শারমিন সাথী, (মোংলা) বাগেরহাট।।
আমাদের করুন কাহিনী কেউ শুনতে চায় না, বুঝতেও চায়না। কত কস্টের শ্রমের বিনিময়ে প্রতিকুল আবহাওয়ার সাথে মোকাবেলা করে প্রতিনিয়ত সাগরের উত্তল ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করে জীবন জিবিকার তাগিদে ছুটটে হয় প্রতিনিয়ত। তার পরেও পড়তে হয় দস্যুদের যাতাকলে।
আসন্ন শুটঁকি আহরণ মৌসুমে সমুদ্রগামী জেলেদের শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্নের পথে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই (৩০ অক্টোবর) জেলেরা নানা শঙ্কা মাথায় নিয়ে প্রতি বছরের মত এবারও সুন্দবনের জেলে পল্লীতে অবস্থান করে শুটঁকির জন্য মৎস্য আহরণ করবেন। সুদে কারবারিদের কাছ থেকে উচ্চহারে ঋণ গ্রহন, বনদস্যুদের হামলা, মুক্তিপন ও অপহরণের শঙ্কা সহ বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও সমিতি থেকে ঋণ গ্রহনে জটিলতাসহ নানামুখি সমস্যায় জর্জরিত জেলেদের এক সংগ্রামী জীবন শুরু হতে চলেছে মসৎ আহরনের মধ্য দিয়ে। সরজমিনে নিয়ে জানা যায়, চলতি শুটঁকি আহরণ মৌসুমে মোংলায় ৬ টি ইউনিয়ন থেকে প্রায় পাঁচশতাধিক জেলে ইতি মধ্যে তাদের ট্রলার ও জাল সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত করেছেন।
মোংলা উপজেলার জয়মনি, চিলা, মিঠাখালী, চাঁদপাই, পাকখালী, বৈদ্যমারী, মাছমারা, সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতি মধ্যে প্রায় শতাধিক জেলে তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এমন তথ্য একাধিক জেলে মালিকেরা। তারা জানান, পেশা হারানোর ভয়ে আমরা আমাদের বাপ-দাদার পেশাকে আকড়ে ধরে রেখেছেন। বিভিন্ন সমস্যায় আমরা জর্জরিত। উচ্চহারে সুদে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে ওই ঋণের হার শতভাগ পর্যন্ত গড়ায়। ব্যাংক-এনজিও’র ঋণ পেতে নানা জটিলতায় অশিতি-অর্ধ শিতি জেলেরা সুদে মহাজনদের পেছনেই ছোটেন। এরপর সুন্দরবনে বনদস্যুদের উৎপাত, মুক্তিপন ও চাঁদাবাজি, প্রতিকুল ও বৈরী আবহাওয়া, অসাধু বনদস্যুদের দৌরাত্ব এবং মহাজনদের কাছে মাছ বিক্রিতে সঠিক মূল্য না পাওয়াসহ নানামুখি জটিলতায় পড়তে হয়। এসব চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে ও একটুখানি ভালো থাকার আশায় জেলেদের প্রায় ৬ মাসের জন্য এক সংগ্রামী জীবন শুরু হয়।
সমুদ্রগামী জেলে চাঁদপাইর আনছার, রফিক শেখ, মলিক ও আজাদ শেখ জানান, আমাদের করুন কাহিনী কেউ শুনতে চায় না। তারা জানান, সুদে মহাজনদের কাছ থেকে ৩০/৪০ ভাগ হারে সুদে টাকা নিয়ে আমাদের কেউ কেউ নতুন ট্রলার ও জালসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল সংগ্রহ করে থাকেন, এছাড়া বিভিন্ন সমস্যা তো রয়েছেই। বিশেষ করে অসাধু দৌরাত্ব বনদস্যুদের চাপ না থাকলে এবং কাঙ্খিত মাছ আহরণ করতে পারলে এই পেশা ধরে রাখা সম্ভব হবে।
সমুদ্রগামী জেলে সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, আসন্ন মৎস্য আহরণ মৌসুমে যাতে নির্বিঘ্নে জেলেরা মৎস্য আহরণ করে শুকাতে পারে এবং পরিবহন করতে পারে সে জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
You must be logged in to post a comment.