কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের পুমদি গ্রামে “বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবু হেনা শামসুদ্দোহা স্মৃতি গ্রন্থ কুঠির”এর আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবু হেনা শামসুদ্দোহার ৫০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ আলোচনা সভা,তুলাপজান মেধাবৃত্তি ও মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবু হেনা শামসুদ্দোহা স্মৃতি গ্রন্থ কুঠির এর সাধারণ সম্পাদক আবু রায়হানের সঞ্চালনায় ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবু হেনা শামসুদ্দোহার একমাত্র কন্যা মিসেস সুরাইয়া আক্তার হেনার সভাপতিত্বে অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ ইসরাইল হোসেন সাবেক উপজেলা স্বাস্হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার, কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল। অনুষ্ঠানের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন প্যাসিফিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডক্টর প্রকৌশলী একেএম আবু রায়হান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৌহিদা জেসমিন বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মাউশি,ঢাকা।আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রহিম,বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার হারুন অর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন, অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবু হেনা শামসুদ্দোহা স্মৃতি গ্রন্থ কুঠির এর সভাপতি এমদাদুল ইসলাম, ফজলুর রহমান মড়ল, এডভোকেট মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ। উক্ত অনুষ্ঠানে পুমদি ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় এবং পুমদি ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয়,গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও মাধখলা ফাজিল মাদ্রাসার ৩৮ জন কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে” তুলাপজান মোহাম্মদ আলী মেধা বৃত্তি” প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে দুপুরের বিরতির পর শহীদ শামসুদ্দোহা একাদশ বনাম চেয়ারম্যান একাদশের মাঝে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য যে,বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবু হেনা শামসুদ্দোহা কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার ৬নং পুমদি ইউনিয়নের পুমদি গ্রামে ১৯২৯ সনে বিখ্যাত মিনাই মন্ডল বংশে জন্মগ্রহণ করেন। বংশ পরিচয়ে মিনাই মন্ডলের ছেলে আজয় আকন্দ,তার ছেলে মোঃ আমছর এবং আমছরের ছেলে মোহাম্মদ আলীর সুযোগ্য সন্তান শহীদ শামসুদ্দোহা।তার মায়ের নাম তোরাপজান।তার দুই ভাই, দুই বোন।ছোট বেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন।তিনি স্থানীয় গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।শুধু শিক্ষকতাই নয় তিনি ম্যাপ ,ডিজাইন, গান লিখায় পারদর্শী ছিলেন।তার লিখা গান,, বীর মোজাহিদ জিন্দাবাদ, শেখ মুজিবুর কান্ডারী, আসমানে তোর ঝান্ডা উড়ে,দেখরে ভাইয়া ঝড় তুফানে সহ আরো অনেক।এ ছাড়াও তিনি পান্ডুলিপি, রক্তমাখা জামা,রায়াটি প্রকান্ডলিপি লিখেছেন। তিনি যুদ্ধে যাওয়ার এক বছর আগে উত্তর পুমদি গ্রামের মাজিম উদ্দিন পোস্ট মাষ্টারের মেয়ে আয়শা আক্তারকে বিয়ে করেন। তার একমাত্র সন্তান সুরাইয়া আক্তার হেনা। ১৯৭১সালে ৪ঠা ডিসেম্বর নান্দাইল থানার দেওয়ানগঞ্জ বাজারে সন্মুখ যুদ্ধে তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন।