আলিসা মালিহার গল্প

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
শনিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৮, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

দুষ্টু মিষ্টি ভালবাসা

আলিসা মালিহা।।

প্রবাসী সিহাব খানের সাথে নীলার পরিচয় ঘটে ফেসবুকে। প্রথমে বন্ধুত্ব তার পর প্রেম। টানা এক বছর ধরে চুটিয়েপ্রেম করছে তারা। এরই মধ্যে কতবার যে তাদের ব্রেকআপ হয়েছে তার হিসেব দেয়া কঠিন। তাদের সম্পর্ক টা টম এন্ড জেরির মতো, সারাক্ষণ ঝগড়াঝাটি, কাটাকাটি লেগেই থাকে কিন্তু কেউ কাউকে ছাড়তে পারেনা।
সিহাবের প্রতিদিনকার বায়না-
নীলার নিত্য নতুন ছবি। একদিন দিতে একটু দেরী হলে চেঁচিয়ে সারা দুনিয়া কাঁপিয়ে তোলে। উফ্ কি অসহ্য! এত ছবি তোলার এনার্জি কি কারো থাকে! এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ছবি দেয়া হয়েছে তাকে, তবুও লোকটার কোন ক্লান্তি নেই।
কোন এক বর্ষণ মুখর বিকেলে চ্যাটিং চলছে দুজনার মধ্যে
হঠাৎ সিহাবের আবদার,
– আমার সোনা বউ টাকে কতদিন যাবত দেখিনা, একটা ছবি দাও এক্ষুণি নইলে মরেই যাবো বাবু।
অথচ, মিনিট দশেক আগেও ভিডিও কলে কথা হয়েছে দুজনের।
নীলা: কোন ছবি টবি নেই, আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ করো।
সিহাব: মাফ হবে পরে, আগে ছবি দাও।
– মহা মুশকিলতো! দাঁড়াও দিচ্ছি।
এর পর নীলা তার নানীর একটা ছবি পোষ্ট করে বললো
– আমার নানী, দেখ তোমার চলবে কি না,
সাথে সাথে সিহাবের জবাব-
সেক্সি, চলবেনা মানে! খুব চলবে। আর না চললে চাকা লাগিয়ে নেব। দাও দাও নানীর নম্বর টা জলদি দাও।
– নানীর নাতনীর ই তো ঠাঁই হচ্ছেনা তোমার বুকে, সেখানে নানীর কি করে হবে?
– নাতনী তো আর নানীর মত অত সুন্দরী না তাই।
– তাই না?
-হুম।
এই ডিস্কো সাজে কে সাজাইছে বুড়ি কে?
-আমি আর ছোট বোন মহুয়া।
– তখন আমারে খবর দিতা, সাথে নিয়ে সিনেমায় যাইতাম, ঝালমুড়ি খাইতাম। তোমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে আর লুচির মত ফুলতে, হা.. হা… হা…
– মন্দ হতোনা।
-ধন্যবাদ।
অভিমানের সুরে নীলা
– আমার ছবিগুলো সব ফেরত চাই।
-দিয়ে দেব, আগে তোমার নানীর ইমো নম্বর টা দাও।
-শুধু ইমো নম্বর কেন, ব্রা পেন্টির নম্বর ও দেব দেরী করো।
– তাই নাকি! আহ্ কি শান্তির কথা। তাহলে দাও দেরী করছো কেন, আমি লাইনে আছি।
– ব্যাটা ফাজিল, স্টুপিড।
– এগুলো তোমার নানার উপাধি ছিল নাকি? ছি ছি ছি
বুড়ো এত খারাপ ছিল!
– নানা না নানীর বয়ফ্রেন্ড।
-ওয়াও! আগে বয় ফ্রেন্ডও ছিল?
– জী না, যে সিনেমায় নিয়ে যেতে চায় সে।
– সিনেমায়ও যেত নাকি? গুড ভেরী গুড।
– আমি আপনার কথা বলছি, নানীর নাগর তো আপনি।
– ও আচ্ছা, তা আগে কইবানা!
তা বুড়ির নাম টা কি?
– তাপসী রাবেয়া।
-হাউ সুইট!
– যেমন নানী তেমনি তার নাগর, ভালোই মিলবে।
-তোমার কি হিংসে হচ্ছে নাকি? অহিংসা পরম ধর্ম জানু।
– শোন নানীর ইয়ে, এতদিন ধরে তোমায় আমি যে ছবি আর কিস গুলো দিয়েছি তার সব গুলো ফেরত দিয়ে আমার জীবন থেকে বিদায় নাও। তোমার মত বজ্জাত স্বামী আমার চাইনা।
– পিকগুলো থাক, কিসগুলো সময় করে দিয়ে দেব, চিন্তা করোনা
– ইডিয়ট
-ইউ
– কি?
– নাকের ঘি।
– চেটেপুটে খাও
-আমি না, হিংসায় যার নাকে ঘি এসেছে সেই খাবে। মি এন্ড মাই সুইট হার্ট নাউ গোয়িং টু সিনেমা হল।
– তাই? ওকে থাকো তুমি তোমার ঐ বুড়িকে নিয়ে, আমি চললুম। আজ তোমার বারোটা বাজাবো।
বলেই অফ লাইনে চলে গেল নীলা।
সিহাব: আরে আরে কই যাও? যেওনা সাথী….
তুমিই তো আমার প্রেম, প্রথম ভালোবাসার বুলবুলি। আমি তোমারেই বাসিগো ভালো
নিভিয়ে জগতের আলো…

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ