অনলাইন ডেস্ক।।
আবছা রক্তের দাগ তখনও থেকে গিয়েছে নিউজ় রুমে। তবু ওঁরা নাছোড়াবান্দা। ঘণ্টা তিনেকও হয়নি বন্দুকবাজের হামলায় প্রাণ গিয়েছে ৫ সহকর্মীর। মোবাইল আর ল্যাপটপ নিয়ে তবু বাকিরা টেবিল-চেয়ার পেতে বসে পড়লেন পার্কিং লটে।
‘‘শুক্রবারের কাগজ বেরোবেই।’’ কাল ক্যাপিটাল গেজ়েটের দফতরে বসে এটাই টুইট করেন চিত্রসাংবাদিক জোসুয়া ম্যাকেরো। আর আজ সকাল হতে না-হতেই অ্যানাপলিসের রাস্তায় চোখে পড়ল নীল-সাদা মাস্টহেডে লেখা ‘দ্য ক্যাপিটাল’। শিরোনাম, ‘ফাইভ শট ডেড অ্যাট দ্য ক্যাপিটাল’। সঙ্গে ওই ৫ জনের ছবিও।

বন্দুকবাজের গুলিতেও থেমে রইল না সংবাদপত্র। মোবাইল-ল্যাপটপ নিয়ে পার্কিং লটেই শুরু কাজ।
ক্যাপিটেল গেজ়েট আদতে ‘দ্য বাল্টিমোর সান’ মিডিয়া গ্রুপের স্থানীয় দৈনিক। শুক্রবারের সংস্করণ যাতে আটকে না-যায়, সে জন্য কাঁধ মিলিয়েছিলেন বাল্টিমোর সান-এর বহু সাংবাদিক-কর্মী। আজ তাঁদেরও ধন্যবাদ জানান ক্যাপিটালের কর্মীরা।
পুলিশ বলছে, প্রতিশোধ নিতেই হামলা চালিয়েছিল শ্বেতাঙ্গ বন্দুকবাজ জ্যারড ওয়ারেন রামোস। নিজেদের মতো করে তদন্ত শুরু করেছে ক্যাপিটালও। তবে পত্রিকার আসল উদ্দেশ্য যে সমাজের হয়ে কথা বলা, সেটাও আজ ফের মনে করে দিয়েছেন ক্যাপিটালের সম্পাদক। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের এখন যা মানসিক পরিস্থিতি, তাতে এই হামলা নিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়া সম্ভব নয়।’’
তা হলে কী থাকবে আগামী কয়েক দিনের কাগজে? সম্পাদকের স্পষ্ট বার্তা, ‘‘ব্রেকিং নিউজ় আমরা দিয়েই যাব। করবৃদ্ধি, স্কুল-কলেজে প্রশাসনিক সমস্যা থেকে বিনোদন— সব থাকবে কাগজে। এটাই তো আমাদের কাজ।’’ তবে আজ, শুধু শুক্রবারের জন্যই ফাঁকা রাখা হল সম্পাদকীয় পাতা। নিহতদের স্মৃতিতে ‘বাকরুদ্ধ’ পত্রিকা। কাল থেকে আবার শব্দে আর প্রতিবাদে ভরবে ক্যাপিটালের ‘ওপিনয়ন’ পাতা।
-সংবাদ সংস্থা।
You must be logged in to post a comment.