আজ ২৩ আগস্ট, বাংলা ভাষার এ সময়ের জনপ্রিয় তরুণ কবি ফয়সাল হাবিব সানি’র জন্মদিন। ১৯৯৭ সালের ২৩ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলাধীন `আমলা’ নামক এক ঐতিহ্যবাহী গ্রামে শিক্ষিত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি৷
তার পিতা নান্নু আহমেদ এবং মাতা ফারজানা মাহবুব লীলা। কবি’র পরিবারে একটা ছোট ভাই রয়েছে তার। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় তার মোট পাঁচটি কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৬ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “দাবানল” এবং দুই বছরের ব্যবধানে ২০১৮ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তার “দাবানল” কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণসহ আরও তিনটি কবিতাগ্রন্থ। কবিতাগ্রন্থগুলো যথাক্রমে “নির্বাচিত ১০১ কবিতা”, “নির্বাচিত পঞ্চাশ প্রেমের কবিতা” ও “অপ্রকাশিত কথন”। তার লেখা প্রতিটা কবিতাগ্রন্থই বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
অতি স্বল্প সময়ের মধ্যেই তার প্রাঞ্জল, নিখুঁত ও সাবলীল লেখনীশৈলির কারণে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে কলকতাতেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান এ কবি। সম্প্রতি ওপার বাংলাতেও তার বিস্তৃত পাঠক পরিধি রয়েছে। এ কবি মাত্র ২১ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঁচটি কবিতাগ্রন্থ রচনার নজির স্থাপন করে দেশব্যাপী বেশ আলোচনায় আসেন। তার উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে বাংলা ভাষার অন্যতম পুরোধা কবি নির্মলেন্দু গুণের হাত থেকে প্রাপ্ত `বর্ষসেরা তরুণ কবি অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ (নব সাহিত্য প্রকাশনী, বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রদত্ত)’, `বাংলাদেশ নব সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার-২০১৯’ `কবি সুকান্ত কবিতা পুরস্কার (বাংলাদেশ কবিসংসদ কর্তৃক প্রদত্ত)’, `প্রাপ্তি সাহিত্য সম্মাননা-২০১৮’, `প্রত্যয় লিডারশীপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৯’, `এডুকেশন ওয়াচ সম্মাননা (ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ)’ প্রভৃতি৷
ফয়সাল হাবিব সানি বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) অধ্যয়নরত বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। নিজ ক্যাম্পাসেও তুমুল জনপ্রিয় তিনি৷
তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে (বশেমুরবিপ্রবিসাস) সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বেশ কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেছেন কনজুমার ইয়ুথ অব বাংলাদেশ (CYB), বশেমুরবিপ্রবি শাখার সহ-সভাপতি হিসেবেও।
এছাড়াও, তিনি নিজ নামে সমাজের অসহায় মানুষ ও পথশিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন সেবামূলক স্বেছাসেবী সংগঠন `FHS Foundation (A Foysal Habib Sany Foundation)’। বর্তমানে তিনি বশেমুরবিপ্রবি শিল্প ও সাহিত্য সংঘের সাহিত্য সম্পাদক, বশেমুরবিপ্রবি লেখক-পাঠক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কুষ্টিয়া ক্যান্সার সোসাইটি, বশেমুরবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্বরত রয়েছেন। তাছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও নানান সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। প্রতিভাবান এ কবি’র জন্মদিনে দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপেপার অন্যদৃষ্টি’র পক্ষ থেকে এ প্রতিভাবান তরুণ কবিকে আন্তরিক অভিবাদন ও তার সামনের দিনগুলোর জন্য অফুরন্ত শুভকামনা।
কেশবপুরের দেয়াড়া ত্রিমোহিনী কপোতাক্ষ নদীর কাঠের ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ায় জনগন দুর্ভোগের স্বীকার
যশোর কেশবপুর উপজেলার ত্রিমোহিনী-দেয়াড়া এলাকায় “কপোতাক্ষ” নদের উপর ঝুকিপূর্ণ কাঠ ও বাঁশের সাঁকো রয়েছে।
সাঁকোর বাঁশ নষ্ট হওয়ার কারণে গত শুক্রবার দুপুরে সাঁকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায়, সাধারণ মানুষের মরণফাঁদে পরিনত হয়েছে। তারপরও বেঁচে থাকার জন্য এলাকার লোকজন ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছে ভেঙ্গে যাওয়া বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে। এছাড়া নৌকায় করে পার হচ্ছেন অনেক মানুষ। এই সাঁকোর উপর দিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা তালা, কলারোয়া, দেয়াড়া, নাভারণ, শার্শা,বাঁকড়া, বেনাপোলের ছাত্র-ছাত্রীসহ হাজার হাজার নারী পুরুষের যাতায়াত।
স্থানীয়দের অভিযোগ ভোটের সময় “কপোতাক্ষ” নদের উপর দিয়ে সেতু করার স্বপ্ন দেখিয়ে নির্বাচনী বৈতরনী পার হন,কিন্তু ভোটে পাস করার পর সেতু তৈরি করার কথা আর মনে থাকে না।
স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরেও কপোতাক্ষ নদের উপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ কোন এমপি না নেওয়ায়, এলাকাবাসীর ক্ষোভ কমছেনা। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি নির্মিত হলে কেশবপুর, তালা, কলারোয়া, সাতক্ষীরার লোকজনের জীবনযাত্রা মান পাল্টে যাবে। সাাঁকোর পশ্চিম পাশের লোকজনদের ঝুকি নিয়ে কেশবপুর কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, ব্যাংকসহ অসংখ্য বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হয়। কেশবপুরে তাদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রও রয়েছে। বিশেষ করে, মধুকবির জন্মবার্ষিকী প্রতি বছর ২৫ শে জানুয়ারী সপ্তাহব্যাপী সরকারিভাবে উদযাপন করা হয়। ঐ সময় বাঁশের সাঁকো দিয়ে হাজার হাজার লোকজন পার হয় জাতীয় মেলা উপভোগ করার জন্য। মেলা উপভোগ করতে এসে দূর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ত্রিমোহিনী ও সাগরদাঁড়ি ভায়া তালা কলারোয়া কপোতাক্ষ নদের উপর সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। কপোতাক্ষ নদের উপর সেতু না থাকায় মানুষ তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য কাঁধে বা মাথায় নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়।
কলারোয়া ও তালা থানার কৃষক অসীম দাস, আব্দুল হালিম, আব্দুল কুদ্দুস, হায়দার আলী, শরিফুল ইসলাম, আব্দুল হান্নান, তরিকুল ইসলাম, জবান আলী, ইউনুস আলী, নজরুল ইসলাম, আব্দুল জলিল, তরিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, রমজান আলী সহ আরোও অনেকেই তাদের কষ্টের কথা জানালেন, তারা বললেন, সেতু না থাকায় যানবাহনের অভাবে কাদে ও মাথায় করে সবজি, ধান, পাট নিয়ে ত্রিমোহিনী ও কেশবপুর বাজারে যেতে বাধ্য হন। তাছাড়া বর্ষা মৗসুমে এলাকার স্কুল, কলেজ গুলোতে আসতে হয় ১-২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে পার হতে হয়।
এলাকাবাসী জানান, কপোতাক্ষের উপর একটি সেতু নির্মাণ হলে কেশবপুরে সকল প্রতিষ্ঠানসহ বাজারটিও উন্নত হত এবং প্রতিবছর মধুমেলায় জনগনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। দেয়াড়া গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সাকোর সভাপতি, বাবর আলী সরদার মন্টু জানান, কপোতাক্ষ নদীর উপর সেতুটি নির্মাণ হলে কেশবপুর, তালা, কলারোয়ার বিভিন্ন পেশার মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। এলাকাবাসি জানান, তাদের স্বার্থে প্রতিবছর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এই বাঁশের সাঁকোটি সংস্কার করা হয়। মধুকবির স্বপ্নের কপোতাক্ষ নদের উপর একটি সেতু নির্মিত হলে পাঁচটি উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টে যাবে। তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন।লেয়াকত আলী জমিদার সাংবাদিকদের জানান, আমার উদ্দ্যোগে নাসির শেখ, মৃত আমির সরদারসহ ২০-২৫ জন মিলে ২০০১ সালে ৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২৭৫ ফুট কপোতাক্ষ নদের উপর একটি সাঁকো নির্মাণ করা হয়।
ঐ সময় সাঁকো উদ্বোধন করেন এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তিনি উদ্বোধনের সময় সাকোর জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেন।ব্রীজ হলে দেয়াড়া,ত্রিমোহিনী ,সাগরদাঁড়ি চিংড়া বাজারের সকল প্রতিষ্ঠানসহ বাজার ৪টি উন্নত হত এবং প্রতিবছর মধুমেলায় জনগণের দুর্ভোগ কমতো।
এখানে একটি ব্রীজ হোক আমি সেটা চাই। ব্রীজটি তৈরি করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে অনেক দপ্তরে আবেদন করে আসছি,এখন পর্যন্ত কোন নেক নজররে দেখা মেলেনি।
You must be logged in to post a comment.