কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি।।
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলা, মারধর ও ছুরিকাঘাতে হোসেনপুর সরকারী পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মোঃ ফররুখ আহম্মেদ শামীম (৩৩) ও তার ছোটভাই ঢাকা উত্তরা কলেজের শিক্ষার্থী মোঃ ইকরাত হাসান শাহীন (২৪) মুমূর্ষ অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউ’তে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে হোসেনপুর উপজেলার ৬ নং ওয়ার্ডের হুগলাকান্দি গ্রামে সন্ত্রাসী হামলার এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, হোসেনপুর উপজেলার ৬ নং ওয়ার্ডের হুগলাকান্দি গ্রামের মৃত আঃ রাজ্জাকের পরিবারের সাথে তার বড় ভাই মৃত আঃ হালিম মেম্বারের পরিবারের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে জমিজমা ও গাছপালা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
এর সূত্রধরে, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে মৃত আঃ রাজ্জাকের পুত্র মোঃ ফররুখ আহম্মেদ শামীম তাদের নিজেদের মাছের চাষ করা পুকুরের উপর থেকে গাছের ডাল প্রতিপক্ষ মৃত আঃ হালিম মেম্বারের ছেলে মোঃ আবু সাঈদকে কেটে ফেলতে বলায় এ নিয়ে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ মৃত আঃ হালিম মেম্বারের বড় ছেলে মোঃ আবু সাঈদ (৪৮) এর নির্দেশে তার ছোট ভাই মোঃ আবু মুসা (৩৯), মোঃ আবু ইউসুব (৪১), মোঃ আবুল মুনসুর (৪৪) এবং আবু সাঈদের বড় ছেলে মোঃ আব্দুল গাফফার (২৮) এবং আবু মুসার স্ত্রী মোসাঃ তাসলিমা আক্তার (৩৬) মিলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে।
প্রতিপক্ষ মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে পেশায় সিলেটে শিক্ষকতায় জড়িত হলেও বর্তমানে ভয়াবহ করোনায় নিজ বাড়িতে থাকা মোঃ রেজাউল করিম মোজ্জাম্মেল (৩৬)কে মারধর করে পিটিয়ে, ফররুখ আহম্মেদ শামীম (৩৩)কে ছুরিকাঘাত করে এবং মোঃ ইকরাত হাসান শাহীন (২৪) কে মাথায় লাঠি দিয়ে একাধিক আঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে কিশোরগঞ্জ জেলা সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে অতঃপর অবস্থার অবনতি হলে রাতে চিকিৎসক তাদের ঢামেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে প্রভাষক মোঃ ফররুখ আহম্মেদ শামীম ঢামেক হাসপাতালে এবং শিক্ষার্থী মোঃ ইকরাত হাসান শাহীন (২৪) মুমূর্ষ অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউ’তে ভর্তি আছে।
রেজাউল করিম মোজাম্মেল বলেন, ‘সন্ত্রাসী মোঃ আবু মুছার নামে দু’টি হত্যা মামলা রয়েছে। সে (মোঃ আবু মুছা) বলে প্রয়োজনে আরো মার্ডার কররো।আমরা সবাই বাইরে চাকুরী করি। এদের নির্যাতন অত্যাচার থেকে বাঁচতে চাই।’
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে,এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।’
You must be logged in to post a comment.