সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও হয়রানি মূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি

অন্যদৃষ্টি অনলাইন
বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৮:৩৪ পূর্বাহ্ন

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি ।।

বাংলাদেশের যেসকল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে ষড়যন্ত্র ও হয়রানিমূলক ভাবে মামলা করা হয়েছে, সাংবাদিকরা এ মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন, সেই সাথে এইসব মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানান, সাংবাদিক নেতারা। সাংবাদিক শব্দ সহজ হলেও এই পেশায় কাজ করা সহজ নয়, পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মানজনক পেশা হচ্ছে সাংবাদিকতা, তবে এটা সবার জন্য না। মানুষ শুধু চাওয়া পাওয়া নিয়ে হিসাব করেন, সকল শ্রেণি পেশার মানুষেরই রয়েছে না পাওয়ার বেদনা। জনসাধারণের সচেতনতার অভাবে বাড়ছে বিভিন্ন জটিলতা। মানুষের অভিযোগের শেষ নেই, সকল পেশার মানুষেরই সমস্যা রয়েছে।

সচেতন মহলের দাবি-জনসচেতনতার অভাবেই অপরাধমুলক কর্মকান্ড বাড়ছে। সাংবাদিকরা কোনো চোর ডাকাত নয়, কেন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়? কেন থানায় ডেকে নিয়ে গ্রেফতার দিখিয়ে নির্যাতন করা হয়?।

১৯৭১ সালে অনেক মা বোন ইজ্জত ও লাখ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে লাল সবুজের পতাকা ও স্বাধীনতা পেয়েছি আমরা, কিন্তু বেঈমান ও কিছু দুষ্টুলোকের কারণে মানবতার কল্যাণে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অনেকেরই অভিমত। “ সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ নয়, উল্টা বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগে অন্য সংবাদ কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানিমূলক মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলে অনেকেই জানান। অনেকেই প্রশ্ন করেন যে, কাকের মাংস কি কাকে খায়? সাংবাদিকরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করছেন, এটা বড় লজ্জাজনক”।

দেশে কয়েক হাজার সংবাদ মাধ্যমের মধ্যে টেলিভিশন, জাতীয় পত্রিকা, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও অনলাইন পোর্টালসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম রয়েছে, সেখানে লক্ষাধিক সংবাদ কর্মী এবং স্টাফ কাজ করছেন। আইনজীবী, পুলিশ, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিসহ সকল পেশায় কিছু বেঈমান ও দুষ্টু প্রকৃতির লোক আছে, তারা মানুষের সাথে প্রতারণা করার কারণে প্রকৃত ভালো মানুষের বদনাম হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই প্রকৃতির কিছু অপরাধীকে আটক করলেও তারা আইনের ফাঁক দিয়ে বেঁচে যাচ্ছে। যারা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করছেন, একটু চিন্তা করে দেখেন যে, তারাই বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। (সর্ব স্থানে বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতারণা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড)।

সারা দেশের তুলনায় ঢাকার প্রধান শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় জনসংখ্যা অনেক বেশি-প্রায় কোটি মানুষের বসবাস ও যাওয়া আসা। ৭৫% জনসাধারণ এখানে বহিরাগত, সরকারি বেসরকারি অফিস রয়েছে অনেক। উক্ত এলাকায় কয়েক হাজার পোশাক কারখানা রয়েছে। এ এলাকায় তুলনামূলক সাংবাদিকের সংখ্যা অনেক কম। সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকেই টিভি চ্যানেলে কর্মরত,অনেকেই জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইনে কর্মরত আছেন। সাংবাদিক সংগঠন ও ক্লাবের সদস্য হতে আগ্রহী থাকলেও বিভিন্ন কারণে অনেকেই সদস্য হতে পারেন না অনেকেই, আবার নতুর করে আলাদা ভাবে সাংবাদিকদের নিয়ে সংগঠন করেছেন, কিন্তু তাদের মধ্যে বেশিরভাগ সাংবাদিকের ঐক্যবদ্ধ না থাকার কারণে পিছিয়ে পড়েছেন তারা। উক্ত সাভার ও আশুলিয়ার সাংবাদিকদের মধ্যে আশুলিয়া রিপোর্টার্স ক্লাব ২টি ভাগ হয়ে আলাদা ক্লাব করা হয়েছে। ১, স্থানীয় হান্নান চৌধুরী, বনাম- ২, শাহাআলম গ্রুপ।

সেখানে দুইজনই সভাপতি দাবি করে আসছেন। একজন অন্যজনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একাধিক জিডি ও আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। তাদের এই বিবাদ ও শক্রতা সৃষ্টির কারণ হচ্ছে সভাপতি পদ নিয়ে। এ বিষয়ে মিমাংসার জন্য আশুলিয়া থানায় একাধিকবার বিচারের জন্য দিন দিয়ে বসা হলেও কেউ কারো ছাড় দিতে রাজি নয় বলে তারা জানান। এ ব্যাপারে রিপোর্টাস ক্লাবের সভাপতি দাবি করে হান্নান চৌধুরী বলেন, আমি বৈধ সভাপতি। অন্যজন শাহাআলম সভাপতি দাবি করে বলেন, আমিই সভাপতি! এ বিষয়ে সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম হেলাল শেখ ও আশুলিয়া প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক খোকা চৌধুরীসহ অনেকেই ওই দুই সভাপতিকে মিলমিশ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু দুই সভাপতিই কাউকেই মানছেন না, তারা তাদেরকে সভাপতি পদবি ও চেয়ার ছাড়তে রাজি নয়, এখন আবার অন্য সাংবাদিক আলমগীর হোসেন নিরবকে দিয়ে অন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।

অন্যদিকে এক বছর হলো সাভার উপজেলা কমিটি হয়েছে, ন্যাশনাল জার্নালিস্ট ইউনিটি’র এরকম একাধিক সংগঠন হলেও সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। বিভিন্ন মিডিয়ার প্রতিনিধিগণ অবহেলিত সাংবাদিক, এক একটি সংগঠনে প্রায় ২০-৩০ জন সদস্য রয়েছেন। যে কোনো এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করার কাজে গেলে সংবাদ কর্মীদেরকে অনেকেই প্রশ্ন করেন যে, আপনারা কোন সংগঠনের সদস্য? অনেক সময় সাংবাদিকদের সাথে সাধারণ পাবলিক ও কিছু রানৈতিক নেতার হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে থাকে। অনেকেই মন্তব্য করেন যে, সাভার আশুলিয়ার সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ না হলে আগামীতে বিভিন্ন সমস্যা ও জটিলতা বাড়তে পারে। পুলিশ এরই মধ্যে কয়েকজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন। বিশেষ করে সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা, সাংবাদিক শব্দ সহজ হলেও এই পেশায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে, এই পেশায় দেশ ও জাতির সম্পর্কে সকল বিষয়ে জানতে সাংবাদিকতার আদর্শলিপি পড়াটা জরুরি। সরকারি নিয়মনীতি মানতে হয়।

“কলম সৈনিক অর্থাৎ সাংবাদিক দেশ ও জাতির বিবেক। ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও সাংবাদিকরা দেশ ও জাতির কল্যাণে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। একটি ভুল হলে সাংবাদিকদের উপর হামলা, মামলা করা হয়, এমনকি হত্যার শিকার হন অনেকেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয় সাংবাদিকদের সহযোগিতা করবেন, কিন্তু তার উল্টো দেখা যায়, পুলিশ কি কখনো সাংবাদিকদের বন্ধু হতে পেরেছেন ? কেউ কি খবর নিয়েছেন যে, সাংবাদিকরা কেমন আছেন? আজকাল বেশি কষ্টে আছেন সংবাদ কর্মীরা।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৮ কোটি জনগণ, সেই তুলনায় সাভার আশুলিয়ায় সবচেয়ে বেশি মানুষের বসবাস। তুলনামূলক আইনশৃঙ্খা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও সাংবাদিকের সংখ্যায় অনেক কম এই এলাকায়। ধন্যবাদ জানাই তাদেরকে, যারা মানুষের কল্যাণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। “পুলিশ, সাংবাদিক, আইনজীবি ও জনপ্রতিধিগণ, এই চারটি শব্দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ “কলম সৈনিক অর্থাৎ সাংবাদিক”। অভিমত ঃ সাংবাদিক হতে চাইলে তা হওয়া অনেক কঠিন। নিউজ না করেই কার্ড গলায় ঝুঁলিয়ে অনেকেই পরিচয় দেন যে, আমি সাংবাদিক! ভুল ধরার মানুষ অনেক আছেন, কিন্তু কাজে তারা ঠনঠনাঠন। সাংবাদিকতা করতে সাংবাদিকতার আদর্শলিপিসহ বেশি বেশি বই পড়তে হয়, তারপর সংবাদ সংগ্রহ করে সেই সংবাদ পরিবেশন করা অনেক কঠিন কাজ।

মুখে বড় বড় কথা, কাজের বেলায় নেই এককোনাও। যেমনঃ সংবাদের উৎসহের মত সংবাদের উপাদান কি? মানুষ এবং প্রকৃতি, মানুষের আশা-আকাঙ্খা, আনন্দ, বেদনা, সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনাই সংবাদের মূল প্রতিপাদ্য। এর সাথে সম্পৃক্ত সকল বিষয়ই সংবাদের উপাদান। যেমনঃ কুকুর যদি মানুষকে কামড়ায় তা কোনো সংবাদ নয়, মানুষ যদি কুকুরের মতো কিছু করে বা অপ্রত্যাশিত কিছু করে তা সংবাদ হয়। নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটনা, অন্যায় অবিচার, যা মানুষের অধিকারকে হরণ করে, এরকম অনেক বিষয়কে সংবাদ বলা যেতে পারে। ভুলের ক্ষমা হয় কিন্তু অপরাধীর ক্ষমা নয়।

মোঃ সাইফুল ইসলাম জয় (হেলাল শেখ) একজন লেখক, তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা’র ঢাকা জেলা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক ও ন্যাশনাল জার্নালিস্ট ইউনিটি (সাভার উপজেলা) সাধারণ সম্পাদক এবং প্রকাশনার ২৮ বছর জাতীয় দৈনিক চৌকস পত্রিকা’র বিশেষ প্রতিনিধিঃ বর্তমানে পৃথিবী প্রতিদিন পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, সেই সাথে একাধিক অনলাইন পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক জেনেও তার নাম ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার ভুল দিয়ে একটি সাজানো ষড়যন্ত্র ও হয়রানিমূলক মামলা করেছে তার বিরুদ্ধে, তারই সহযোদ্ধা বন্ধু আলমগীর হোসেন নিরব সাংবাদিক।

 সবকিছু অনুসন্ধান করে দেখা যায় যে, গত নভেম্বর সন্ধায় কে বা কারা নিরবের উপর হামলা করেছে, তার এই ঘটনার সাথে কোনো সাংবাদিক জড়িত নয়, তবুও কয়েকজন সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজনকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। উক্ত ঘটনার মতো অনেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এরকম হয়রানিমূলক মামলার তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়েছেন, সেই সাথে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি সাংবাদিক নেতাদের। উক্ত প্রতিবেদনটি ধারাবাহিকভাবে চলবে

 

Facebook Comments
সংবাদটি শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

আরো সংবাদ