বায়জিদ হোসেন, বাগেরহাট প্রতিনিধি।।।
অবশেষে বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের দির্ঘ দিনের দাবি পুরন হতে যাচ্ছে খুলনা থেকে মোংলায় কাস্টম হাউস আসান মধ্যো দিয়ে।
এদিকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এরই মধ্যে শুরু হয়েছে খুলনা থেকে মোংলায় কাস্টম হাউস স্থানান্তরের এ প্রক্রিয়া। চলতি মাসেই রফতানি ও আমদানি শুল্ক্কায়নসহ যাবতীয় কার্যক্রম বন্দর থেকেই সম্পন্ন করতে পারবেন ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা।
তবে কাস্টমস কমিশনারসহ যুগ্ম কমিশনাররা জুন থেকে মোংলায় অফিস করবেন। এতে বিড়ম্বনা দূরসহ সময় সাশ্রয় হবে ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমেও গতি বৃদ্ধিসহ কর্মচাঞ্চাল্য কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন নিতিনির্ধারকরা। মোংলা বন্দর কর্মচারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক (বন্দরের সিবিএ) খোরশেদ আলম পল্টু সাংবাদিক দের বলেন, মোংলা বন্দর থেকে প্রায় ৫৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ কাস্টম হাউসে গিয়ে শুল্ক্কায়নের কার্যক্রম করতে ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছিলেন দির্ঘ দিন ধরে, বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা। কাস্টম হাউস স্থানান্তরিত হলে আমদানি-রফতানি বৃদ্ধিসহ বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
মোংলা বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী মেসার্স সুজুতি এন্টারপ্রাইজের মালিক মহিদুল ইসলাম ও মেসার্স রাহাদ ট্রেড লিমিটেডের মো. এমাদুল হক (সিঅ্যান্ডএফ) বলেন, মোংলা বন্দর থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও যথাস্থানে কাস্টম হাউসের মূল অফিস না থাকায় ব্যবসায়ীদের পড়তে হয় ভয়াবহ ভোগান্তিতে। এ অবস্থায় আমদানি-রফতানির গতি বৃদ্ধি এবং বন্দর ব্যবহারের যথার্থ সুবিধার স্বার্থে মোংলা কাস্টম হাউস মোংলায় রাখার দাবি করে আসছিলেন তারা। মোংলা কাস্টম হাউসের কমিশনার সুরেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, এ বন্দর প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমদানি ও রফতানিকৃত পণ্যের কাস্টমস সংশ্নিষ্ট যাবতীয় কার্যক্রম খুলনা ও মোংলা এ দুই স্থানে সম্পন্ন হয়ে আসছে। এতে ব্যবসায়ীদের যেমন বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তেমনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তদারকি কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। এ অবস্থায় বন্দর ব্যবহারকারীদের দাবির মুখে ২০১৭ সালের ৫ আগস্ট মোংলা বন্দর উপদেষ্টা কমিটির ১৪তম সভায় খুলনার খালিশপুর থেকে কাস্টম হাউসের সব কার্যক্রম মোংলায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিছুটা বিলম্বে হলেও কাস্টম হাউসের যাবতীয় কার্যক্রম স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এরই মধ্যে বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের কিছু কক্ষ কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বন্দরের এ ভবনে আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে নতুন ৪টি ইউনিটের মাধ্যমে কাস্টমসের যাবতীয় কার্যক্রম মোংলায় চালু হবে। পর্যায়ক্রমে নিজস্ব ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ করবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
এদিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর একেএম ফারুক হাসান সাংবাদিক দের বলেন, কাস্টম হাউস স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা উপকৃত হবেন। বন্দরের সার্বিক গতি বৃদ্ধিসহ কর্মচাঞ্চল্যও বাড়বে। এতে আধুনিকায়নে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করি।
You must be logged in to post a comment.