অনেক অরিত্রি খবরের শিরোনাম না হওয়ায় সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছে!

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
মঙ্গলবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১০:৩১ অপরাহ্ন

আব্দুল মান্নান।।

শুধু অরিত্রি কেন ? অনেক অরিত্রি খবরের শিরোনাম না হওয়ায় সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছে! অনেক শিক্ষকের জীবনও তছনছ করে ফেলেছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা! এদের কাছে মানবতা ও মানবিকতা বলতে কোন শব্দ নেই! আইন-কানুনের ধার ধারেনা তারা। তাদের ইচ্ছায় হল নিয়ম-নীতি! কেবল অন্যকে শাসন করাই এদের আইন! শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এরা নিজেদের বাপের জমিদারি বানিয়ে ফেলেছে!

এদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে প্রতিবাদতো দূরের কথা। কোন শিক্ষক এ নিয়ে কোনদিন ভুলে মুখ খুললে তাদের “তল্পিবাহক পরিচালনা কমিটি”র সভাপতি/সদস্যের দিয়ে হেনস্থা করায়। মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালায়।এমনকি অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতিও করে। কারণ এখানে নিজের পছন্দমত জায়গায় বদলি হওয়ার সুযোগ নাই। ইহাই হল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ ভয়ানক অস্ত্র!

অনেক শিক্ষক আত্মসম্মানের ভয়ে, কোন রকম জীবন ধারণের মানসে এগুলো হজম করে ফেলে।আর যারা হজম করতে পারে না তাদের অবস্থা অরিত্রির চেয়ে ভয়ঙ্কর! অরিত্রি হয়ত আত্মসংহারের মাধ্যমে লাঞ্ছনা প্রশমিত করে ফেলেছে! কিন্তু এদের অন্যায়ের বিরুদ্ধচারণকারি শিক্ষকদের এরা জিন্দা লাশ বানিয়ে ছাড়ে চলে-বলে কৌশলে! চাকরি ও জীবন দুর্বিসহ করে ফেলে!

এরা নিজেদের “তল্পিবাহক পরিচালনা কমিটি” কে ব্যবহার করে শিক্ষাকে বিশাল বাণিজ্যে পরিণত করেছে। তারপর লুটপাট চালায় শিক্ষার নামে। দেশে আইনের দুর্বলতা ও অদক্ষতার কারণে সেই লুটপাটের হিসেব দিতে হয় না বলে তারা পার পেয়ে যায়।

এ ধরণের শিক্ষা বাণিজ্যের লাগাম টেনে ধরার জন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধানদের ক্ষমতা হ্রাস,তল্পিবাহক বর্তমান কমিটি প্রথা বাতিল ও আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। এগুলো সম্ভব না হলে আমাদের আরও হাজারো অরিত্রির প্রাণসংহারের স্থিরচিত্র দেখার অপেক্ষায় থাকতে হবে।

এ সমস্ত অনিয়ম ও অন্যায়-অত্যাচার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তিরোহিত করার একমাত্র গ্রহণযোগ্য পন্থা হচ্ছে সমগ্র শিক্ষা এক সাথে জাতীয়করণ করা। এ সমস্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজও মাদ্রাসায় সরকারি নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে ভর্তি-মাসিক ফি ও ফরম ফিল আপের সময় প্রচুর টাকা আদায় করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে গেছেন এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা। আর শিক্ষাকে মধ্য- নিম্নবিত্ত শ্রেণীর নাগালের বাইরে নিয়ে যাওয়ার অপকৌশল গ্রহণ করেছে!

সরকারি স্কুল বা কলেজে ২০/৩০ মাসিক ফি হলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০০০/২০০০/৩০০০ টাকা কেন? এই টাকা কোথায় যায়? এর যথাযথ হিসেব দিতে হয় না কেন? আজ অরিত্রিদের বাবাদের সারাদেশে এগিয়ে আসার সময় শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধে প্রতিবাদ করার জন্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও অনিয়মের কালো হাত ভেঙে দেওয়ার জন্য। সরকার বাহাদুরের দৃষ্টিগোচর করার জন্য। স্বল্প টাকায় সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য। যেহেতু শিক্ষা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

আর সেই সাংবিধানিক অধিকার অনায়াসে নিশ্চিত করা সম্ভব শিক্ষার জাতীয়করণ ব্যবস্থার পদক্ষেপের মাধ্যমে। অরিত্রিদের বাবাদের বলার সময় এসেছে, হাজার হাজার টাকা স্কুল ফি দিয়ে শিক্ষা অর্জনের জন্য কি ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করা হয়েছে ?

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ