অভিনেত্রী ( ২য় পর্ব)
খন্দকার ফিরোজ আহম্মেদ
আপনার বডিতে কি কারেন্ট আছে?
আপনার কি তাই মনে হয়?
সেটাই তো মনে হচ্ছে, না হলে আপনাকে ছোঁয়ার সাথে সাথে আমার এমন হচ্ছে কেন?
কেমন হচ্ছে? অনুষ্কা জিজ্ঞাসা করলো।
বুকের মধ্যে ধড়ফড় করছে।
এই সমস্যা তো আমারো হচ্ছে ডাক্তার সাহেব। গেলাম আপনার কাছে একটা রোগ নিয়ে, আপনি আর একটা বাঁধিয়ে দিলেন। এখন আমার কী হবে?
আমি তো সেটাই ভাবছি।
আপনি ডাক্তার, আমার চেয়ে আপনি ভালো বুঝবেন।
মনে হয় ফেল মেরে যাবো আপনার কাছে। রোগেীর রোগ যে ডাক্তারের মধ্যে সেঁধিয়ে যায়, সেটা জানতাম না। এমন হওয়ার কারণটা কি বলুন তো!
হি হি হি. . . ডাক্তারে রোগীর কাছে রোগের কথা জিজ্ঞাসা করে, হি হি হি. . . এটা কোন কথা হলো!
আপনার হাসিটা এক্সেলেন্ট সুন্দর, ঠিক আপনার মতো।
সুন্দরীদের হাসি সুন্দরই হয়, জানেন না বুঝি!
আপনি খুব সুন্দর করে কথা বলতে পারেন অনুষ্কা। আপনার সাথে কতায় পারবো না। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখুন, কতো সুন্দর একটা চাঁদ উঠেছে, ঠিক আপনার মতো আলো ছড়াচ্ছে।
ডাক্তার মানুষ আপনি, খুব কাব্যিক কথা বলতে পারেন তো!
ফোনে বলছি বলে কথা বলতে পারছি, সুন্দরীদের সাথে কথা বলতে দারুণ ভয় আমার।
আমার সাথে কথা বলে ভয় কেটেছে?
কিছুটা।
রোগটা আপনার বুকে ভালোই জমেছে, বুঝতে পারছি। আচ্ছা, আপনাকে একটু ডায়াগনোসিস করি- দেখি রোগটা ধরা যায় কিনা।
প্রশ্ন করুন।
আপনার বয়স?
সাতাশ থেকে দুই বছর বেশি।
আচ্ছা, বাবা মা আছেন?
দুজনেই বর্তমান আছেন।
বিবাহ তো করেননি, বিবাহের কোন সম্বন্ধ কি এসেছে?
না।
কোন মেয়ের সাথে ইয়ে টিয়ে কি হইছে ইতোপূর্বে?
আজ বিকাল থেকে সেরকম একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
হি হি হি. . . আপনার রোগটা কিছুটা আন্দাজ করতে পারছি।
কী আন্দাজ করলেন?
চেম্বারে গিয়ে বলবো।
আপনি তো ডাক্তার না।
কিন্তু আমি ছাড়া আপনার রোগের চিকিৎসা অন্য কেউ করাতে পারবে না। প্রমিজ করছি, আপনার প্যালপিটিশন ভালো করে দেবো। কিন্তু আমার অসুখের কী হবে?
নো টেনশন। আপনাকে আর একবার ছুঁয়ে দিলে ভালো হয়ে যাবেন।
ঠিক বলছেন তো!
ঠিক বলছি। হয় ভালো হয়ে যাবেন না হয় মরবেন।
শেষটাই হবে মনে হয়।
শেষটাই হবে মানে?
মানে বুঝবেন না। আচ্ছা, এখন রাখছি তাহলে। আরামদায়ক ঘুম হোক আপনার।
এই একটা ভুল কথা বললেন, ঘুমের সর্বনাশ তো করে দিলেন আপনি। আর কি ঘুম হবে!
আমি আবার কী করলাম আপনার? হি হি হি. . .
কী যে করেছেন, সেটা বুঝবেন না। আচ্ছা, শুভ রাত্রি। বাই।
পরদিন চেম্বারে গিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ডাক্তার কমল ব্যানার্জী, কিন্তু যার জন্য অপেক্ষা করছে, তার দেখা নেই। আচ্ছা এই যে একটা রোগীর জন্য অপেক্ষা, এটাকে কী বলে? সারা বিকেল, সারা সন্ধ্যে অপেক্ষা করলো, কিন্তু তার দেখা নেই। বাইরে রোগীর সিরিয়াল অনেক লম্বা। লম্বা সিরিয়াল থাকলে ডাক্তারদের মন ভালো হয়ে যায়, কিন্তু কমল সাহেব খুব কষ্টে ভুগছে। শেষমেষ ফোন দিলো অনুষ্কার নম্বরে। অনুষ্কা ফেন ধরেই বললো, সরি ডাক্তার বাবু, আমি খুব বিজি এখন, কাল আপনার সাথে দেখা হবে। বাসায় অনেক মেহমান। আপনার কাছে যাওয়ার অনেক পথ খুঁজেছি, কিন্তু সুযোগ করতে পারিনি। কাল দেখা হবে। বাই।
তিনদিন পর অনুষ্কা আসলো ডাক্তারের চেম্বারে। অনুষ্কার আগমনে ডাক্তারের মনটা অয়ানক সুন্দর আজ। রোগীর পরিমানও আজ অনেকটা কম। প্রিয় কারো সাথে দেখা করার জন্য এটা বেশ ভালো সুযোগ।
অনুষ্কা বললো, হাতটা বাড়িয়ে দিন তো, আপনার প্যালপিটিশনের কারণটা ধরতে পারি কিনা দেখি, হি হি হি . . .
পাকা ডাক্তারের মতো গম্ভীর মুখে পালস দেখতে দেখতে মুখটিপে হাসলো অনুষ্কা।
হাসছেন যে খুব!
আপনার রোগটা ধরতে পেরেছি। আপনার নাড়ি বলছে- এটা প্রেম করার বয়স।
কার সাথে?
যে আপনার পালস দেখছে . . . চলবে-
You must be logged in to post a comment.