন স্খগিত হয়। এসময় তিনি আশ্বাস্ত করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে মেডিকেল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছে। দ্রুত সময়ের ভেতর এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ